কুমিল্লায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি, চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে অর্ধ-বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। (২০ মে) বুধবার কুমিল্লা সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষ ও নজরুল মিলনায়তনে একই দিনে দু’টি স্থানে সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার এর উপপরিচালক মোঃ মেহেদী মাহমুদ আকন্দ। সভায় জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর/প্রশাসনিক কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, গ্রাম আদালত প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সভায় বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ প্রকল্পের জেলা ব্যবস্থাপক মো: ইকবাল হোসেন এবং নির্মল রায় গ্রাম আদালত কার্যক্রমের বিভিন্ন বিশ্লেষণমূলক তথ্য ও উপাত্ত উপস্থাপন করেন। উপস্থাপনায় উপজেলা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, মামলার নিষ্পত্তির হার, জনসচেতনতা কার্যক্রম এবং সেবার মানোন্নয়নে গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরা হয়। উপজেলা ভিত্তিক প্রতি মাসে প্রতি ইউনিয়নে গড় মামলা গ্রহণের সংখ্যায় জুলাই ২০২৫- এপ্রিল ২০২৬ সময়ে বেশ কিছু উপজেলায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে, যা ফেব্রুয়ারি ২০২৪-এপ্রিল ২০২৬ (ক্রমপুঞ্জিভূত) সময়ের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে, যেখানে প্রতি ইউনিয়নে গড়ে ৫.২৬টি মামলা গ্রহণ হয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, যেখানে গড় মামলা গ্রহণের সংখ্যা ৪.৬৮টি।
এছাড়া আদর্শ সদর ৪.৬৭ ও লাকসাম ৪.৩৪ উপজেলাতেও তুলনামূলক বেশি মামলা গ্রহণ হয়েছে বলে প্রতিয়মান হয়েছে। অন্যদিকে মনোহরগঞ্জ উপজেলা সর্বনিম্ন, যেখানে গড় মামলা গ্রহণের সংখ্যা মাত্র ১.৮০টি। ইউনিয়নভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই ২০২৫ হতে এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নে সর্বোচ্চ ৭৫টি (গড়ে ৭.৫০), শিদলাই ইউনিয়নে ৬৮টি (গড়ে ৬.৮০) এবং চৌদ্দগ্রামের কালিকাপুর ইউনিয়নে ৬৩টি (গড়ে ৬.৩০) মামলা গ্রহণ হয়েছে। সার্বিকভাবে বলা যায়, বিভিন্ন উপজেলায় মামলা গ্রহণের হারে উল্লেখযোগ্য বৈষম্য রয়েছে, যেখানে ব্রাহ্মণপাড়া ও চৌদ্দগ্রাম তুলনামূলক বেশি সক্রিয় এবং মনোহরগঞ্জ তুলনামূলকভাবে কম মামলা গ্রহণ করেছে।
আব্দুলাহ আল মামুন, সহকরী কমিশনার, স্থানীয় সরকার শাখা, কুমিল্লা এরউপস্থাপনায় ও অংশগ্রহণকারীদের আলোচনায় গ্রাম আদালত পরিচালনায় বিদ্যমান বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সমস্যার বিষয় উঠে আসে। তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাম আদালতের সমন বা নোটিশকে গুরুত্ব না দেওয়া এবং তা অমান্য করার প্রবণতা দেখা যায়। এছাড়া গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত কিছু মামলা থানায় গ্রহণ করা হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য মামলাগুলো অনেক সময় আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তি না করে স্থানীয়ভাবে সমাধান করার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।
সভায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, অনেক ইউনিয়নে নির্ধারিত এজলাসে বসে বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় না এবং এজলাস ব্যবহারে অনীহা রয়েছে। পরিশেষে সভার সভাপতি মোঃ মেহেদী মাহমুদ আকন্দ উপস্থিত সকলের সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষিতে বলেন, মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে কিছু সমস্যা রয়েছে; আমরা তা জানি, কিন্তু সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী অর্জন নিশ্চিত করার জন্য সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের পরামর্শ প্রদান করেন।