ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের কিংবদন্তি শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে আপনার কোন স্মৃতি থাকলে লিখুন

লেখক: মনির মোল্লা
প্রকাশ: ৪০ minutes ago

Spread the love

আমি ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে জয়েন করতে এসে প্রথমে যার সাথে দেখা তিনি ফরিদ স্যার। আমার সহকর্মী হলে ও উনাকে আমার নিজের স্যারের মতো মনে হতো। প্রসংগত আমি ভগবান স্কুলে ইছাকৃত আসিনি। যেহেতু আমি ছিলাম সিলেট জেলার জকিগঞ্জ সরকারি বালক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সেহেতু কুমিল্লায় আসাই ছিল আমার প্রত্যাশা,কোন নির্দিস্ট বিদ্যালয় নয়। ভগবান স্কুলে জয়েন করে আমি খুব একটা খুশি ছিলাম না। স্যার একদিন দুপুরে উনার বাড়িতে নিয়ে গেলেন। আমাকে লাঞ্চ করালেন।পরে স্যারের সাথে এমনভাবে মিশে গেলাম, যে ভগবান স্কুল হয়ে গেল আমার প্রিয় প্রতিসঠান। যার ফলে বাসা নিয়ে চলে গেলাম ব্রাহ্মাণপাড়া।এখানকার প্রতিটি ইট কাঠ বালির সাথে ছিল স্যারের অকৃতিম ভালোবাসা। আমার অবস্থা ও একই রকম। যদিও আমার পক্ষে স্যারের মতো হওয়া অসম্ভব। তিনি আমার আইডল।

স্যার কখনো অনিয়ম দুর্ণীতির সাথে আপোষ করতেন না। তিনি ছিলেন প্রতিবাদী একজন মানুষ। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সারাজীবন লড়ে গেছেন। তিনি আমৃত্যু উপজেলা দুর্ণীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ছিলেন।

তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। বীরের কন্ঠে বীর কাহিনী প্রগ্রামে স্যারকে নিয়মিত ভগবান স্কুলে দাওয়াত দেওয়া হতো। স্যার দাওয়াত পেলেই চলে আসতেন। শিক্ষার্থীদের শোনাতেন যুদ্ধ দিনের কথা।

স্যারের রাগ নিয়ে অনেকে আলোচনা করেন। মুলত তার রাগ ছিল সার্বজনীন। তিনি শুধু ছাত্রদের সাথেই রেগে কথা বতেন না,তার পরিবারের লোকজনের সাথে ও এক ই ব্যাবহার করতেন । তাছাড়া তার রাগ ছিল ক্ষনথায়ী। তিনি স ত্যি ই একজন ভালো মানুষ ছিলেন।

স্যারছিলেন ধর্মভীরু একজন মানুষ। বিদ্যালয়ের মসজিদ পুননির্মাণে স্যারের রয়েছে অসামান্য ভুমিকা।

আপনারা যারা স্যারের ছাত্র ছিলেন তারা এক লাইন করে লিখে যান । তিনি ১৩ মে মারা যান।

লেখক- মনির মোল্লা

সহকারী শিক্ষক

ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়।

  • ব্রাহ্মণপাড়া