ব্রাহ্মণপাড়ায় কুয়াশা আর শীত উপেক্ষা করে রাতের আঁধারে ছিন্নমূল মানুষের মাঝে ইউএনওর কম্বল বিতরণ

লেখক: মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশ: ৫ মাস আগে

Spread the love

প্রচণ্ড শীত ও ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে সমাজের অবহেলিত ও ছিন্নমূল মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা জাহান। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতের আঁধারে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ঘুরে ঘুরে নিজ হাতে কম্বল বিতরণ করে শীতার্ত মানুষের গায়ে উষ্ণতা ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি।
কম্বল দেওয়ার সময় কাউকে বাবা, কাউকে মা বলে সম্বোধন করে ভালোবাসার পরশে মাথায় হাত বুলিয়ে দেন ইউএনও। তাঁর এমন মানবিক আচরণে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন শীতার্তরা। কেউ কেউ হাউমাউ করে কেঁদে তাঁকে জড়িয়ে ধরেন।

বৈরীআবহাওয়ার মধ্যে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশংসায় ভাসছেন ইউএনও মাহমুদা জাহান। এসময় তার সাথে ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শশীদল রেলস্টেশন ও সাহেবাবাদ কুঁড়ের রিসোর্ট এলাকায় ভাসমান ও ছিন্নমূল মানুষের মধ্যে রাতে অন্তত ৪০টি কম্বল বিতরণ করেন ইউএনও। শৈত্যপ্রবাহ শুরু হওয়ার পর থেকেই এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন তিনি। কোথাও গাড়ি রেখে, কোথাও পায়ে হেঁটেই শীতার্তদের কাছে পৌঁছে নিজ হাতে কম্বল জড়িয়ে দিচ্ছেন।
সাহেবাবাদ এলাকায় আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন ভাসমান মানুষ বলেন, ‘আমাদের দেখার মতো কেউ নেই। অনেক রাত ধরে শীতে খুব কষ্ট করছি। ওই স্যারকে আমরা চিনিও না। তারপরও তিনি নিজে এসে আমাদের খোঁজ নিলেন, কম্বল দিলেন। আল্লাহ ওনাকে ভালো রাখুক।’


শশীদল রেলস্টেশনে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল মানুষেরাও জানান, তাঁদের থাকার নির্দিষ্ট জায়গা নেই। রেলস্টেশনে কোনোরকমে রাত কাটে। শীতের কাপড় পরেও গভীর রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা সহ্য করা যায় না। ইউএনও রাতে এসে প্রত্যেককে একটি করে কম্বল দিয়েছেন। একজন নারী কর্মকর্তা হয়েও এত রাতে তাঁদের কথা ভেবে নিজে এসে সহায়তা করায় তাঁরা কৃতজ্ঞ।
এ বিষয়ে ইউএনও মাহমুদা জাহান বলেন, ‘দায়িত্ববোধ থেকেই প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে ছিন্নমূল মানুষের কথা ভেবে কম্বল নিয়ে বের হয়েছি। এদের তো বাড়িঘর, আত্মীয়স্বজন কেউ নেই—তাহলে এদের দেখবে কে? দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি যে কাজগুলো মানসিক প্রশান্তি দেয়, সেগুলো নিজ হাতে করতে আমি পছন্দ করি। ঘন কুয়াশার কারণে রাতে গাড়ি নিয়ে বের হওয়া চ্যালেঞ্জিং হলেও এসব মানুষের কথা ভেবে আর ঘরে বসে থাকতে পারিনি।’
তিনি আরও বলেন, সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এই শীতে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত।

  • ব্রাহ্মণপাড়া