কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের মল্লিকারদিঘী গ্রামে এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং সিসিটিভি ক্যামেরা নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় প্রবাসী ও তার স্ত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মল্লিকারদিঘী (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী ফিরোজ মিয়া গত ১০ জুন ছুটিতে দেশে ফেরেন। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শশীদল ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব ইউনুছ মিয়ার নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা প্রথমে বাড়ির গেইট ও ঘরের দরজার তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর বাড়িতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে হামলার আলামত নষ্টের চেষ্টা চালায়। পরে প্রবাসী ফিরোজ মিয়া ও তার স্ত্রী সোহেনা আক্তারের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালানো হয়। এতে ফিরোজ মিয়া গুরুতর আহত হন এবং তার পায়ে হাড় ভেঙে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। স্ত্রী সোহেনা আক্তারও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন। এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা ঘরের স্টিলের আলমারিতে থাকা প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, ১৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, বিদেশ থেকে আনা মূল্যবান মালামাল এবং দুটি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার সময় বাড়িতে আতঙ্কের সৃষ্টি হয় এবং আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।আহত গৃহবধূ সোহেনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্বামী বিদেশ থেকে বাড়িতে আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকেও মারধর করা হয়। ভয়ে আমার ৭ বছরের সন্তানকে নিয়ে বাথরুমে আশ্রয় নিয়েছিল আমার স্বামী। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়েও আমাদের রেহাই দেয়নি। তারা আমার স্বামীকে নির্মমভাবে মারধর করেছে এবং বিদেশ থেকে আনা মালামাল, নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মোঃ সজিব, মোঃ ইউনুছ, মোঃ রিয়াজ, মোঃ বাছির, মোঃ রাফি ও মোঃ শান্তসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ ফারুক হোসেন বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। থানায় অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।