ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে তরুণীর ১২ দিনের অনশন, এলাকায় চাঞ্চল্য

লেখক: মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম
প্রকাশ: ১৮ minutes ago

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পশ্চিম শিদলাই গ্রামে প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে টানা ১২ দিন ধরে অবস্থান ও অনশন করছেন গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া উপজেলার ভূয়ারপাড়া গ্রামের মোসাম্মৎ নুসরাত জাহান নামের এক তরুণী। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবস্থানকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিনই ঘটনাস্থলে ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ।

তরুণীর অভিযোগ, প্রায় চার বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পশ্চিম শিদলাই গ্রামের বাসিন্দা আবু কালামের ছেলে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে প্রেম, এরপর ধীরে ধীরে সম্পর্ক গভীর হয়। গত দুই বছর ধরে রাজধানী ঢাকায় তাঁদের নিয়মিত দেখা-সাক্ষাৎ চলছিল। বিয়ের আশ্বাস দিয়েই সম্পর্ক এগিয়ে নিয়েছিলেন আবু সাইদ—এমনটাই দাবি নুসরাতের।

নুসরাত জাহান বলেন, প্রায় ১২ দিন আগে বিয়ের কথা বলে আবু সাইদ তাঁকে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চড়বাকর এলাকার এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে দুই দিন থাকার পর তিনি বিয়ের বিষয়টি চূড়ান্ত করতে চাইলে আবু সাইদ তাঁকে রেখে কাউকে কিছু না জানিয়ে নিজ বাড়িতে চলে আসেন।

তিনি বলেন, পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর প্রেমিকের বাড়ির ঠিকানা সংগ্রহ করে ব্রাহ্মণপাড়ার পশ্চিম শিদলাই গ্রামে আসেন। সেখানে গিয়ে বিয়ের কথা বললে আবু সাইদ তাঁকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এমনকি তাঁকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

নুসরাত বলেন, সে আমাকে বিয়ের স্বপ্ন দেখিয়েছে। আমার জীবন, ভবিষ্যৎ—সবকিছু তার ওপর বিশ্বাস করে গড়তে চেয়েছিলাম। এখন সে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আমার আর হারানোর কিছু নেই। হয় সে আমাকে বিয়ে করবে, না হয় এই বাড়িতেই আমার মৃত্যু হবে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়রা শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানান। পরে চেয়ারম্যান উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ডেকে সমাধানের উদ্যোগ নেন। তবে সেখানে উপস্থিত হয়ে আবু সাইদ চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, গত ১২ দিন ধরে তরুণীটি প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান করে বিয়ের দাবি জানিয়ে আসছেন। কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও অভিযুক্ত যুবকের পরিবার সহযোগিতা করেনি। বরং তাঁকে বাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। পরে পরিবারের সদস্যরাও বাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে দাবি তাঁদের।

শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আকবর আলাউল বলেন, বিষয়টি জানার পর উভয় পক্ষকে ডেকে সমাধানের চেষ্টা করেছি। ছেলেটিকে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হলে সে বৈঠক ছেড়ে চলে যায়। এরপর থেকে সে ও তার পরিবারের সদস্যদের আর পাওয়া যাচ্ছে না। একাধিকবার চেষ্টা করেও সমাধান করা সম্ভব হয়নি। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশকে জানিয়েছি।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা লুৎফা ইয়াসমিন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীর সঙ্গে কথা বলেছি। অভিযুক্ত যুবকের পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে নিরাপদ আশ্রয় ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি প্রেমিকের বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি হননি। পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের বিষয়টি সমাধানের জন্য বলা হয়েছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তরুণী নুসরাত জাহান প্রেমিকের বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। অন্যদিকে আবু সাইদ ওরফে সাইফুল ইসলাম এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় এখনো কোনো আপস-মীমাংসা বা বিয়ের বিষয়ে অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

  • ব্রাহ্মণপাড়া