কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শঙ্কুচাইল গ্রামের কেন্দ্রীয় মসজিদকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। এলাকাবাসীর সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে গঠিত মসজিদ কমিটিকে পাশ কাটিয়ে একদল প্রভাবশালী গোপনে নতুন কমিটি গঠন করায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।
গত ঈদুল ফিতরের পরদিন ১লা এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখ হাজারেরও বেশি এলাকাবাসীর স্বাক্ষর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে ডা. আব্দুস সালাম, ডা. গোলাম সারোয়ার বিদ্যুৎ, শিল্পপতি মাসুদুর রহমান, এসপি মিজানুর রহমান বেলাল, এমরান খাঁনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিয়ে মসজিদের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।
দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন কমিটি মসজিদের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো ঢাকাস্থ স্বনামধন্য সিএ ফার্ম বখতিয়ার ইস্রাফিল অ্যান্ড কোং এর মাধ্যমে অডিট কার্যক্রম শুরু করে। তবে পূর্ববর্তী কমিটিকে একাধিকবার অফিসিয়াল চিঠি দেওয়া হলেও দায়িত্বশীল হাজী ইউনুস ভূঁইয়া ও মেম্বার মিজান কোনো ধরনের হিসাব-নিকাশ জমা দেননি। বরং তারা উদ্ধত আচরণ প্রদর্শন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
অডিট শেষে পূর্ববর্তী কমিটিগুলোর আয়-ব্যয়ে অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের প্রমাণ পাওয়া যায়। এরই প্রেক্ষিতে অভিযোগ উঠেছে, পূর্ববর্তী কমিটির কিছু সদস্য এবং বর্তমান ইমাম মোস্তাফিজুর রহমান হেলাল গোপনে ওয়াকফ দপ্তরে আবেদন করে নতুন আরেকটি কমিটি অনুমোদন করিয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, ওয়াকফ পরিদর্শককে প্রভাবিত করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তারা নির্বাচিত কমিটিকে উপেক্ষা করে গঠিত এই নতুন কমিটিকে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বলে অভিহিত করেছে। এলাকাবাসীর একাধিক প্রতিনিধি জানিয়েছেন, “আমরা জনগণের ইচ্ছায় গঠিত কমিটির পক্ষেই আছি। যেকোনো মূল্যে দুর্নীতিবাজ চক্রকে প্রতিহত করা হবে।”
এলাকাবাসী ধর্ম মন্ত্রণালয়, ওয়াকফ প্রশাসন এবং জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছে—গ্রামবাসীর ইচ্ছাধীন কমিটিকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে কার্যকর করা হোক এবং শঙ্কুচাইল গ্রামকে সম্ভাব্য সংঘাত থেকে রক্ষা করা হোক।
বাংলাদেশ ওয়াকফ স্টেট কুমিল্লা কতৃক শংকুচাইল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের নবগঠিত কমিটি বাতিল করণের জন্য শংকুচাইল গ্রামের মোঃ আলাউদ্দিন গত ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ওয়াকফ স্টেট এর প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত আবেদন করেছে।