কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা দায়িত্ব গ্রহণের পর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীবান্ধব পরিবেশ, বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ এবং সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা ও স্থানীয়রা। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগে নানা কারণে রোগীদের অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে নিয়মিত চিকিৎসক উপস্থিত থাকায় বহির্বিভাগে রোগীরা সময়মতো চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। জরুরি বিভাগেও সেবা কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও গতিশীল হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী বিনামূল্যের ওষুধ বিতরণেও স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে হাসপাতালে আসছেন। উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নের বাসিন্দা আবদুল কাদের বলেন, “আগে হাসপাতালে এসে অনেক সময় চিকিৎসক পাওয়া যেত না। এখন বেশিরভাগ সময়ই চিকিৎসকরা দায়িত্বে থাকেন। দ্রæত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়ে আমরা সন্তুষ্ট।” শশীদল এলাকার গৃহিণী রওশন আরা বলেন, “আমার শিশুকে নিয়ে কয়েকবার হাসপাতালে গিয়েছি। চিকিৎসকরা আন্তরিকভাবে দেখেছেন। অনেক ওষুধ হাসপাতাল থেকেই বিনামূল্যে পেয়েছি। আগের চেয়ে এখন পরিবেশও অনেক ভালো মনে হয়েছে।” স্থানীয়দের মতে, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা রক্ষা, রোগীদের সঙ্গে দায়িত্বশীল আচরণ এবং সেবার মান বৃদ্ধিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের সরকারি হাসপাতালের প্রতি আস্থাও বেড়েছে। উপজেলার সচেতন নাগরিকদের মতে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই ইতিবাচক ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং চিকিৎসার জন্য বাইরে যাওয়ার প্রবণতাও অনেকাংশে কমে আসবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতালের প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করা, রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারি ওষুধ বিতরণ এবং সেবার মান উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। ভবিষ্যতেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।” তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালে আগত প্রতিটি রোগী যেন সম্মানজনক ও মানবিক পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পান, সে বিষয়টিকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের চেষ্টা চলছে।”