বর্ষার পানিতে খাল-বিল ভরাট হয়ে যায়। তখন খাল বিলে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছের পোনা ফুটতে দেখা যায়। তখন মা মাছগুলো বংশ বৃদ্ধির জন্য ডিম ছাড়তে শুরু করে। আমাদের শরীরের আমিষের ঘাটতি পুরনের বড় উৎস হলো মাছ। বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকেই বাজার থেকে মাছ ক্রয় করে খেতে পারে না। তারা বর্ষার মৌসুমে খাল বিল থেকে নিজেরাই ছোট ছোট দেশী মাছ ধরে আমিষের চাহিদা পুরণ করতে পারে। আবার অনেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রয় করে নিত্যদিনের অন্যান্য চাহিদা পুরণ করে। কিন্ত ম্যাজিক জালের কারণে খাল বিলগুলোতে মাছ বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। মা মাছসহ ছোট ছোট পোনা মাছগুলোও ম্যাজিক জালে আটকা পড়ে। এতে বর্ষার মৌসুমে খাল বিলগুলোতে আগের মতো দেশী মাছ বেড়ে উঠে না। এক শ্রেণীর মানূষ সমান্য বৃষ্টিতে খাল- বিলে কিছুটা পানি জমা হলেই ম্যাজিক জাল, বেলজাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করে। এতে বিভিন্ন প্রজাতির দেশী মাছগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। দেশী মাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে হলে ম্যাজিক জালসহ সকল জাল ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার খালগুলোতে কয়েকশত ভেলজাল রয়েছে। এই ভেলজালে দেশি প্রজাতির মাছগুলোর মাধ্যমে ধরা হয়। অপর দিকে বিল ও জলাশয়ে শত শত ম্যাজিক জাল পাতা হয়। ম্যাজিক জালে পোনা মাছ ও মা মাছ কোনটাই বাদ যায় না। এতে অস্তিত্ব সংকটে দেশি প্রজাতির মাছগুলো। ফাষ্ট ফুড ব্যবসায়ী শওকত হোসেন বলেন, বর্তমানে বৃষ্টিপাতের ফলে খালে বিলে নতুন মাছের জন্ম হওয়ার কথা এবং বৃষ্টির পানিতে মা মাছগুলো ডিম পারবে। কিন্ত খাল বিলে ম্যাজিক জালের মাধ্যমে মা মাছগুলো ধরে ফেলার কারনে নতুন করে মা জন্ম না হওয়ায় দেশি প্রজাতির মাছগুলো বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। তাই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরা আইন প্রয়োগ করে ম্যাজিক জাল বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ছোট বড় মাছগুলো হারিয়ে যাবে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মোঃ আরিফ আহমেদ মাহাদী বলেন, ম্যাজিক জালের কারণে আমাদের দেশীয় মাছগুলো বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। খাল বিলগুলোতে সামান্য একটু পানি হলেই এক শ্রণির লোক ম্যাজিক জালের মাধ্যমে মাছ ধরা শুরু করে। এতে মাছের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই দেশী মাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে মৎস্য অফিসের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। ম্যাজিক জালের কারণে আমাদের দেশীয় মাছগুলো বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে। খাল বিলগুলোতে সামান্য একটু পানি হলেই এক শ্রণির লোক ম্যাজিক জালের মাধ্যমে মাছ ধরা শুরু করে। এতে মাছের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই দেশী মাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে মৎস্য অফিসের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। গৃহিণী শারমিন আক্তার বলেন, আগে খাল বিলে প্রচুর পরিমাণে ছোট মাছ পাওয়া যেত। জেলেরা হাট বাজারে বিক্রয় করে সংসার চালাতে পারতো। জেলেদের কাছ থেকে দেশী মাছ ক্রয় করার সুযোগ হতো কিন্ত এখন দেশী প্রজাতির মাছ চোখেও দেখা যায় না। জন্ম হওয়ার সাথে সাথে ম্যাজিক জাল দিয়ে ধরে ফেলে। দেশী প্রজাতির মাছগুলো বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। বুড়িচং সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার সুব্রত গোস্বামী বলেন, ম্যাজিক জাল দেশীয় প্রজাতির মাছের জন্য হুমকি স্বরুপ। আমাদের জনবল সংকটের কারনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে পারছি না। বর্ষা শুরুর দুই মাস খাল বিলে ম্যাজিক জাল দিয়ে মাছ ধরা নিষেধ রয়েছে। এই বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার প্রচারণার ব্যবস্থা করবো। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে উপজেলা মৎস্য অফিসারের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।