“প্রতিনিয়ত তীব্র যানজটের কবলে দু’ উপজেলার লক্ষ লক্ষ মানুষ” বুড়িচং বাজারে ড্রেন ও ব্রাহ্মণপাড়া বাজারে ঢালাইয়ের কাজ ধীরগতির অভিযোগ

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১২ ঘন্টা আগে

Spread the love

কুমিল্লা- মীরপুর সড়কের ব্যস্ততম বাজার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া। বুড়িচং উপজেলা সদর বাজার এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদর বাজার দুটি এমএগণি সড়কের দুই পাশ ঘিরে অবস্থিত। প্রতিনিয়তই দুই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের লক্ষ লক্ষ মানুষ নিত্যদিনের কাজ কর্মে উপজেলা সদরে ভীর জমায়। তাছাড়া দুই উপজেলার কর্মজীবী, পেশাজীবী ও কলেজ পড়ুয়া ছাত্রছাত্রীরা কুমিল্লা জেলা সদরে যাতায়াতের জন্য এই সড়কটি ব্যবহার করে। এতে কয়েক হাজার সিএনজি ও অটোরিকশা চলাচল করে। তাছাড়া মাঝে মাঝে বিভিন্ন কোম্পানীর মালবোঝাই বড় বড় ট্রাক্টর চলাচল করে। ভোরবেলা থেকে রাতের প্রথম প্রহর পর্যন্ত এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক । সড়কটির দুই পাশে অপরিকল্পিত ভাবে সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা রাখার কারণে অস্বাভাবিক ভাবে অন্যগাড়ীগুলো চলাচল করতে পারে না। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে বুড়িচং বাজারে সড়কের পাশের ড্রেনের কাজ। ড্রেনের কাজ চলমান থাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা গুলো এলোমেলো ভাবে রাখার কারণে যানজট লেগেই থাকে। ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকিয়ে থাকতে হয়। বাজারের মধ্যে যানজট সৃষ্টি হলে ফাঁড়ি সড়কগুলোতেই যানজটের সৃষ্টি হয়। ড্রেনের নির্মাণ কাজের জন্য হতাশার মোড়ের বাইপাস সড়কটি বন্ধ থাকায় যানজটের তীব্র আকার ধারণ করেছে। বুড়িচং বাজারের অনেক ব্যবসায়ী জানান, বাইপাস সড়কের হতাশার মোড় এলাকা থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নিলে যানজট অনেকটা কমে যাবে। বুড়িচং বাজারে প্রবেশ ও বের হওয়ার সড়কগুলো হলো আরাগ সড়ক, কুমিল্লা সড়ক, অফিস সড়ক, পৌরসভা সড়ক, হাসপাতাল গেইট, কলেজ গেইট। বাজারের মূল সড়কে কোন কারণে যানজট সৃষ্টি হলে এই বাইপাস সড়কের মাধ্যমে যাতায়াত করা হয়। কিন্ত এই বাইপাস সড়কগুলো প্রস্থ না থাকায় স্বাভাবিক ভাবে দুটি গাড়ী চলাচল করতে পারে না। বুড়িচং বাজারের ড্রেন নির্মাণ শ্রমিকরা জানায়, দুই একদিনের মধ্যেই বাইপাস সড়কের হতাশার মোড় এলাকা থেকে পাথর ও অন্যান্য সামগ্রী সরিয়ে ফেলা হবে। অপর দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের সড়কের ঢালাই কাজ ধীর গতিতে চলমান থাকায় গাড়ী চলাচলের ব্যাঘাত ঘটছে। কিছু অংশের ঢালাই কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে এবং কিছু অংশের কাজ না হওয়ায়- একপাশ দিয়ে গাড়ী চলাচল করতে গিয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে জনদূর্ভোগের সীমা থাকে না। নাইঘর সড়কের মাথা থেকে আল্লাহর ৯৯ নামের চত্বর পর্যন্ত একপাশে ঢালাই করা হয়েছে এবং অপর পাশ ঢালাই করা হয় নাই। যার ফলে দুই দিকের গাড়ী উভয় পাশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে সাধারন যাত্রীদের সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে অসুস্থ রোগীদের কষ্ট হয় অনেক বেশি। কুমিল্লাগামী একজন যাত্রী বলেন, সড়কের ঢালাইয়ের কাজ কবে যেন শেষ হয় আর আমাদের কপালের লগোমত কমে। ধীরগতিতে কাজ হওয়ার কারণে আমাদের দূর্ভোগের কমতি নেই। ব্রাহ্মণপাড়া বাজার এলাকায় বাইপাস সড়ক না থাকায় যানজটের চরম আকার ধারণ করে। বিশেষ করে নাইঘর সড়কের প্রবেশপথ ও উপজেলা সড়কের প্রবেশপথ এলাকায় যানজট যেন নিত্যদিনের সঙ্গী। সড়কে ঢালাইয়ের কাজ ধীরগতিতে চলমান থাকায় আগুণে ঘি ঢালার মতো যানজট ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে যানজটের কারণে ব্রাহ্মণপাড়া বাজার এলাকাটি হেঁটে পার হতে হয়। বুড়িচং ও কুমিল্লা থেকে আসা যাত্রীদের অধিকাংশকেই বাধ্য হয়ে মধুমতি হাসপাতালের সামনে নেমে যেতে হয় আবার মীরপুর, চান্দলা থেকে আসা যাত্রীদেরকে আল্লাহর ৯৯ নামের চত্বরে নেমে যেতে হয়।
তাই দ্রæত সড়কের ঢালাইয়ের কাজ সম্পূর্ণ করে জনদূর্ভোগ কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করেছে স্থানীয়রা।

  • বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া