অধ্যক্ষকে ফাঁসাতে ভর্তি ফরমে আওয়ামী স্লোগান, কলেজ ইনচার্জকে অব্যাহতি

লেখক: মো. আনোয়াররুল ইসলাম
প্রকাশ: ২ দিন আগে

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পপ্রথম বর্ষের ভর্তি ফরমে আওয়ামী স্লোগান ও ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো ব্যবহারের ঘটনায় কলেজ শাখার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অধ্যক্ষকে ফাঁসাতে এবং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে ইনচার্জ একক সিদ্ধান্তে এই কান্ড ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়ার দাবি, তাঁকে বিপদে ফেলার উদ্দেশ্যে ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ তাঁকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তে এই বিতর্কিত ভর্তি ফরম ছাপান ও বিতরণ করান। ঘটনাটি পপ্রকাশ পাওয়ার পর গভর্নিং বডির আদেশে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে আবুল কালাম আজাদকে কলেজ শাখার ইনচার্জের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এর আগে গত মঙ্গলবার একাদশ শেপ্রণিতে ভর্তি কার্যক্রম চলাকালে শিক্ষার্থীদের দেওয়া ফরমে ‘মুজিব শতবর্ষ’ লোগো এবং আওয়ামী রাজনৈতিক স্লোগান দেখতে পাওয়া যায়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতাদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। স্থানীয় ছাত্রদল ও যুবদলের নেতৃবৃন্দ ঘটনায় জড়িতদের বিররুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর পপ্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ঘটনার পর কলেজ ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ একটি লিখিত পপ্রতিবাদলিপি দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ল্যাব সহযোগীরা ভুলবশত ৪-৫টি পুরনো ফরম বিতরণ করেছিলেন এবং অধ্যক্ষের নির্দেশনায় একটি ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে সাংবাদিকরা উপস্থিত হয়ে কলেজ ইনচার্জকে এ বিষয়ে পপ্রশ্ন করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। এমনকি তাঁর ভাষ্যমতে অধ্যক্ষকে পপ্রধান করে গঠিত ভর্তি কমিটির পক্ষে কোনো লিখিত পপ্রমাণ বা রেজুলেশন দেখাতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হন।

এদিকে কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি আবুল বাশার সরকারও ভারপপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের জড়িত না থাকার বিষয়টির সমর্থন জানিয়ে বলেন, কলেজ শাখার ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ অধ্যক্ষকে পাশ কাটিয়ে একক সিদ্ধান্তেই এসব বিতর্কিত কার্যক্রম চালিয়েছেন। অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদের বিররুদ্ধে এর আগেও স্বেচ্ছাচারিতা, গাইড বিক্রি বাবদ অর্থ আত্মসাৎ ও কোচিং বাণিজ্যের গুররুতর অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় সংবাদ পপ্রকাশিত হলে উচ্চপর্যায়ের তদন্তে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া যায়, যা এখনো নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। পূর্বের ঘটনাগুলোর মতোই এবারও তিনি নিজে অনিয়ম করে দায় অধ্যক্ষের ওপর চাপানোর চেষ্টা চালান বলে অভিযোগ উঠে এসেছে। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল করিম বলেন, ঘটনাটি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এ বিষয়ে যযথাযথ পদক্ষেপ নিতে কলেজ কর্তৃপক্ষকে পপ্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

  • ব্রাহ্মণপাড়া