জুলাই আন্দোলনে সম্মুখসারির যোদ্ধা ছাত্রনেতা ওমর সানি

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Spread the love

‎আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারী শাসনামলে গত ১৫ বছরে রাজপথে থাকা বাংলাদেশ ইসলামি ছাত্রশিবিরের নিবেদিত কর্মী ওমর সানি। তিনি রাজপথ থেকে কারাগার পর্যন্ত স্বৈরাচারী সরকারের দমন-নিপীড়নের টার্গেট ছিলেন। বিগত ১৫ বছরে ত্যাগ, নির্যাতন ও প্রতিরোধের অন্যতম দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। আর গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলনের ফ্রন্টলাইনে ছিলেন এই ছাত্রনেতা।২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা গঠনের পর জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দমন-নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় শুরু হয় হামলা ও মিথ্যা মামলা দিয়ে। তখন থেকেই ছাত্রনেতা হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন ওমর সানি। আন্দোলন সংগ্রাম করতেই তার বিরুদ্ধে দায়ের হয় আটটিরও বেশি মামলা। মশাল মিছিল, অবরোধ, হরতাল, ছাত্র অধিকার আদায়ের আন্দোলনসহ দুর্দিনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক নির্যাতন ও হামলার কারণে দীর্ঘ সময় নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারেননি। পরিবারের ওপর চাপ, বাড়িতে পুলিশি তৎপরতা, প্রশাসনের হুমকি, সবকিছু মোকাবিলা করেছেন পালিয়ে, গোপনে, আবার কখনো কারাগারের অন্ধকার সেলে থেকে। ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে নতুনভাবে ধারাবাহিক মামলা হয়। এরপর নিখোঁজ হন তিনি। জীবিত নাকি মৃত জানে না পরিবার। ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে অংশ নেন শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে। টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ ও গুলির মুখে থেকেও সহযোদ্ধাদের মনোবল ধরে রেখেছেন সামনে থেকে। জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তিনি ছিলেন সম্মুখসারির যোদ্ধা। সর্বশেষ (৪ আগস্ট) এই ছাত্রনেতা প্রায় আট হাজার মানুষকে একত্রিত করে কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নের্তৃত্ব দেন। স্বৈরাচার সরকারের আমলে তার বিরুদ্ধে ৮টি মিথ্যা মামলা দায়ের হয়। ২০২৪ সালে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। দুই দিন আটক রেখে পরে সেখান থেকে কারাগারে পাঠানো হয়। ১৫ বছরের লড়াইকে দেখেন সংগ্রাম, ত্যাগ ও গণতন্ত্রের প্রতি অটল আস্থার ইতিহাস হিসেবে। ওমর সানি বলেন, কারাগারে থেকেও আমি বিশ্বাস হারাইনি, রাজপথে আহত হয়েও আমি থামিনি আওয়ামী প্রশাসনের নির্যাতনেও আমি ভেঙে পড়িনি। তিনি বলেন, আমার চোখের সামনে রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের নির্যাতন, জুলাই আন্দোলনে সহযোদ্ধাদের রক্ত এবং ১৫ বছর পরিবারের চোখের অশ্রু আমায় আরও শক্তিশালী করে। তিনি আরও বলেন, ‘আমার বিশ্বাস ছিল বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মই আওয়ামী স্বৈরাচারের পতন ঘটাতে পারবে।