‘ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে’বুড়িচংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার সম্প্রদায়

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ years ago

Spread the love

কোরবানি ঈদকে সমানে রেখে পশু জবাইয়ের অন্যতম উপকরণ ছুরি, চাকু, দা,বটি,চাপাতি লোহার বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদা বেড়েছে। এসব উপকরণ তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামার স¤প্রদায়। তাই এখন দম ফেলার সুযোগ নেই তাদের। ধান কাটার মৌসুমে কাঁচি,কোরবানি ঈদে চাকু, চুরি, চাপাতি, বটির বেশির দরকার হয়ে পড়ে। এসব তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বুড়িচং উপজেলা বিভিন্ন হাট- বাজারে কামার স¤প্রদায়। বুড়িচং সদর বাজারের কামার গলিতে দিনরাত টুংটাং শব্দ শুনায় যায়। কামার স¤প্রদায় জানান একসময় তাদের বেশ কদর ছিল বর্তমানে তা আর নেই। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় জড়িত পড়ছেন। এখন হাতের তৈরি জিনিসের কদর কমে গেছে তাই সারাবছর তেমন কোন কাজ থাকে না।তবে ধান কাটার মৌসুম ও কুরবানির উপলক্ষে তাদের কদর বেড়ে যায়। এ সময় তাদের দৈনিক ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হলেও দিন শেষে হাতের মুঠোয় কিছুই থাকেনা। সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায় বুড়িচং সদর বাজার, কংশনগর বাজার, ভরাসার বাজার, খাড়াতাইয়া নতুন বাজার, নিমসার, শংকুচাইল, ময়নামতি বাজারসহ বিভিন্ন হাট- বাজারে কামার সম্প্রদায় লোহা আগুনে পুড়ে দা, চুরি, চাপাতিসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম তৈরি কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করছে। তৈরিকৃত জিনিসপত্র দিয়ে দোকান সাজিয়ে রেখেছেন। ক্রেতারা তাদের চাহিদা মোতাবেক কামারের দোকান থেকে প্রয়োজনীয় দা, ছুরি কিনছেন।অনেক ক্রেতা জানান গত বছরের তুলনায় লোহার দাম অনেক বৃদ্ধি পাওয়ায় লোহার তৈরি জিনিসের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে । দা ৩শত টাকা থেকে ৫শত টাকা, ছোট ছুরি ২শত টাকা থেকে ৩শত টাকা, বড় ছুরি ৪শত টাকা থেকে ৫শত টাকা, বটি ৫শত টাকা থেকে ৬শথ টাকা, চাপাতি ৮শত টাকা থেকে ১ হাজার টাকা করে বেচা কিনা হচ্ছে। মেশিনের তৈরি আধুনিক যন্ত্রের প্রভাবে কামার শিল্পের দুর্দিন চললেও ঈদুল আযহা উপলক্ষে চাঙ্গা হয়ে উঠে। কংশনগ বাজারের রতন কর্মকার জানান, আমি অন্য কোন কাজ ভালোভাবে পারি না, তাই বাব-দাদার এই ঐতিহ্যবাহী পেশাকে এখনো ধরে রেখেছি। তবে বর্তমানের লাগামহীণ দ্রব্যমূল্যের কারণে সামান্য আয় দিয়ে ছেলে-মেয়ে ও সংসারের খরচ যোগান দিতে খুব কষ্ট হচ্ছে। ময়নামতি বাজারের সরকার কর্মকার বলেন এ বাজারে একটি- দুটি কামার দোকান ছিল বর্তমানে অনেক দোকান হওয়ার কাজ কমে গেছে। তাই আগের মতো রুজি-রোজগার হচ্ছে না। দোকান ভাড়া দিয়ে প্রতিমাসে পরিবারের খরচ চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বুড়িচং বাজারের দুলাল চন্দ্র কর্মকার বলেন প্রতিদিন ১হাজার ৫শত টাকা থেকে ২হাজার টাকা আয় করতে পারি, আবার এমনও দিন যায় ৫শত টাকা থেকে ১হাজার টাকা আয় করতে কষ্ট হয়ে যায়। সংসারের খচর বহন করতে পারছি না।

  • বুড়িচং