“গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম ১লা সেপ্টেম্বর “

লেখক: মো: জাহিদুল ইসলাম
প্রকাশ: ৩ minutes ago

Spread the love

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়াউর রহমানের আগমন ছিল এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধে বাংলাভাষী পাকিস্তানি সৈনিক হিসেবে লড়েছিলেন খেমকারান রণাঙ্গনে। আবার ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার ঘোষণা মধ্যেই দিয়ে বিস্ময় সৃষ্টি করেছিলেন এই দেশের মানুষ প্রয়োজনের মুহূর্তে কি করতে পারে।

 

একদিকে স্বাধীনতার ঘোষক ও যোদ্ধা অন্য দিকে আইন অনুগত সৈনিক, এক বিশৃঙ্খল দেশের শাসনভার তার উপর। তখন সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা, চক্রান্তে জর্জরিত সশস্ত্র বাহিনী তার চিন্তা বুদ্ধিমতার মাধ্যমে সুশৃংখল করেন সকলকে। দেশে রাজনীতি ছিল না রাজনীতিকদের জারি করা সামরিক শাসন তুলে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করলেন জিয়াউর রহমান।

 

দেশ যখন গভীর সংকটে,রাজনৈতিক অস্থিরতা ও শূন্যতা , ১৯৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর দেশে রাজনৈতিক দলগুলোর উপর নিষেধাজ্ঞা। মানুষের কথা বলার জায়গা ছিল না। গণতন্ত্র, বহুদলীয় রাজনীতি সব বন্ধ। দেশ একটা দিশেহারা অবস্থায়। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। খাদ্য সংকট, দুর্ভিক্ষ, বেকারত্ব, মানুষের পেটে ভাত নাই,ক্ষুধা-দারিদ্র্য তখন তিনি জাতিকে উপহার দিলেন পরিচয় ও আদর্শের পতাকা।

 

সময়ের দাবি মেটাতে তিনি সৃষ্টি করলেন নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি। ১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৮ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি নতুন রাজনৈতিক দলের ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ।

গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদের পতাকাবাহী সংগঠন দেশের মানুষ নিজেদের পরিচয় নিয়ে দ্বিধায়। শহীদ জিয়া “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” এর ডাক দিলেন। বললেন – ধর্ম, বর্ণ, ভাষা নির্বিশেষে এই দেশের সব মানুষ আমরা এক জাতি।

 

মানুষ ভোট দিতে চায়, নিজের প্রতিনিধি ঠিক করতে চায়। কিন্তু সেই সুযোগ ছিল না। তাই গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য একটা শক্তিশালী রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম দরকার ছিল ,তার মূল লক্ষ্য ছিল বহুদলীয় গণতন্ত্র ও জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া,শহীদ জিয়া বলেছিলেন, “রাজনীতি জনগণের জন্য, জনগণ রাজনীতির জন্য না।”

 

আজ ৪৮ বছর পরও বিএনপি সেই একই আদর্শ নিয়ে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।

১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ক্ষুধা-দারিদ্র্য-সন্ত্রাসমুক্ত “বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ” এর ভিত্তিতে যে দলের জন্ম দিয়েছিলেন, ৪৮ বছর পেরিয়ে আজও সেই দল দেশের মানুষের ভরসার নাম। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতিটি আন্দোলনে, মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকারের লড়াইয়ে বিএনপি ছিল, আছে, থাকবে।

 

শহীদ জিয়ার আদর্শ, আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ত্যাগ আর বর্তমান প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি এগিয়ে যাকে। জনগণের বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। শহীদ জিয়ার হাতে গড়া এই দল মানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক। অতীতে ছিলাম, বর্তমানে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবো ইনশাআল্লাহ। শহীদ জিয়ার স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার শপথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপ চলবে সবাকে নিয়ে।

লেখক: মো: জাহিদুল ইসলাম