মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণপাড়ায় প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলামের সংবাদ সম্মেলন

লেখক: ফারুক আহাম্মদ
প্রকাশ: ২ years ago

Spread the love

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার পোমকাড়া ছিদ্দিকুর রহমান এন্ড হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ঐ প্রতিষ্ঠান প্রধান। শনিবার ২৪ অক্টোবর বিকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ব্রাহ্মণপাড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। পোমকারা ছিদ্দিকুর রহমান এন্ড হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর তারিখের দৈনিক রুপসী বাংলা ও দৈনিক কুমিল্লার কাগজ পত্রিকাসহ অন্যান্য পত্রিকা ও একাধিক অনলাইনে আমাকে জরিয়ে প্রকাশিত সংবাদটি সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভীত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী দূর্নীতিবাজ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো: জুয়েল মিয়া ও মো: ফারুক বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির প্রথম সভার পূর্ব থেকে নির্বাচন খরচ নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ দিচ্ছে। টাকা না দেওয়ার কারণে প্রিজাইডিং অফিসারের সভাপতিত্বে প্রথম সভা হলেও স্বাক্ষর করে নাই। অনুরুপ দ্বিতীয় সভায়ও স্বাক্ষর করে নাই। পরবর্তীতে আমার কাছ থেকে ২৯,৫০০/- টাকা ধার নেয়। কিছুদিন পর ১৫০০০/- টাকা পরিশোধ করে। বাকী ১৪,৫০০/- টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিলে নির্বাচনে ১০০,০০০/- খরচ হয়েছে এ মর্মে নির্বাচনের খরচ নেওয়ার জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করে। আমি তা দিতে অস্বীকার করলে গত ২৬/০৯/২০২৪ তারিখে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের বরাবরে আমার বিরুদ্ধে এক অভিযোগ দাখিল করে। উক্ত অভিযোগের আলোকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয় গত ২৯/০৯/২০২৪ ইং তারিখে আমাকে দশ কার্য দিবসের মধ্যে কারন দর্শানোর জন্য নোটিশ দেন। আমি নয় কর্মদিবসের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর জবাব দাখিল করেছি। এরই মধ্যে মো: জুয়েল মিয়া ও মো: ফারুক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কার্যকর কোন পদক্ষেপের তোয়াক্কা না করে পত্রিকাসহ একাধিক অনলাইনে সংবাদটি একই অভিযোগ প্রকাশ করে, যা মিথ্যা এবং বানোয়াট। অভিযোগের বিরুদ্ধে আমি প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি এবং এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ গুলো হল- আমার যোগদান থেকে সেচ্ছাচারিতায় বিদ্যালয়টি পরিচালিত হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, বানোয়াট, ভীত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত এবং এস.এস.সি ফলাফলের অভিযোগটি ও সম্পূর্ন মিথ্যা, যা ফলাফল সীট বাস্তব প্রমান। অবকাঠামোগত অভিযোগটির বিষয়ে বিগত এমপি মহোদয়কে একাধিক বার বলার পরেও কোন কাজ হয় নাই। বিদ্যালয়ের নিজস্ব অর্থায়নে তিনটি টিনসেট বিল্ডিং আছে। বর্তমানে লেখাপড়ায় কোন সমস্যা হয় না। ২১ শতক জমি বিক্রি করা হয়েছে এই অভিযোগটিও সম্পূর্ণ মিথ্যা। বিদ্যালয়ের আয়া, অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী, নৈশ প্রহরী নিয়োগের সময় টাকা নিয়েছি এ কথাটুকুও সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিয়োগকালে ম্যানেজিং কমিটিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী মো: জুয়েল মিয়া ও এই কমিটিতে অভিভাবক সদস্য ছিলেন এবং স্বাক্ষর করেছেন। অভিযোগে ০৪ জন দাতা বানানো সরকারী বিধি মোতাবেক করা হয়েছে এবং টাকা বিদ্যালয় ফান্ডে আছে। দাতা বানানো রেজুলেশনে মো: জুয়েল মিয়ার স্বাক্ষর রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বাড়ী নিজ এলাকায় হওয়ায় জোড় পূর্বক বিদ্যালয় পরিচালনা করে কথাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের টয়লেট ব্যবস্থা নাই এই কথাটিও ভিত্তিহীন। এছাড়া বিদ্যালয়ে কর্মরত গনিত শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলমকে আমার স্বার্থ রক্ষার জন্য নিয়োগ দেওয়া হয় কথাটি মিথ্যা ও বানোয়াট। বর্তমানে কর্মরত গনিত শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলম, আমি প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করার চার বছর পূর্বে সে অত্র বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রাপ্ত হয়েছে। অত্র বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষক ও রয়েছে। গনিত শিক্ষক মো: জাহাঙ্গীর আলমের ছাত্রী ও এলাকার মেয়েদের একাধিক অভিযোগের কথাটি পূর্বে আমি অবগত নই। বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয় নাই এই কথাটি ও মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত। প্রতি মাসে অভ্যন্তরীণ কমিটি নিরীক্ষা শেষে ম্যানেজিং কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে ছবির বাম পাশে যেই দুইজন ব্যাক্তির ছবি প্রকাশ করেছেন এই ব্যাপারে উক্ত দুইজন ব্যক্তি অবগত ছিলেন না এই মর্মে অঙ্গিকার করেছেন। আওয়ামী ফ্যাসিবাদী মো: জুয়েল মিয়া ও মো: ফারুক, প্রধান শিক্ষক মো: নূরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার জন্য মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রনোদিত সংবাদটি প্রকাশ করেছেন তার বিরুদ্ধে ম্যানেজিং কমিটি ও এলাকাবাসী তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করছি। সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষে মোঃ আবুল হাসেম সরকার, কো-অপ্ট সদস্য ম্যানেজিং কমিটি সৈয়দ নাজমুল হক, অভিভাবক সদস্য মোঃ বাদল মিয়া, ইউপি সদস্য আবুল বাসার, বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, মোঃ সফিকুল ইসলাম, মোঃ হেলাল উদ্দিন মোল্লা, মোঃ আবদুল কাদেরসহ আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্রাহ্মণপাড়া