“বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়ায় নির্বাচনী হাওয়া” মিছিল মিটিংয়ে ব্যাস্ত বিএনপি গনসংযোগে পিছিয়ে নেই জামায়াত

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

বর্তমানে বিএনপির রাজনীতি মূলত হাট-বাজার ও মোড়ের চায়ের দোকানকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের কার্যক্রমও অনেকাংশে নিজেদের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। ফলে সাধারণ ভোটারের সঙ্গে তাদের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক ক্রমশই হ্রাস পাচ্ছে। এতে ভোটারদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। দলীয় সূত্রে জানা যায়, বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে পদ-পদবি নিয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দল বেড়েই চলেছে। কে মনোনয়ন পাবেন, কাকে সমর্থন দিলে বা না দিলে ভবিষ্যতে কোন বিপদে পড়তে হবে-এমন শঙ্কায় তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে জামায়াতে ইসলামি। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, ফজরের নামাজ শেষ করেই জামায়াতের নেতাকর্মীরা ভোটারদের ঘরে ঘরে গিয়ে তাদের প্রার্থীর জন্য দোয়া ও সমর্থন প্রার্থনা করছেন। অন্যদিকে বিএনপির নেতাকর্মীরা সকাল গড়ালে হাট-বাজার ও মোড়ের চায়ের দোকানে জড়ো হচ্ছেন। সেখানে সময় কাটছে মূলত পদ-পদবির ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা ও আড্ডায়। ফলে মাঠপর্যায়ে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়ছে, আর জামায়াতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও নিবিড় হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামির একাধিক নেতা বলেন, “আমরা শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের দোয়া চাইছি। আমাদের প্রার্থীকে মানুষ আপন করে নিচ্ছেন। কারণ আমরা শুধু নির্বাচনের সময় নয়, সবসময় মানুষের পাশে থেকেছি।” অন্যদিকে বিএনপির এক উপজেলা পর্যায়ের নেতা বলেন, “মনোনয়ন নিয়ে কিছুটা বিভ্রান্তি থাকলেও আমাদের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। দেরিতে হলেও প্রার্থী ঘোষণা হলে আমরা সবাই ধানের শীষের পক্ষে মাঠে নামব। জনগণ এখনও বিএনপির সঙ্গেই আছে, শুধু সংগঠিত হওয়ার জন্য আমাদের কিছুটা সময় প্রয়োজন।” এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) নির্বাচন–২০২৫ স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে জনতার সামনে বিএনপির উপস্থিতি গভীরভাবে কমে গেছে। এবারের নির্বাচনে ২৮টি কেন্দ্রীয় পদের মধ্যে ইসলামী ছাত্র শিবির–সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ জয়ী হয়েছে ২৩টি পদে। এই ফল শিবিরের ছাত্র রাজনীতিতে আধিপত্যের এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, শিবিরের প্যানেল প্রমাণ করেছে যে সংগঠন, কর্মসূচি, প্রচারণা ও ভোটারসংযোগে তারা এখন অনেক বেশি সক্রিয় ও গ্রহণযোগ্য। বিপরীতে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল কার্যকর প্রতিদ্ব›িদ্বতা গড়ে তুলতে ব্যর্থ হয়েছে। পদ-পদবি নিয়ে ভেতরের কোন্দল, প্রচারণায় নিষ্ক্রিয়তা এবং সংগঠনের দুর্বলতা তাদের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ঢাকসু নির্বাচন তাই একটি জনবিচ্ছিন্নতার স্পষ্ট উদাহরণ উপস্থাপন করেছে-যেখানে দেখা যাচ্ছে, বিএনপির ছাত্র সংগঠন ও মূল দলীয় নেতাকর্মীরা বর্তমান সময়ের রাজনীতির ধারায় ভোটারদের কাছে তাদের প্রভাব ও গ্রহণযোগ্যতা হারাচ্ছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিএনপির দ্রæত দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা জরুরি। তাতে নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তি কাটিয়ে মাঠে কাজ করতে পারবেন। একইসঙ্গে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট চাইতে শুরু করলে দলটির ভোটারসংযোগ ও গ্রহণযোগ্যতা পুনরায় ফিরে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে তা করতে হলে বিএনপিকে চায়ের দোকানের আড্ডা থেকে বেরিয়ে মাঠপর্যায়ের জনগণের দ্বারস্থ হতে হবে-অন্যথায় তাদের জনবিচ্ছিন্নতা আরও গভীর হতে পারে।

  • বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া