ব্রাহ্মণপাড়ায় ফসল হারিয়ে দুশ্চিন্তগ্রস্ত ২৯ হাজারেরও বেশি কৃষক

লেখক: আতাউর রহমান
প্রকাশ: ২ years ago

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার ২৯ হাজার ১৫০ জন কৃষক। ঘরে তোলার অপেক্ষায় রাখা ফসলসহ অন্যান্য ফসল হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। জানা গেছে, উজানের ঢলে ও ভারি বৃষ্টিতে গোমতী নদী ও সালদা নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যার শিকার হয় ব্রাহ্মণপাড়া। যার ফলে উপজেলার অধিকাংশ ফসলি জমি ক্ষতির মুখে পড়ে। এতে উপজেলার ৫ হাজার ৩২ হেক্টর জমি পানিতে তলিয়ে যায়। পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩ হাজার ৭৭২ হেক্টর জমির ফসল। আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ হাজার ২৬০ হেক্টর জমির ফসল। এতে আধাপাকা ও পাকা আউশধান, আমন ধানের ক্ষেত, আমন বীজতলা ও শাকসবজি বন্যার পানিতে ডুবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে এ উপজেলায় ফসলের ৯০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, বন্যায় এ উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে ২৯ হাজার ১৫০ জন কৃষকের নানা জাতের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ২৩ হাজার ৬৫০ জন কৃষক। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা। কথা হয় উপজেলার কয়েকজন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সঙ্গে। তারা জানান, আকস্মিক বন্যায় তাদের আধাপাকা ও পাকা আউশধান তলিয়ে গেছে। এছাড়াও আমন ক্ষেত, আমন বীজতলা এবং নানা জাতের শাকসবজি বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন বন্যার পানি অনেকটা কমেছে, তবে বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ভেসে উঠছে চারিদিকে শুধু ক্ষতির চিহ্ন। কষ্টার্জিত ফসলের ধ্বংসস্তুপের দৃশ্য যেনো কৃষকদের জন্য কাটা ঘায়ে নুনের মতো কষ্ট, এতে ভেঙে পড়ছেন কৃষকরা। উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের বেজুরা এলাকার কৃষক কামাল হোসেন বলেন, আমার ৯০ শতক জমির পাকা ধান বন্যার পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও আমার খামারের গরুর জন্য চাষ করা ১৫ শতক জমির ঘাস নষ্ট হয়ে গেছে। ঘরে তোলার আগমুহূর্তে এভাবে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার কষ্ট সইতে পারছি না। উপজেলার মালাপাড়া ইউনিয়নের অলুয়া এলাকার কৃষক তবদল হোসেন বলেন, দেখতে দেখতেই বন্যার পানিতে পাকা ধান তলিয়ে গেছে। একটু সুযোগও দেয়নি ধান ঘরে তোলার। ফসলের পাশাপাশি ঘরবাড়িরও ক্ষতি হয়েছে। কীভাবে এ ক্ষতি পোষাবো বুঝতে পারছি না। উপজেলার সদর ইউনিয়নের মহালক্ষীপাড়া এলাকার কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এ বছরে আমি ৭২ শতক জমিতে আউশধান আবাদ করেছিলাম। ধান পাকা শুরু করেছিল। এরইমধ্যে ভয়াবহ বন্যার পানি এসে সবকিছু নষ্ট করে দিয়ে গেছে। এতে আমার পথে বসার মতো অবস্থা হয়েছে। জমির পানি এখনো পুরোপুরিভাবে কমেনি, জানি না আমন ধানের আবাদ করতে পারবো কি না। আমন আবাদ করতে না পারলে বউ ছেলেমেয়ে নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। একই এলাকার কৃষক সোহেল হক বলেন, আগাম সবজি চাষের জন্য বপন করা সবজি বীজ ও রোপণ করা চারা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও আমার ৩৯ শতক জমিতে থাকা আধাপাকা আউশধান তলিয়ে গেছে। এ লোকসান আমি কোনোভাবেই পোষাতে পারবো না। উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের নাগাইশ এলাকার কৃষক শরীফুল ইসলাম বলেন, এই অসময়ে বন্যা হবে ভাবতেই পারিনি। দুই নদীর বাঁধ ভাঙার কবলে পড়ে আমার ৪৪ শতক আধাপাকা ধান ও জমিতে রোপণ করা আমন ধানের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এতো বড় ক্ষতির সম্মুখীন হবো কল্পনাও করিনি। এতো বড় ক্ষতি কীভাবে কাটিয়ে উঠবো জানি না। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. মাসুদ রানা বলেন, বন্যায় এই উপজেলার অধিকাংশ ফসলি মাঠ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কৃষকদের আধাপাকা ও পাকা আউশধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও আমনের ক্ষেত ও আমনের বীজতলা এবং আগাম শাকসবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ক্ষতির মুখে পড়েছেন উপজেলার ২৩ হাজার ৬৫০ জন কৃষক। তিনি বলেন, কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষি বিভাগ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। আমনধান লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে প্রান্তিক কৃষকদের নানা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার দুই হাজার কৃষকের মধ্যে নগদ অর্থ, বীজ ও স্যার প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

  • ব্রাহ্মণপাড়া