কৃষ্ণচূড়ার হাসিতে রঙিন ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতি

লেখক: আতাউর রহমান
প্রকাশ: ২ years ago

Spread the love

প্রকৃতিতে এখন চলছে গ্রীষ্মকাল। বৈশাখের এই তীব্র গরমে স্বস্তি না মিললেও চোখ জোড়ানো আর মন ভরানো স্বস্তি মিলেছে রাঙা কৃষ্ণচূড়ায়। তপ্ত প্রকৃতিতে রঙিন হাসিতে ফুটে আছে আগুনরঙা কৃষ্ণচূড়া ফুল। কৃষ্ণচূড়ার রাঙা ফুলের বাড়তি এই সৌন্দর্যে হেসে উঠেছে মনোজ্ঞ সাজে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার প্রকৃতি। এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন নানা বয়েসী মানুষ। সড়কের পাশে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশে, বিভিন্ন অফিস, কমপ্লেক্সে ও কোন কোন বাড়ির পাশেও লাল টুকটুকে ফুলে মনকাড়া সৌন্দর্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে বিদেশি এই গাছটি। আসা যাওয়ার পথে পথিকের নজর কাড়ছে অগ্নিরঙা কৃষ্ণচূড়া। জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়ার আদি নিবাস আফ্রিকার মাদাগাস্কা দ্বীপে। ১৯২৪ সালে এটি মরিশাস হয়ে ইংল্যান্ডে আসে। পরবর্তীতে এই গাছটি আসে ভারতীয় উপমহাদেশে। এই সুবাদে আসে বাংলাদেশেও। তবে কৃষ্ণচূড়া বিদেশি গাছ হলেও এটি বাংলাদেশ ও বাঙালি সংস্কৃতির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে গেছে। কৃষ্ণচূড়া নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে কালজয়ী গান ও কবিতা। প্রতি গ্রীষ্মে গাছটি মনোজ্ঞ ফুলে সজ্জিত হয়ে প্রকৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। এর দৃষ্টিনন্দন শোভায় মুগ্ধ হয় প্রকৃতিপ্রেমীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এ দেশে ও দেশের মানুষের মনে ঠাঁই করে নেওয়া কৃষ্ণচূড়া বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও তাঁর গানে তুলে এনেছেন এভাবে, “গন্ধে উদাস হাওয়ায় মতো উড়ে তোমার উত্তরী/ কর্ণে তোমার কৃষ্ণচূড়ার মঞ্জরি”, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গানেও কৃষ্ণচূড়া এসেছে এভাবে ” কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জুরি কর্ণে/ আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে।” এছাড়াও উপমহাদেশের কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী কিশোর কুমারের বিখ্যাত গানেও এসেছে কৃষ্ণচূড়া “এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে হাতে হাত, চোখে চোখ, কথা যেত হারিয়ে…। অথবা, ” কৃষ্ণচূড়া লাল হয়েছে ফুলে ফুলে, তুমি আসবে বলে।” সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার পুরনো বিদ্যাপীঠ ভগবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শহীদমিনারের পাশে, দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ে, থানা কমপ্লেক্সসহ উপজেলার গ্রামীণ সড়কের পাশে, মাঠে, পুকুর ও দীঘির পাড়ে এবং বাড়ির পাশে লাল ঘোমটা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে চিকন পাতার নজরকাড়া কৃষ্ণচূড়া। গাছের কচি কচি পাতার সমারোহের ফাঁকে লাল হাসিতে ফোটে আছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। কৃষ্ণচূড়ার এই নয়নাভিরাম সৌন্দর্যে বিমোহিত হচ্ছেন নানা বয়েসী মানুষ। কেউ কেউ কৃষ্ণচূড়ার প্রেমে পড়ে রাঙা ফুল তুলে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়ি। কেউ কেউ করছেন ফুলের সঙ্গে ফটোসেশান। এদিকে ডালের কৃষ্ণচূড়ার পাশাপাশি গাছের নিচে ঝরে পড়া কৃষ্ণচূড়া ফুলের শোভাও কম নয়। গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার দীর্ঘভূমি বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পাশে একদল কোমলমতি শিশু কুড়চ্ছ ঝরা কৃষ্ণচূড়া ফুল। এদের নির্মল আনন্দে যেন ফুল হয়ে ফোটবার সার্থকতা পেয়েছে কৃষ্ণচূড়া ফুল। কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল হকের সঙ্গে, তিনি বলেন, ‘একসময় এই জনপদে অনেক কৃষ্ণচূড়া গাছ দেখা যেত। গ্রীষ্মের দিকে রঙিন ফুলের কারণে একসময় এই গাছ যত্রতত্র চোখে পড়তো। তবে দিন দিন এর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এই গাছে কাঠ হয় না বলে নতুন করে কেউ আর এই গাছ রোপণ করছেন না। এই তপ্ত প্রকৃতিতে কৃষ্ণচূড়া ফুলে দৃষ্টি পড়লে মন শীতল হয়ে ওঠে।’ উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের লাড়ুচৌ এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, ‘গ্রীষ্মের এই সময়ে প্রকৃতিকে সুশোভিত করে তুলেছে চিকন চিকন সবুজ পাতার ফাঁকে ফোটে থাকা মনোমুগ্ধকর কৃষ্ণচূড়া ফুল। আসা যাওয়ার পথে এ ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন অনেকেই। ছোট বেলায় আমরা ঝরা কৃষ্ণচূড়া ফুল কুড়িয়ে এনে বইয়ের পৃষ্ঠার ভাঁজে লুকিয়ে রাখতাম। সেসময় এটা করে আনন্দ পেতাম। আর এর জন্য সমবয়সীদের মধ্যে এক দারুণ প্রতিযোগিতা ছিল।’ মাহিয়া তাবাসসুম নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, ‘কৃষ্ণচূড়া আমার প্রিয় ফুলগুলোর মধ্যে একটি। এই ফুল ফুটলেই আমি এর সৌন্দর্য উপভোগ করি। সুযোগ পেলে এই গাছের সঙ্গে ছবি তুলতে ছাড়ি না। আমাদের বাড়ির পাশেও একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ আছে। আমি গাছটির পরিচর্যা করি, এতে আমি আত্মতৃপ্তি পাই।

  • ব্রাহ্মণপাড়া