কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পূর্ব পোমকাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা কর্তৃক জোরপূর্বক জায়গা দখল করে মারধরের অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এক পরিবার। অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে জায়গা নিয়ে আবুল কাশেমের পরিবারের সাথে বিরোধ চলছে প্রতিবেশী লুৎফুর রহমান (লুতু মিয়া) ও তার পরিবারের। এমতাবস্থায় নিরুপায় হয়ে আবুল কাশেম গত ৩০ শে এপ্রিল ২০২৪ আদালতের দারস্থ হয়ে দেওয়ানী ৩২/২৪ মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনার জের ধরে গত ৯ জুলাই আদালতের আইন অমান্য করে ৩০/৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে জায়গা দখল করতে যায় এবং দেয়াল নির্মান করে লুতু মিয়া ও তার ছেলেরা। এতে বাঁধা দেয় আবুল কাশেম। বাঁধা দেওয়ায় আবুল কাশেম ও তার ছেলেকে মারধর করে লুতু মিয়ার ছেলেরা। এ ঘটনায় ব্রাহ্মণপাড়া থানায় একটি অভিযোগ করা হয়। পুনরায় গত ১২ সেপ্টেম্বর লুতু মিয়ার বড় ছেলের নেতৃত্বে কয়েকজন লোক নিয়ে নালিশী ভুমির গাছ গাছালি কাটতে যায় এতে বাঁধা দিতে গেলে তারা আবারো দেশীয় অস্ত্র সহ ধাওয়া করে। পরবর্তীতে জাকির হোসেনের মা ও ভাইয়ের বউদের নিয়ে আবুল কাশেমকে হত্যার উদ্দেশ্য মারধর করার চেষ্টা করে এসময় ছোট ছেলে শাহরিয়ার নাজিম খলিল আবুল কাশেমকে বাচাতে এগিয়ে আসলে তাকেও হত্যা করে গুম করে ফেলবে হুমকি দেয় ও বলেন নালিশী জায়গায় দেখতে পেলে মেরে বস্তায় বন্দী করে গুম করে ফেলবে। এছাড়াও তারা দুষ্টপ্রকৃতির লোক হওয়ায় মহিলাদের সামনে এগিয়ে দিয়ে হুমকি দেয়ায় যে নারীদের মাধ্যমে মিথ্যাভাবে ফাসিয়ে নারী নির্যাতন মামলা করবে। এ ঘটনায় আবারো ব্রাহ্মণপাড়া থানায় অভিযোগ করেন আবুল কাশেম। অভিযুক্ত আসামীরা হলেন, লুতু মিয়া (৭৭) মো. বাছির (৩৩), মো. নাছির (৩৫), মো. বিল্লাল হোসেন(৪৫) মো. জাকির হোসেন (৪৬), মোসা. জান্নাত আক্তার (৩০), মোসা. তানিয়া আক্তার (৩৫), মোসা. শিউলী আক্তার ( ৪৫)। ভুক্তভোগী আবুল কাশেমের বড় ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম জলিল বলেন, যে জায়গাটা নিয়ে তাদের সাথে আমাদের ঝামেলা সেই জায়গাটা আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি এবং জায়গাটা ১৫/২০ বছর ধরে মাটি ভরাট করে বিভিন্ন ধরনের গাছ গাছালি লাগিয়ে চতুর্দিকে বেড়া দিয়ে আমরা ভোগ দখল করে আসতেছি। কিন্তু লুতু মিয়ার ছেলে আওয়ামী নেতা বাছির, নাছির, বিল্লাল, জাকির তারা চেয়ারম্যানের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্রভাব খাটিয়ে আমাদের জায়গাটি দখল করার চেষ্টা করে। আমার বাবা বাঁধা দিতে গেলে তাকে মারধর করে। এর আগেও একাধিক বার আমার বাবাকে তারা ষড়যন্ত্রভাবে সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর করে। সর্বশেষ তারা আবারো গাছ গাছালি কাটতে গেলে আমার বাবা বাধা দিলে তখন তারা সবাই মিলে আমার বাবার উপরে হামলা করে। আমার ছোট ভাই মোবাইলে ভিডিও করতে গেলে জান্নাত, তানিয়া, শিউলী তার মোবাইল জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। তখন আমার ছোট ভাই দোড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় এবং আমরা ব্রাহ্মণপাড়া থানায় এসে অভিযোগ করি এবং ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের কাছে একটি আবেদন জানাই। এখন আমাদেরকে বাড়িতে ডুকতে দেয় না। বাড়ির পাশে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাছির ঘুরাঘুরি করছে। আমি এবং আমার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি। আমরা প্রশাসনের কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাই। এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা বাছিরকে মুঠোফোনে ফোন করে পাওয়া যায় নি। শিদলাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি কারো পক্ষ নিয়েছি এটা মিথ্যা কথা। আমি একজন চেয়ারম্যান হিসেবে কারো পক্ষ নিতে পারি না। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ এস এম আতিক উল্লাহ সাথে কথা বললে তিনি বলেন তাদেরকে আমার কাছে পাঠান আমি বিষয়টি দেখবো।