২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যার খরস্রোতের কারণে গ্রামীণ সড়কের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। দ্রæত মেরামতের দাবী জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। নিত্যদিনের কাজ কর্মে এই সড়কগুলোতে চলাচল করতে গিয়ে অনেক দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে চাকুরিজীবি, ব্যবসায়ী ও স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা। সড়কগুলোর বেহাল দশা থাকার কারণে প্রায় সময়ই ঘটছে দূর্ঘটনা। বিশেষ করে কুমিল্লা-মীরপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে কালিকাপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে রাজাপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে সাদকপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে পীরযাত্রাপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে গোবিন্দপুর সড়ক, বুড়িচং থেকে নানুয়ার বাজার সড়ক, খাড়াতাইয়া গাজীপুর থেকে নানুয়ার বাজার সড়ক এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা থেকে দুলালপুর সড়ক, মহাল²ীপাড়া থেকে শিদলাই হয়ে মাধবপুর সড়ক, চান্দলা টানা ব্রীজ থেকে দেউস সড়ক, বড়ধুশিয়া থেকে নাগাইশ হয়ে শশীদল সড়ক, নাইঘর থেকে হরিমঙ্গল সড়ক, বারেশ্বর থেকে জিরুইন সড়কগুলো বেশি ক্ষতি হয়েছে। এই সড়কগুলো দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন কাজে বুড়িচং উপজেলা সদর এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করে। এছাড়া বিভিন্ন পেশাজীবি মানুষ তাদের কর্মের কারণে প্রতিদিন কুমিল্লা-মীরপুর সড়ক দিয়ে জেলা শহরে যাতায়াত করে। সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে খানা খন্দক থাকায় এবং ভেঙ্গে যাওয়ার ফলে যাতায়াত করতে অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। বুড়িচং উপজেলার বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ জসিম উদ্দিন জানান, কুমিল্লা থেকে তিনি প্রতিদিন বুড়িচং বাজারে তার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে আসা যাওয়া করেন। আসা-যাওয়ার পথে অনেক কষ্ট হয়। বিশেষ করে বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রী কলেজ গেইট এবং আনন্দ পাইলট সরকারী স্কুল গেইট এলাকায় আসলে ভয়ে আতংকে থাকেন। মোটর সাইকেল চালক রোখসানা বেগম বলেন, তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোটর সাইকেলে করে বুড়িচং আসার সময় হাইস্কুল গেইট এলাকায় দূর্ঘটনার কবলে পড়েন এবং তার একটি পা ভেঙ্গে যায়। তিনি অনেক দিন অসুস্থ ছিলেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট তিনি জোর দাবী জানিয়েছেন, দ্রæত সড়কগুলোর মেরামত করার জন্য। ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রাসেল মিয়া জানান, প্রতিদিন নিজ বাড়ী থেকে ব্রাহ্মণপাড়া সদরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসার সময় অনেক দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। কুমিল্লা-মীরপুর সড়কের অটোরিক্সা চালিত সিএনজি চালক মোঃ গিয়াস উদ্দিন বলেন, সড়কগুলোর বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গা থাকায় গাড়ী চালাতে খুব কষ্ট হয়। গাড়ীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বিভিন্ন পাটস দ্রæত নষ্ট হয়ে যায়। তারপরেও পেটের তাগিদে সড়কে গাড়ী নিয়ে নামতে হয়। গাড়ীর ঝাঁকুনিতে রাতে শরীরে অনেক ব্যাথা করে। মোটর চালিত অটোরিক্সা চালক জসিম উদ্দিন বলেন, মোটর চালিত অটোগুলো অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। একটু অমনোযোগী হলে উল্টে যায়। খুব ঝুঁকি নিয়েই গাড়ী নিয়ে বের হই। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স ম আজহারুল ইসলাম বলেন,এই বছরের বন্যায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪৫০ কোটি টাকা। তবে এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে কোন বরাদ্ধ আসে নাই। এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার বলেন, বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন সড়কের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৮৮ কোটি টাকার অধিক হয়েছে। সড়কগুলো মেরামতের জন্য এলজিইডি অফিসের মাধ্যমে টেন্ডার দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।