কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের কয়েকটি সড়কের অবস্থা খুবই করুন। মানুষ চলাচলে একেবারে অনুপযোগী হয়ে আছে। একটু বৃষ্টি আসলে জলাশয়ে পরিণত হয়। সড়কগুলোর পাশে পরিকল্পিত ড্রেনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি সহজে নিঃস্কাশন হতে পারে না। তাই বৃষ্টির পানি সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় খানা খন্দে পরিনত হয়েছে। বুড়িচং রাজাপুর রেলস্টেশন সড়ক থেকে বুড়িচং কালিকাপুর সড়কের সাথে সংযুক্ত মাদরাসার সড়কটির অবস্থা একেবারে নাজুক। বুড়িচং সিনিয়ার সুন্নিয়া আলিম মাদরাসা থেকে দারুস সালাম মাদানীয়া মাদরাসার দক্ষিণাংশের থানার সড়ক পর্যন্ত বেহাল অবস্থা। এই সড়কটি এক সময় পিচঢালাই ছিল। পরবর্তীতে পিচগুলো উঠে যাওয়ার পর বুড়িচং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানে আলহাজ্ব মোঃ শাহ আলম দায়িত্বকালীন সময় ইটের সলিংয়ের মাধ্যমে সড়কটির সংস্কার কাজ করেন এবং পাশের পানি ড্রেনগুলো বন্ধ করে দিয়ে সড়কের মাঝখান দিয়ে পানি নিঃষ্কাশনের জন্য পাইপ ব্যবহার করেন। ভারি যানবাহন চলাচল করার ফলে পানি নিঃস্কাশনের পাইপগুলো ভেঙ্গে যায়। ফলে পানি নিঃস্কাশন অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে দারুস সালাম মাদানীয়া মাদরাসার পূর্বপাশের ৫তলা বিল্ডিং এবং দক্ষিণ পাশের ৭তলা বিল্ডিংয়ের মালামাল রাখা এবং আনা নেওয়ার ফলে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এই দুই বিল্ডিংয়ের কাজ দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকায় সড়কের উপর মালামাল স্তুপ করে রাখতে হয়েছে। এতে করে পানি নিঃষ্কাশনের পাইপগুলো বন্ধ হয়ে যায় এবং তাদের মালামাল আনাতে বড় বড় ট্রাক্ট্রর চলাচল করায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বুড়িচং গ্রামের আবদুর রাজ্জাক জানান, যতদিন সড়কের দুই পাশের ৫তলা ও ৭তলা বিল্ডিংয়ের নির্মাণ কাজ বন্ধ না হবে, ততদিন এই সড়কের বেহাল দশার শেষ হবে না এবং আমাদের দূর্ভোগের শেষ হবে না। মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ আবদুর রশিদ জানান, সড়কের বৃষ্টির পানি জমা থাকার কারণে দাখিল পরীক্ষার্থীদেরকে নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যেতে বিপাকে পড়তে হয়েছে। কেননা যানবাহন চলাচল করার সময় কাদাযুক্ত পানি শরীরে ছিটকে পড়ে নষ্ট হয়ে যায়। এই সড়কের পাশে দুটি মাদরাসা রয়েছে। মাদরাসার ছাত্রছাত্রী ও অভিভাবকদের আসা-যাওয়াতে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। সোনালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের বুড়িচং মেট্টোর ইউনিট ম্যানেজার মাওলানা মোঃ জাকির হোসেন বলেন- অফিসে আসা যাওয়া করতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। যখন বৃষ্টি হয় তখন বাইক নিয়ে চলাচল করতে খুবই কষ্ট হয়। তখন বুঝাই যায় না কোন জায়গাটি গর্ত আর কোন জায়গাটি ভালো। অতিদ্রæত এই সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন। অপর দিকে কুমিল্লা-মীরপুর এমএ গণি সড়ক থেকে বুড়িচং বাজার সুন্নিয়া মসজিদ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ হয়ে বুড়িচং সরকারী মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার ও মেরামত না করায় জনচলাচলে দূর্ভোগের সৃষ্টি হচ্ছে। সড়কটির এক পাশে অপরিকল্পিত ভাবে ড্রেন নির্মাণ করায় এবং ড্রেনের সাথে সমন্বয় করে সড়কের কাজ না করায় পানি জমে থাকে। সামান্য বৃষ্টি হলে চলাচল করা অসম্ভব হয়ে যায়। ড্রেন থেকে সড়কের অবস্থান নিচু হওয়া ড্রেনের পানি সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ফলে মানুষ চলাচল করা কষ্টকর হয়ে যায়। অপরিকল্পিতভাবে ড্রেন করার ফলে সড়কটি তুলনামূলক সরু হয়ে যায়। যার কারণে দুটি রিক্সা অথবা অটোরিক্সা চলাচল করতে পারে না। দুই দিক থেকে দুটি রিক্সা আসলেই যানজটের সৃষ্টি হয়। এই সড়কটি বুড়িচং বাজারের প্রাণ কেন্দ্র। বিভিন্ন দোকান পাট ও মসজিদ এবং ইউনিয়ন পরিষদ থাকায় জনচলাচল বেশি হয়। সামান্য একটু বৃষ্টি আসলে জনগণের ভোগান্তির শেষ থাকে না। তাছাড়া স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের আসা-যাওয়াতেও চরম দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বুড়িচং বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আবদুল সাত্তার বলেন, এই সড়কের জন্য দীর্ঘ দিন ধরে দুঃখ কষ্ট ভোগ করতে হচ্ছে। সড়কটি সংস্কার ও মেরামত না করায় মালপত্র দোকানে আনতে ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাছাড়া সড়কের বেহাল দশা থাকায় কাষ্টমাররাও সহজে আসতে চায় না। দ্রæত এই সড়কটির সংস্কার ও মেরামত করে জনচলাচলের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন। এই সড়কের ব্যবসায়ী মোঃ জামাল হোসেন বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডার ব্যবসা করছি এই সড়কে। কিন্ত একটু বৃষ্টি হলে আর চলাচল করা যায় না। কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে ক্রেতারা আমাদের দোকানে আসতে চায় না। তাই আমরা ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে খুবই বেহাল অবস্থায় আছি। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের বুড়িচং উপজেলা কমিটির বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আবদুর রশিদ বলেন, বুড়িচং বাজারের প্রাণ কেন্দ্র হলো এই সড়কটি। এখানে ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে, বাজারের কেন্দ্রীয় মসজিদ রয়েছে, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, দলিল লিখক সমিতি এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েরা যাতায়াত করতে খুব কষ্ট হয়। মসজিদে নামাজ পড়তে মুসল্লিদের খুব ভোগান্তি পোহাতে হয়। তাই এই সড়কটি সংস্কার করা অত্যান্ত জররুরী হয়ে পড়েছে। বুড়িচং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আলহাজ¦ জয়নাল আবেদীন বলেন, দুইটি সড়কের বাজেট করা হয়েছে। আগামী উপজেলা সমন্বয় মিটিংয়ে অনুমোদন হয়ে যাবে। অচিরেই এই দুই সড়কের দুর্ভোগ থেকে মানুষ মুক্তি পাবে।