কুমিল্লার বড়ধুশিয়া-শশীদল সড়কে যেন থামছেই না দুর্ঘটনা। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো দুর্ঘটনার খবর মিলছে এই ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক থেকে। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (১৫ মে ) দুপুরে একটি অটোরিকশা উল্টে শিশুসহ তিনজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দ্রুতগতিতে চলাচলের সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অটোরিকশাটি সড়কের পাশে উল্টে যায়। এতে অটোরিকশায় থাকা এক শিশুসহ তিনজন আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর থেকেই বড়ধুশিয়া-শশীদল সড়কের বিভিন্ন অংশ বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো সংস্কার উদ্যোগ নেয়নি। পরে নাগাইশ গ্রামের একদল যুবক স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের কিছু অংশের প্রাথমিক সংস্কার কাজ করলেও এরপর আর কোনো স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
নাগাইশ গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সোহেল মিয়া বলেন, “বন্যার পর সড়কটা একেবারে ভেঙে যায়। আমরা গ্রামের যুবকরা নিজেরা টাকা তুলে ও শ্রম দিয়ে কোনোভাবে চলাচলের উপযোগী করেছি। কিন্তু সরকারি কোনো স্থায়ী কাজ আজও হয়নি।”
স্থানীয় ব্যবসায়ী আবদুল রহিম বলেন, “প্রতিদিন এই সড়কে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
অটোরিকশা চালক মনির হোসেন বলেন, “এই রাস্তায় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। একটু অসাবধান হলেই দুর্ঘটনা ঘটে। অনেক সময় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও ভয় লাগে। রাস্তার অবস্থা ভালো না থাকায় গাড়িরও ক্ষতি হচ্ছে।
নাগাইশ সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তানভীর হোসেন বলেন, উপজেলার একমাত্র সরকারি কলেজ হওয়ায় প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করে। কিন্তু রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কাদা আর গর্তে ভরে যায় পুরো সড়ক। অনেক সময় ঠিকভাবে যানবাহনও চলতে পারে না। প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে কলেজে আসা-যাওয়া করতে হয়।”
আরেক বাসিন্দা রাকিব হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভোটের আগে সবাই উন্নয়নের কথা বলে। কিন্তু ভোট শেষ হলে আর কাউকে দেখা যায় না। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দেখার যেন কেউ নেই। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক, বেপরোয়া যান চলাচল ও চালকদের অসচেতনতার কারণেই দিন দিন বাড়ছে দুর্ঘটনা। দ্রুত সড়কটির স্থায়ী সংস্কার, ঝুঁকিপূর্ণ অংশ মেরামত এবং যান চলাচলে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।