ব্রাহ্মণপাড়ায় ৪৩ বছর ইমামতির পর সংবর্ধনায় সিক্ত ইমাম

লেখক: আতাউর রহমান
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দীর্ঘভূমি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের প্রবীণ ইমাম মাওলানা মো. হাবিবুর রহমানকে অবসরজনিত বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রæয়ারি) জুমার নামাজের আগে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে তাকে এ বিদায়ী সংবর্ধনা দেয় স্থানীয় মুসল্লিরা। সংবর্ধনা পাওয়া ইমাম মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা এলাকার মৃত মাওলানা সৈয়দ মহব্বত আলী আমিরীর ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণপাড়া আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক সহকারী (ধর্মীয়) শিক্ষক। জানা গেছে, মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান ৪৩ বছর উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে খতিবের দায়িত্ব পালন শেষে অবসরে যান। এ নিয়ে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানাতে স্থানীয় মুসল্লিরা নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শুক্রবার জুমার নামাজের আগে বিদায়ী ইমাম ও মুসল্লিদের মধ্যে দোয়া ও ভালোবাসার আদানপ্রদান হয়। এ সময় বিদায়ী ইমামকে সম্মাননা ক্রেস্ট, নগদ টাকা ও নিত্য ব্যবহার্য সরঞ্জাম তুলে দেন মুসল্লিরা। এ সময় স্থানীয় মুসল্লিরাসহ দূরদূরান্তের মুসল্লিরা পৃথকভাবে বিদায়ী ইমামের কাছ থেকে দোয়া গ্রহণ এবং কুশল বিনিময় করেন। এতে ইমাম ও মুসল্লি উভয়েই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। এতে বিদায়ী ইমাম ও মুসল্লিদের মধ্যে ভালোবাসার এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে। পরে ফুল ছিটিয়ে ইসলামি নানা ¯েøাগানে মুখর পরিবেশের মধ্যদিয়ে প্রিয় ইমামকে বিদায় জানানো হয়। স্থানীয় মুসল্লি মো. ওমর সানী বলেন, বিদায়ী ইমাম মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান এই এলাকার মানুষকে দীর্ঘ বছর ধরে ইসলামি শিক্ষা দিয়ে আসছেন। দীর্ঘ বছর ইমামতি করার সুবাদে তাঁর সাথে আমাদের আত্মার সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাঁর পেছনে আমরা ও আমাদের বাপ-চাচারা নামাজ পড়েছেন। তিনি এই এলাকার কোনো মুসল্লির সঙ্গে কখনো রাগ করে কথা বলেননি। আজ অবসরজনিত বিদায়ের দিনে আমরা হুজুরকে যথাসাধ্য সম্মান দেওয়ার চেষ্টা করেছি। স্থানীয় মুসল্লি আমির হোসেন মাস্টার বলেন, মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান দীর্ঘ বছর যাবৎ আমাদের জামে মসজিদে ইমামতি করে আসছেন। এই এলাকার মুসল্লিরা ইমাম সাহেবকে ভালোবাসেন আর ইমাম সাহেবও মুসল্লিদের ভালোবাসেন। উভয়ের ভালোবাসার কারণে তাঁর বিদায়ের সময় আমরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছি। স্থানীয় মুসল্লি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘ বছর তাঁর পেছনে আমরা নামাজ পড়েছি। তিনি একজন নিরহংকারী ও সৎ মানুষ। ইমাম সাহেবের অনাগত দিনগুলো সুখময় হোক। আমাদের মসজিদ থেকে বিদায় নিলেও আমাদের হৃদয়ে তিনি থাকবেন সম্মান ও ভালোবাসার জায়গায়। আমরা তাঁর সুস্বাস্থ্য কামনা করছি। বিদায়ী ইমাম মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান বলেন, আমি এই এলাকারই সন্তান। একসময় আমার বাবা এই এলাকায় বসবাস করতেন। পরে এই এলাকা থেকে উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের টাটেরা এলাকায় বসতি গড়েন আমার বাবা। তিনি বলেন, বিগত অনেক বছর ধরে আমি এই মসজিদে ইমামতি করে আসছি। এই এলাকার মানুষের সেবায় নিয়োজিত ছিলাম। মুসল্লিরা আমাকে ভালোবাসেন এবং আমিও মুসল্লিদের ভালোবাসি। তবে আজকের এই আয়োজনে আমি মুসল্লিদের কাছে চিরঋণী হয়ে গেলাম। মুসল্লিদের এতো ভালোবাসায় আমি সত্যিই মুগ্ধ ও আবেগাপ্লুত হয়েছি। দীর্ঘভূমি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের আবরণী বলেন, মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান আমাদের জামে মসজিদে দীর্ঘ বছর ইমামতি করেছেন। আজ তাঁর বিদায়ী অনুষ্ঠান। প্রিয় মানুষকে বিদায় জানানো সত্যি কষ্টের। তিনি আমাদের অনেককিছু শিখিয়েছেন। আমরা বিদায়ী ইমামের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করছি।

  • ব্রাহ্মণপাড়া