ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি মাস, মাহে রমজান। এই মাসে নামাজ-রোজার পাশাপাশি দান-খয়রাতের হাত প্রসারিত হয় সবার। যা সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভের পাশাপাশি দৃঢ় করে মানবিক মূল্যবোধ। এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণীর সুযোগ সন্ধানী মানুষ প্রকাশ্যে ভিক্ষাবৃত্তি, নামে বেনামে সাহায্য উত্তোলন ও আবেদন করে থাকে। বিষয়টিকে আমলে নিয়ে রমজানের পবিত্রতা ও ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সতর্কতা জারি করেছে দুবাই পুলিশ। শুক্রবার (১ মার্চ) দেশটির শীর্ষ স্থানীয় গণমাধ্যম খালিজ টাইমস এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে রমজান মাসে ভিক্ষার জন্য পাঁচ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা ও জেল হতে পারে। যেখানে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়, ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের আবেগকে পূঁজি করে প্রকাশ্যে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সাহায্যের আবেদন বা ভিক্ষাবৃত্তি করা হচ্ছে। পবিত্র মাস ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করতে নিয়মিত অভিযান শুরু করবে দুবাই পুলিশ। যেখানে অপরাধীদের ন্যূনতম জরিমানা হবে পাঁচ হাজার দিরহাম এবং তিন মাস পর্যন্ত জেল। এ প্রসঙ্গে এক সংবাদ সম্মেলনে দুবাই পুলিশের ওয়ান্টেড পার্সন্স ডিপার্টমেন্টের ডিরেক্টর কর্ণেল সাঈদ আল কেমজি বলেন, ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে দুবাই পুলিশ। ভিক্ষুকরা মানুষের সহানুভূতি ও উদারতাকে পুঁজি করে এবং পবিত্র রমজান মাসে দাতব্য অনুভূতিকে কাজে লাগায়। এই অভ্যাসটিকে নেতিবাচক আচরণ হিসাবে বিবেচনা করা হয় যা সমাজের নিরাপত্তা এবং কল্যাণের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।তিনি আরও বলেন, যারা ভিক্ষাবৃত্তির মতো কার্যক্রম সংগঠিত করে এবং দেশ থেকে নিয়ে এসে এদেশে ভিক্ষাবৃত্তি করতে বাধ্য করে তাদের ছয় মাসের কম কারাদন্ড এবং এক লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। এছাড়াও যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সাহায্য সহযোগিতা দাবি করে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে, দেশটির তথ্য প্রযুক্তি অপরাধ আইন ২০১২ এর অনুচ্ছেদ ৫ অনুসারে, অনুমোদিত লাইসেন্স ব্যতিত কেউ যদি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তহবিল সংগ্রহের অনুরোধ বা প্রচার করে তাকে দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে পাঁচ লাখ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হবে। তাই ভিক্ষাবৃত্তি না করতে এবং দেশটিতে বসবাসকারীদেরকেও ভিক্ষা না দেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। প্রয়োজনে দুবাই পুলিশ অ্যাপ ও ৯০১ নম্বরে কল করে অভিযোগ করতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় এলইডি প্যানেল, এটিএম স্ক্রিন এবং ২৬টি ইউনিয়ন কো-অপ সুপারমার্কেট শাখা জুড়ে ৩০০টি ডিসপ্লে স্ক্রিনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভিক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা করেছে পুলিশ। এছাড়াও শুক্রবার জুম্মার খুতবা ও নামাজের ওয়াক্তে ভিক্ষাবৃত্তি নিরুৎসাহিত করতে বিশেষ বক্তব্য দিয়েছেন ইমামগন। পুলিশের তথ্য মতে ২০২০ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত এক হাজার ৭০০ ভিক্ষুককে আটক করে শাস্তির আওতায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৭ জন নারী এবং এক হাজার ৭ শত ভিক্ষুককে আটক করে শাস্তির আওতায় নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৮৭ জন নারী এবং এক হাজার ২৩৮ জন পুরুষ।