“সীমাহীন ভোগান্তি আর জনদূর্ভোগ” কুমিল্লা-বুড়িচং-মীরপুর সড়কের কাজে ধীরগতির অভিযোগ

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৯ মাস আগে

Spread the love

কুমিল্লা জেলা শহরে প্রবেশের প্রধান মাধ্যম গুলির মধ্যে মেজর এম এ গনি সড়ক অন্যতম। কুমিল্লা শাসনগাছা বাসস্ট্যান্ড থেকে বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া-মীরপুর পর্যন্ত সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ কিলোমিটার। দীর্ঘ এই সড়কের প্রায় পুরোটাতেই শতশত গর্ত আর খানাখন্দে ভরপুর।
বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার, খাড়াতাইয়া ও গাজীপুর এলাকা, বুড়িচং বাজারের বসুন্ধরা চত্বর, কলেজ গেইট ও হাইস্কুল গেইট এলাকা, ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের দক্ষিন পাশে ঈদগা ও কবরস্থান এলাকা যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই ছোট বড় গর্তে পানি জমে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট বড় দুর্ঘটনা। ফলে এ পথে চলাচলকারীদের যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগের শেষ নেই।
স্থানীয়রা জানায়, ২০২৪ সালের আগস্টে বুড়িচংয়ে বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়াসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলা প্লাবিত হয়। এতে বন্যার পানির স্রোতে সড়কটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে ২১ কিলোমিটার সড়কের বেশির ভাগ অংশেই বেহাল অবস্থা। সড়কের মাঝে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। এতে করে বাজারের ব্যবসায়ীদের মালামাল আনা-নেওয়াসহ চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। সরকারী চাকুরীজীবী, ব্যবসায়ী, স্কুল-কলেজ মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ জেলা শহরের সাথে যোগাযোগ করতে জীবনের ঝুকি নিয়েই বের হতে হয়। তাছাড়া রয়েছে ভাড়ার হয়রানী ও দূর্ভোগ।এছাড়া কাঁদা-পানিতে গাড়ি উল্টে লোকসান গুনতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এই দুর্ভোগের কারণে গত এক বছরে পরিবহন চালক ও মালিকরা ভাড়া বাড়িছেন কয়েকগুন।
সরেজমিন দেখা যায়, কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার অংশ পার হয়ে বুড়িচং উপজেলার অংশে প্রবেশ করতেই সড়কের বেহাল দশা চোখে পড়ে। বুড়িচংয়ের ভরাসার, ইছাপুরা, খাড়াতাইয়া, বুড়িচং কলেজ গেইট, হাইস্কুল গেইট, বসুন্ধরা চত্বর এলাকায় খানাখন্দে ভরা সড়কটি। এসব স্থানের অনেক জায়গায় পিচ ঢালাইয়ের কোনো অস্তিত্ব নেই। খাড়াতাইয়া থেকে বুড়িচং উপজেলা সদর এবং ব্রাহ্মণপাড়া সদর থেকে টাটেরা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বেহাল। কয়েকটি স্থানে পিচঢালাই ও সুরকিও বিলীন হয়ে গেছে।
জাকির হোসেন নাঈম নামে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বলেন, এক মাস আগে ইঞ্জিন ডাউন দিয়েছি। রাস্তায় বড় বড় গর্তের কারণে আবারও ইঞ্জিন ডাউন দিতে হয়েছে। প্রতিবারে ২০ হাজার করে মোট ৪০ হাজার খরচ হয়েছে। যাত্রীদের কাছে ১০ টাকা বাড়তি ভাড়া চাইলে বাকবিতণ্ডা হয়। আমরা দ্রুত এই সড়ক সংস্কার চাই। ইতিমধ্যে
সড়কটি কিছু অংশ সংস্কার ও মেরামতের জন্য কাজ শুরু হয়েছে।
হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যাল ওষুধ কোম্পানীর রিজিওনাল ম্যানেজার মোঃ আক্তার হোসেন বলেন,আমি আমার কর্ম এলাকায় আসা যাওয়ার পথে বুড়িচং ও ভরাসার বাজারের অবস্থা খুবই করুণ দেখতে পাই এবং ভোগান্তি পোহাই। যাত্রী ও চালকদের অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এই দূর্ভোগের শেষ কোথায়?
বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন এর কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মোঃ শামীমুল ইসলাম বাবুল বলেন, বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়াবাসীর দূর্ভোগ লাঘবে এই সড়কের কাজটি দ্রুত সম্পূর্ণ করা জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষণ করছি। কাজের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান
এম এস জামান এন্টারপ্রাইজের দায়িত্বশীল হাজী মীর কাশেম বলেন, খাড়াতাইয়া বাজারের পূর্ব পাশে রাস্তার খালের মাটি রাতের আধারে বিক্রয় করায় রাস্তা ভেঙ্গে গেছে। তাই কাজটি ধীরগতিতে হচ্ছে। এছাড়া বন্যায় রাস্তাটি বিভিন্ন স্থানের মাটি নরম হয়ে আছে ফলে কাজে থিকনেস ঠিক রাখার জন্য সময় নিয়ে কাজটি করা হচ্ছে। তবে বাজারের অংশগুলো আমাদের কাজের মধ্যে নেই। এগুলোর জন্য আবার ট্রেন্ডার দেওয়া হবে।কুমিল্লা থেকে বুড়িচং মুকিব ব্রীজ পর্যন্ত তার মধ্যে শাসনগাছা থেকে মোল্লা বাড়ী, সোনার বাংলা কলেজ থেকে আজাদ মিয়ার বাড়ীর মসজিদ পর্যন্ত, খাড়াতাইয়া বাজারের উত্তর দিকে ৭০ মিটার, বুড়িচং খাদ্য গোদাম থেকে মুছি বাড়ীর পর্যন্ত আমাদের কাজের অংশ না।
বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলী মহোদয় ভিজিট করেছেন গত সপ্তাহে। ম্যাটেরিয়াল ল্যাব টেস্ট করাসহ যাচাই করে দেয়া হচ্ছে। সামনে কাজের ধাপ আরও রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে এই সড়ক সঠিকভাবে তৈরি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আছে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কের কাজ নিদির্ষ্ট সময়ে সম্পন্ন হবে। সড়কে ব্যবহার করা পাথরগুলো পরিক্ষা করে সঠিক পাওয়া গেছে। এখানে নিন্মমানের কোন পাথর ব্যবহার করা হচ্ছে না। যত দ্রুত সম্ভব এ সড়কের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

  • কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া