কুমিল্লা জেলার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় পশু ক্রয় বিক্রয়ের জন্য ৩৮টি অস্থায়ী পশুর হাট বসছে। তারই আলোকে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট এবং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় হতে ১৭টি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। দুই উপজেলার হাটগুলোতে বিক্রয়ের জন্য বিভিন্ন খামার ও বাড়িতে লালিত পালিত প্রায় ৩৪ হাজার পশু প্রস্তত রয়েছে বলে প্রাণী সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়। তার বিপরীতে কুরবানী দাতাদের চাহিদা রয়েছে প্রায় ২০ হাজার পশুর। চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় হাট বাজার গুলোতে এ বছর পশুর সংকট থাকবে না। তবে যদি ভারতীয় গরু নেমে আসে তাহলে খামারীদের ক্ষতি হবে। বুড়িচং উপজেলায় ২১টি অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে রাজাপুর ইউনিয়নে ২টি, বাকশীমূল ইউনিয়নে ৩টি, বুড়িচং সদর ইউনিয়নে ২টি, ষোলনল ইউনিয়নে ৬টি, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নে ২টি, মোকাম ইউনিয়নে ৪টি, ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নে ২টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদানের জন্য দরপত্র আহবান করা হয়েছে। রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল, দক্ষিণগ্রাম, বাকশীমূল ইউনিয়নের কালিকাপুর, ফকির বাজার সংলগ্ন এবং বাকশীমুল বাজার, বুড়িচং সদর, পূর্ণমতি, ষোলনল ইউনিয়নের খাড়াতাইয়া নতুন বাজার, ভরাসার বাজার, পয়াত, পূর্বহুড়া, ষোলনল বাবুর বাজার, কামারখাড়া ব্রীজ সংলগ্ন, পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর, কন্ঠনগর, মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই, নিমসার বাজার, পরিহলপাড়া, আবিদপুর, ভারেল্লা উত্তর ইউনিয়নের কংশনগর এবং লাটিয়ারপুল। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ১৭টি গবাদি পশুর অস্থায়ী হাট বসবে। এর মধ্যে মাধবপুর ইউনিয়নে ১টি, শিদলাই ইউনিয়নে ১ টি, চান্দলা ইউনিয়নে ১ টি, শশীদল ইউনিয়নে ৪টি, দুলালপুর ইউনিয়নে ২টি, ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নে ২টি, সাহেবাবাদ ইউনিয়নে ২ টি, মালাপাড়া ইউনিয়নে ৪টি অস্থায়ী গবাদি পশুর হাট বসবে। মাধবপুর ইউনিয়নের কান্দুঘর বাজার সংলগ্ন, শিদলাই ইউনিয়নের শিদলাই সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন, চান্দলা ইউনিয়নের চান্দলা বলগ্রাম ডা. নুরুল হকের বালুর মাঠ, শশীদল ইউনিয়নের সেনের বাজার, নাগাইশ বাজার, হরিমঙ্গল বাজার, দেউষ মার্কেট, দুলালপুর ইউনিয়নের দুলালপুর বাজার, গোপালনগর কুড়েরপাড় সিদ্দিক মেম্বার বাড়ী সংলগ্ন ব্রাহ্মণপাড়া সদর ইউনিয়নের ব্রাহ্মণপাড়া ওশান হাই স্কুলের সামনের খালি জায়গায়, ধান্যদৌল বাজার সংলগ্ন, সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিরুইন বটতলী বাজার, টাকই কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ সংলগ্ন, মালাপাড়া ইউনিয়নের রামনগর বাজার,৷ আছাদনগর কলেজ গেইট, মনোহরপুর চৌমুহনী পুকুর পাড় এবং অলুয়া দক্ষিণপাড়া অস্থায়ী পশুর হাট বসবে। ব্রাহ্মণপাড়ার প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে ৯ হাজার গরু, ৩ হাজার ছাগল, ৪টি ভেড়া ও ৮টি মহিষ রয়েছে। অপর দিকে এই উপজেলায় চাহিদা রয়েছে ৯হাজার পশুর। চাহিদার তুলনায় বেশি পশু প্রস্তুত থাকায় এ বছর কুরবানী ঈদে পশুর সংকট হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ ইজমাল হাসান বলেন, আসন্ন ঈদুল আযহার জন্য ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। খামারিরা নিয়ম মেনে পরিকল্পণা মাফিক প্রক্রিয়াজাত খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট ওযুধ ব্যহবার করে পশু লালন পালন করছেন। বুড়িচং উপজেলা উপ-সহকারী প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণী স্বাস্থ্য) ডাক্তার জয়নাল আবেদীন বলেন, বুড়িচংয়ে কুরবানীর জন্য প্রস্তত রয়েছে ১৪ হাজার ৬শত গরু, ৭ হাজার ২শত ছাগল, ৪৭০টি ভেড়াসহ ২২হাজার ২শত ৭০ পশু। এর মধ্যে কুরবানীর জন্য চাহিদা রয়েছে ১১হাজার ২শত টি পশু। চাহিদার তুলনায় প্রায় ১১হাজার ৭০টি পশু বেশি রয়েছে। বুড়িচং উপজেলা সদরের মেসার্স নাবিদ এগ্রো ফার্মের মালিক মোঃ গোলাম মোস্তফা বলেন, এই বছর তার ফার্মে দেশি শাহিওয়াল ও ফিজিয়ান জাতের ৩২টি গরু লালন পালন করেছেন। বর্তমানে গরুর খাদ্যর দাম বৃদ্ধির ফলে খামারের ব্যয়ভার অনেক বেড়ে গেছে। তিনি আশাবাদী কুরবানী দাতাদের চাহিদা থাকায় ভালো দাম পাবেন। তবে আশংকা করছেন যদি ভারতীয় গরু নেমে আসে তাহলে তাদের লোকসান গুণতে হবে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট দাবী জানান, দেশিয় খামারীদের রক্ষার্থে ভারতীয় গরু যেন নেমে আসতে না পারে সে বিষয়ে যথাযথ প্রদক্ষেণ গ্রহন করবেন প্রশাসন। সচেতন মহল মনে করেন এ বছর ঈদুল আযহা উপলক্ষে যদি ভারতীয় গরু অবৈধভাবে বাংলাদেশে না আসে, তাহলে দেশীয় গরুর খামারীদের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতারা নিজেদের চাহিদা মতো পশু ক্রয় বিক্রয় করতে পারে। দেশি খামারীরা পশু পালনের কারণে চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। তাই ভারতীয় গরু যেন রাতের আধারে দেশে পাচার হয়ে না আসতে পারে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন গবাদি পশু ব্যবসায়ীরা।