“সড়ক সংস্কারের কাজ চলমান” “চরম দূর্ভোগে যাতায়াত করছে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ার জনগন”

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ মাস আগে

Spread the love

কুমিল্লা-মীরপুর এম এ গণি সড়কের বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার, খাড়াতাইয়া- গাজীপুর এলাকা, বুড়িচং সদর বাজার এলাকা এবং ব্রাহ্মণাপাড়া উপজেলা সদর এলাকায় সড়কে সংস্কারের কাজ চলমান থাকায় দুই উপজেলার জনগণের ললাটে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। ২০২৪ইং সালে গোমতী নদীর বাঁধ ভাঙ্গায় ভয়াবহ বন্যা পরবর্তীতে দুই উপজেলার ছোট বড় প্রায় সব সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। বিশেষ করে কুমিল্লা- মীরপুর এম এ গণি সড়কের অবস্থা করুণ হয়ে যায়। এই সড়কটি দুই উপজেলার সকল শ্রেণী পেশার মানুষের জেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম হওয়ায় প্রতিদিনই যানবাহনের চাপ বাড়ছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জনদূর্ভোগ। মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করার জন্য সড়কটির সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হয়। কুমিল্লা শহরের শাসনগাছা থেকে বুড়িচং উপজেলার ভরাসার বাজার পর্যন্ত পিচ, ভরাসার বাজারের আরসিসি ঢালাই, ভরাসার বাজার থেকে খাড়াতাইয়া নতুন বাজার পর্যন্ত পিচ, খাড়াতাইয়া নতুন বাজার এলাকায় আরসিসি ঢালাই, খাড়াতাইয়া নতুন বাজার থেকে বুড়িচং খাদ্যগুদাম পর্যন্ত পিচ, বুড়িচং খাদ্যগুদাম হতে সরকারী হাসপাতালের নিকট মুচি বাড়ী পর্যন্ত আরসিসি ঢালাই এবং ব্রাহ্মণপাড়া বাজারের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স থেকে ভগবান সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ চলমান থাকায় জনদূর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। কুমিল্লা থেকে বিভিন্ন সড়ক ঘুরে ভাঙা রাস্তা দিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা জ্যামে আটকিয়ে থেকে চরম ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে মানুষ। বর্তমান পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, জরুরী কিংবা একান্ত প্রয়োজন ছাড়া কেউ এই সড়কে যাতায়াত করতে চাচ্ছে না। বুড়িচং থেকে কুমিল্লায় আসা-যাওয়া করতে কিংবা ব্রাহ্মণপাড়া থেকে কুমিল্লায় আসা-যাওয়া করা যেন নিয়মিত যুদ্ধে রুপ নিয়েছে। কখনো ধূলো বালির সাথে যুদ্ধ, আবার কখনো গাড়ীর চালকদের সাথে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে যুদ্ধ কিংবা যানজটের সাথে যুদ্ধ করতে হচ্ছে। এছাড়াও মুল সড়ককে বাদ দিয়ে ফাঁড়ি সড়কে চলাচল করতে গিয়ে বিভিন্ন ভাবে দূর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের তেমন কোন ফাঁড়ি সড়ক নেই। এতে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয়। বুড়িচং সদর বাজারের দুই পাশ দিয়ে দুটি সরু বাইপাস সড়ক রয়েছে। বুড়িচং পল্লী বিদ্যূৎ অফিস থেকে কলেজ গেইট এবং উত্তর বুড়িচং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে মনোহর আলী ফকির বাড়ী হয়ে উপজেলার পূর্বপাশ দিয়ে কলেজ গেইট পর্যন্ত। তবে দুটি সড়ক অত্যান্ত সরু হওয়ায় দুটি গাড়ী চলাচল করতে পারে না, কিংবা কোন মালবাহী ট্রাক্ট্রর চলাচলের সময় অনেক যানজটের সৃষ্টি হয়। অনেকে আবার বিকল্প সড়ক হিসেবে গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ দিয়ে নানুয়ার বাজার হয়ে আগানগর দিয়ে এমএগনি সড়কে উঠে। এই সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙ্গাচরা থাকায় যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। কুমিল্লাগামী একজন যাত্রী বলেন, বর্তমানে বুড়িচং থেকে কুমিল্লায় যাওয়া মানেই নিজের সাথে একরকম যুদ্ধ করার সামিল। কোন প্রয়োজন ছাড়া এই সড়কে বের হতেই ভয় লাগে। বুড়িচং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মোঃ মোসলেহ উদ্দিন বলেন, সড়কের সংস্কার কাজ চলমান থাকায় কোন কাজে কুমিল্লা থেকে বুড়িচং আসতে মন চায় না। ভাঙ্গাচূরা এই সড়কে চলাচল করতে অনেক ভয় হয়। একরকম বাধ্য হয়েই ব্রাহ্মণপাড়া ও বুড়িচংয়ের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকুরীজিবীরা প্রতিদিন এ সড়কে যাতায়াত করে থাকে। ব্রাহ্মণপাড়াগামী যাত্রী লোকমান বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া ঈদগা কবরস্থান এলাকায় পৌঁছলে এই সড়কে চলাচল করার সাধ মিটে যায়। এলাকাবাসীর দাবী যত দ্রæত সম্ভব রাতে-দিনে হলেও সড়ক সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করতে প্রশাসন যেন কঠোর ভুমিকা রাখেন।

  • বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া