মসলার ট্রাক লুট করতেই খুন করা হয় মমিনকে

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ years ago

Spread the love

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে ঝোঁপ থেকে জামালপুর মেলান্দহ পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ মমিনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। কাউন্সিলর মুমিনের ভাই আমিনুল ইসলাম বাদি হয়ে বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) সকালে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। পরে এদিন দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে মমিনের মরদেহ তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, গত ১৫ মার্চ জামালপুর থেকে ব্যবসায়িক কাজে কক্সবাজারের চকরিয়ায় যান কাউন্সিলর মোঃ মমিন। সেখান থেকে আনুমানিক ৩০ লাখ টাকার হলুদ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ফিরছিলেন তিনি। মসলাবোঝাই ট্রাক ছিনিয়ে নিতে চালক-হেলপার মিলে মমিনকে খুন করে। তবে পুলিশ বলছে, ব্যবসায়িক-রাজনৈতিক সব দিক বিবেচনায় এনে হত্যাকান্ডের তদন্ত করা হচ্ছে। বুধবার (২০ মার্চ) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গাংরা এলাকা থেকে হাত-পা বাঁধা এবং মুখে স্কচটেপ পেচানো এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জানা যায়, তিনি জামালপুর জেলার মেলান্দহ পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর মোঃ মমিন। পেশায় তিনি একজন মসলা ব্যবসায়ী। গত ১৫ মার্চ কক্সবাজারের চকোরিয়ায় যান মসলা কিনতে, ১৯ তারিখ হলুদ বোঝাই ট্রাক নিয়ে ফেরার পথে সন্ধ্যা থেকে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। এরপরই ২০ মার্চ তার হাত-পা বাঁধা মরদেহ মিলে মহাসড়কের পাশের ঝোপে। লাশ নিতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আসা কাউন্সিলর মমিনের ছোট ভাই আমিনুল ইসলাম জানান, যতটুকু জানি চকরিয়া থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকার হলুদ কিনে জামালপুর ফিরছিলেন তিনি। আমাদের ধারনা ট্রাকের মসলা লুট করতেই নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় মমিনকে। হাত-পা বেঁধে ফেলে দেওয়া হয় মহাসড়কের পাশে। তার মুখেও স্কচটেপ দিয়ে আটকানো ছিলো। কাউন্সিলর মমিনের মামাতো ভাই বাদশা মিয়া জানান, কাউন্সিলর মমিন চকরিয়া থেকে বাড়ি রওনা হবার আগে তার ছেলের কাছে ট্রাকের নম্বর, চালক ও হেল্পারের নাম জানান। সেই সূত্র ধরে চলছে তদন্ত । এই ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মোঃ মমিন তিন বছর আগে মেলান্দহ পৌরসভার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি মেলান্দহ পৌরসভার দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমরা দ্রæত সময়ের মধ্যে মরদেহটির পরিচয় শনাক্ত করেছি। আশা করছি দ্রæততম সময়ের মধ্যে হত্যাকান্ডে জড়িতদেরও ধরতে পারবো। পরিবারের ধারণা, ৩০ লাখ টাকার হলুদ ছিনতাই করতে এই হত্যাকান্ড। তবে আমরা তদন্ত করবো। তদন্ত করে বিস্তারিত বলা যাবে। এখানে কোনও রাজনৈতিক বিষয় জড়িত থাকলেও তা বের করা হবে।

  • চৌদ্দগ্রাম