ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় লিচুর বাম্পার ফলন

লেখক: হাবিবা বদরুন্নেছা
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

মধু মাসের রসালো ও মিষ্টি ফল লিচু। গ্রাম জুড়েই রয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য লিচু বাগান। প্রতিটি বাগানের গাছের থোকায় থোকায় ঝুলছে লিচু। যেদিকেই চোখ যায় লাল রঙের সমাহার। এমন মন মাতানো দৃশ্য চোখে পড়বে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায়। এ উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের অন্তত ৩০টি গ্রামের শতাধিক চাষী লিচু চাষ করে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতি উন্নয়নে যথেষ্ট ভূমিকা রাখছে। এখানকার লিচু রসালো ও মিষ্টি হওয়ায় জেলাসহ বিভিন্ন স্থানে রয়েছে এর কদর। লিচু চাষে শতাধিক মানুষের ভাগ্য ফিরেছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় বাজারে লিচু বেচাকেনা জমজমাট হয়ে উঠেছে। বেচাকেনাতে যোগ দিচ্ছেন স্থানীয় চাষি, ব্যবসায়ী ও পাইকাররা। আবহাওয়ার কারনে এ মৌসুমে লিচুর ফলন কিছুটা কম হলেও বিক্রিতে ভাল দাম পাওয়ায় চাষিরা খুবই খুশি। মিষ্টি ও রসালো লিচুর ভরা মৌসুমে এ উপজেলায় বর্তমানে চলছে উৎসবের আমেজ। দূর-দূরান্তের মানুষ আসছেন লিচু কিনতে। এখান থেকে লিচু কিনে পাইকাররা বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করছেন। খুচরায় প্রতি ১০০ লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০টাকায়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার দূর্গাপুর, উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর, চানপুর, আমোদাবাদ, রাজাপুর, আনোয়ারপুর, মনিয়ন্দের ঘাঘুটিয়া, খারকোট, মিনার কোট নিলাখাতসহ বেশ কয়েকটি গ্রামে চাষীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। লিচু গাছ থেকে পেড়ে বাজার জাত করতে নারী পুরুষসহ সব বয়সের লোকজন এ কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ আবার দিনমজুর হিসাবেও এখানে কাজ করছেন। এখানে দেশীয়, চাইনা, পাটনাই ও বোম্বাই জাতের লিচু চাষ হয় বেশী। এ লিচুর বৈশিষ্ট্য হল উৎপাদন বেশী হয় ও পোকা মাকড়ের আক্রমন তুলনামূলক কম হয়। এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন সড়ক পথে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, আশুগঞ্জ, ভৈরব, নরসিংদী, কসবা, কুমিল্লা, মাধবপুর, শায়েস্তাগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকাররা লিচু বিক্রি করছেন। এখানকার এমন কোন বাড়ি নেই যার আঙ্গিনায় ৮-১০ টি লিচু গাছ নেই। গাছে গাছে লাল লিচুতে রঙ্গিন হয়ে আছে পুরো এলাকা। গ্রাম জুড়ে এখন গাছ ভর্তি লিচু আর লিচু। থোকায় থোকায় বাহারি লিচুতে যেন সবার মন কাড়ছে। সেই সাথে লিচুর মৌ মৌ গন্ধ আর ছোট পাখিদের কিচির মিচির শব্দে এলাকা এখন মুখরিত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় একাধিক লিচু চাষি জানায়, এ মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হওয়ায় লিচুর ক্ষতি হয়। গত বছরের চাইতে লিচু ফলন কম হলেও বিক্রিতে ভালো দাম পাওয়া যাচ্ছে। কর্মমঠ রাজমঙ্গলপুর গ্রামের লিচু চাষি মো. হারুণ মিয়া বলেন, বাড়ি সংলগ্ন অন্যান্য ফল গাছের পাশাপাশি তার প্রায় ৩০ টি লিচু গাছ রয়েছে। প্রত্যেকটি গাছে লিচু এসেছে। স্থানীয় বাজারে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছে বেচাকেনা। এ পযর্ন্ত ১২ হাজার টাকার লিচু বিক্রি হয়েছে বলে জানায়। গত বছর এ বাগান থেকে ১লাখ টাকার উপর লিচু বিক্রি হয়েছে। এবার বৃষ্টিপাতের অভাবে ফলন কিছুটা কম হয়েছে। তারপরও নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ও অন্যান্য খরচ বাদে লিচু থেকে প্রায় ৮০ হাজার টাকার উপর আয় হবে বলে তিনি জানান।

  • ব্রাহ্মণবাড়িয়া