ব্রাহ্মণপাড়ায় দুর্নীতির দায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের পদ শূন্য ঘোষণা

লেখক: গাজী রুবেল
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও তার পরিষদের মেম্বারদের অনাস্থাসহ বিভিন্ন অভিযোগের দায়ে চেয়ারম্যানের পদ থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মো: নূরে আলমের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চান্দলা ইউপি চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। গত ১৫ জুলাই চান্দলা ইউনিয়নের ১০ জন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যন ওমর ফারুককে অনাস্থা ও অপসারণের দাবীতে ২৩ টি দুর্নীতির অভিযোগ করে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসন বরাবর দুটি লিখিত স্মারকলিপি দেন। অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে তৎকালীন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ ফারহানা পৃথাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। সে সময় বিশেষ সভায় পর্যবেক্ষকের উপস্থিতিতে উক্ত ইউনিয়ন পরিষদের ১০ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। পরবর্তীতে সরেজমিনে তদন্ত করে ৭ টি অভিযোগ প্রমাণীত হয় বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ গুলো হলো- ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক আদায়কৃত হোল্ডিং ট্যাক্স এর অর্থ আত্মসাৎ, বিগত ১৩ মাস যাবৎ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যগণকে সম্মানি ভাতা প্রদান না করা, বিভিন্ন সরকারি উন্নয়নমূলক কাজ- কাবিখা, টিআর ও এলজিএসপি’র প্রকল্প দাখিলের সময় চেয়ারম্যান এককভাবে প্রকল্প গ্রহণ, নিয়মিত অফিস না করার কারণে জণগনের ভোগান্তি সৃষ্টি হওয়ায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ব্যহত হওয়া, গর্ভবতী মহিলাদের ভাতার কার্ড কোন প্রকার সভা ছাড়াই চেয়ারম্যান নিজের সিদ্ধান্তে ভাতাভোগী নির্বাচন করার অভিযোগ, ২০২২-২০২৩ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছর পর্যন্ত ১% এর টাকা থেকে মোট ২০টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪টি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ এবং বড়ধুশিয়া জিয়াউল হকের দোকান হতে বাছিরের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসি ঢালাই প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ আত্মসাৎ। উক্ত ইউপি চেয়ারম্যান ওমর ফারুক এর বিরুদ্ধে ১০ (দশ) জন সদস্য কর্তৃক অনাস্থা ও আনীত অভিযোগ গুলো প্রমাণীত হওয়ায় জনস্বার্থে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করা সমীচীন হবে না মর্মে বিবেচিত হওয়ায় জেলা প্রশাসক, কুমিল্লা এর প্রেরিত অনাস্থা প্রস্তাবটি সরকার কর্তৃক স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে অনুমোদিত হয়েছে। জনস্বার্থে অনাস্থা প্রস্তাবটি অনুমোদিত হওয়ায় ৩নং চান্দলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক এর পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মাহমুদা জাহান বলেন, চান্দলা ইউনিয়নের ১০ জন ইউপি সদস্য চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও ২৩টি দুর্নীতর অভিযোগ করেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দ ফারহানা পৃথাকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ করা হয়। তদন্তে ৭ টি অভিযোগ প্রমাণীত হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান ওমর ফারুককে অপসারন করা হয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনটি ইতিমধ্যে আমি হাতে পেয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • ব্রাহ্মণপাড়া