ব্রাহ্মণপাড়ার দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ মুসলিম ঐক্যের জীবন্ত নিদর্শন

লেখক: মোঃ দুলাল ভূঁইয়া
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

বাংলাদেশের ধর্মীয় ও স্থাপত্য ঐতিহ্যের ধারায় কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ একটি গৌরবময় নাম। প্রায় ৪৭০ বছরের পুরোনো এই মসজিদটি ইতিহাসের অনেক মুহূর্তকে নীরবে ধারণ করে রেখেছে। প্রতœতাত্বিক বৈশিষ্ট্যে ভরপুর প্রাচীন এই মসজিদটি এক সময় চুনা সুরকি দিয়ে সারে তিন ফুট প্রসস্থ দেয়াল দ্বারা ১৭ জনের মূল মসজিদের কাঠামো। কিন্তু মসজিদের আধ্যাত্মিক গুরুত্ব, ঐতিহাসিক মূল্য ও স্থানীয় জনগণের ভালোবাসায় ২০০৬ সালে এটি পূর্নাঙ্গ পুনঃসংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইতিহাস বলছে, এই মসজিদটি নির্মাণ করেন তৎকলীন সময়ে ইয়েমেন থেকে আগত ধর্মপ্রাণ তিনজন আপন ভাই শেখ রহিম, শেখ সমর ও শেখ মঙল। তারা মসজিদটি নির্মাণ করেন চুনা সুরকি ব্যবহার করে। যার দেয়াল সারে তিন ফুট পুরু। পরবর্তী সময়ে যুগে যুগে মসজিদটি সমাজের উপযুক্ত নেতৃত্বে বংশ পরম্পরায় সংস্কার হয়ে আসছে। গোলাম জাকারিয়া ভূঁইয়া যিনি বর্তমানে মসজিদের মুতওয়াল্লী হিসাবে দ্বায়িত্ব প্রহণ করেছেন। তিনি ২০০৬ সালে হতে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তার এবং গ্রামের ধর্মপ্রাণ ভাইদের সার্বিক সহযোগিতায় মসজিদটি আজ এ নবরূপ ধারন করেছে। পুনঃর্র্নিমাণে আধুনিক স্থাপত্য ও পুরাতন মসজিদের ডিজাইনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে ঐতিহ্যবাহী ইসলামিক ডিজাইনের সমন্বয় রেখে এর পূর্নাঙ্গ ডিজাইন করা হয়। এর আয়তন বৃদ্ধি করে দুই তলা বিশিষ্ট একটি নান্দনিক মসজিদ নির্মিত হয়, টাইলসে মোড়ানো মেঝে, মনোরম মিনার, সুবিশাল নামাজঘর ও চোখধাঁধানো গম্বুজ। রাতে আলোকসজ্জায় মসজিদটি হয়ে ওঠে সত্যিই নান্দনিক এক উপাসনালয়। মসজিদটি কেবল নামাজের স্থান নয়, এটি আজ এক সামাজিক মিলনকেন্দ্র, ধর্মীয় শিক্ষার পাঠশালা ও প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিশ্বাসের ধারক। এরপর ২০১৬ সালে মসজিদের সামনে অতিরিক্ত সারে দশ শতাংশ জমি ওয়াকফা করা হয়,যা মসজিদের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে নির্ধারিত। দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের এই রূপান্তর শুধুমাত্র স্থাপত্য উন্নয়ন নয়-এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আস্থার এক চিরন্তন প্রকাশ। যুগের পর যুগ এই নান্দনিক উপাসনালয়টি সকল মুসলিম ভাইদের হৃদয় ছোঁয়ে থাকুক এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। মসজিদ নিয়ে আগামীর স্বপ্ন আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদকে ঘিরে ভবিষ্যতে আরও উন্নয়ন পরিকল্পনা রয়েছে। মসজিদের সামনের জায়গায় একটি আধুনিক ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের ডিজাইন ইতোমধ্যেই প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত কমপ্লেক্সে থাকবে ওজুখানা ও বাথরুম, ইমাম ও খতিব সাহেবের জন্য পৃথক দুটি কক্ষ, মূল গেইটের অপর পাশে একটি ইসলামিক পাঠাগার, চারপাশে থাকবে দৃষ্টিনন্দন লাইটিং, মাঝখানে থাকবে একটি সৌন্দর্যবর্ধক পানির ঝর্ণ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে- মসজিদটি হবে শুধুমাত্র নামাজ আদায়ের স্থান নয়, বরং একটি সম্পূর্ণ ইসলামিক কমিউনিটি সেন্টার যা আগামীর প্রজন্মের ধর্মীয়, নৈতিক ও সামাজিক চেতনা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কেবল এক স্থাপনা নয়-এটি ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঈমান এবং মুসলিম ঐক্যের জীবন্ত নিদর্শন। লেখকঃ মোঃ দুলাল ভূঁইয়া। সম্পাদক দিঘীরপাড় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কমিটি।

  • ব্রাহ্মণপাড়া