কুমিল্লা জেলার বিখ্যাত শাহাপুর দরবার শরীফের খলিফা এবং বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের আগানগর এলাকার হাজী গফুর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শাহাপুর দরবার শরীফের বিভিন্ন খানকা পরিচালনা করতেন। এলাকায় আগানগরের হাজী সাহেব নামে পরিচিত ছিলেন। তিনি নামাজ রোজা আর রাসুল সাঃ এর প্রেম ও ধ্যানে মশগুল থাকতেন। তার কবর নিয়ে ঘটে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মৃত্যুর ১২২ দিন পর কবর খুঁড়ে দেখা গেল, অক্ষত অবস্থায় রয়েছেন প্রবীণ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি হাজী আব্দুল গফুর আল ক্বাদরী। এই দৃশ্য দেখে বিস্মিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা, ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকা থেকে কৌতূহলী জনতা ভীর জমায়।
ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (২২ জুন ২০২৫) সন্ধ্যায়। ওইদিন পরিবারের সদস্যরা স্বপ্নে পাওয়া বার্তা ও ধর্মীয় পরামর্শ অনুযায়ী কবর খুঁড়ে মরদেহ উত্তোলন করেন। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহ পুনরায় ইট-সিমেন্ট দিয়ে পাকা করে অন্য স্থানে দাফন করা হয়।
জানা যায়, হাজী আব্দুল গফুর আল ক্বাদরী ষোলনল ইউনিয়নের আগানগর গ্রামের বাসিন্দা এবং সিরাজ চেয়ারম্যান বাড়ির একজন সম্মানিত ব্যক্তি ছিলেন। তিনি চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল প্রায় ১০০ বছর।
হাজী গফুর আল ক্বাদরী ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য, শাহপুর দরবার শরীফের মুরিদ এবং বুড়িচং উপজেলা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। তিনি ছিলেন আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত বুড়িচং উপজেলা শাখারও প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
নিহতের সন্তান মাওলানা মিজানুর রহমান আল ক্বাদরী, হাজী মো. মনিরুল ইসলাম, প্রভাষক গোলাম মোস্তফা ও হাফেজ মো. মাহবুব আলম জানান, টানা বৃষ্টির কারণে কবরের ভেতর পানি জমে গেলে পরিবারের একাধিক সদস্য নিয়মিত স্বপ্নে দেখতেন যে, তাদের পিতা কবরের ভেতর কষ্টে আছেন। বিষয়টি শাহপুর দরবার শরীফের হুজুরকে জানালে তিনি কবর খুঁড়ে দেখার পরামর্শ দেন।
পরে ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ী এলাকাবাসী ও আত্মীয়স্বজনদের উপস্থিতিতে কবর খুঁড়ে দেখা যায়, সাদা কাফনের কাপড়সহ মরদেহ অক্ষত অবস্থায় রয়েছে। কোনো গন্ধ বা পচন ছিল না। এটি দেখে উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসজল হয়ে ওঠে।পরিবারের সদস্যরা মরদেহ পুনরায় নতুন কবরস্থানে ইট দিয়ে পাকা করে দাফন করেন।
হাজী গফুর আল ক্বাদরী জীবদ্দশায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ও নিয়মিত রোযা পালন করতেন। তিনি ১০ বার হজ্ব ও ২৯ বার ওমরাহ পালন করেন। ধর্মীয় এবং সামাজিক সকল ভালো কাজে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতেন। মৃত্যুকালে তিনি ৪ ছেলে ও ৪ মেয়ে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বুড়িচং প্রেসক্লাবের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক গীতি কবি আক্কাস আল মাহমুদ হৃদয় ও দপ্তর সম্পাদক মোঃ সাফি, স্থানীয় আব্দুর সাত্তার মেম্বার, হাজী আবুল কাশেমসহ অনেকে জানান,যেভাবে ১২২ দিন আগে দাফন করা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। লাশের হাত-পা বা চেহারায় সামান্যতম পরিবর্তন হয়নি। এটি একটি অলৌকিক ব্যাপার।
বুড়িচং উপজেলা ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মো. গোলাম হাসান বলেন,যারা দুনিয়াতে ভালো কাজ করেন, আল্লাহ তাদেরকে এমন পুরস্কার দেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে দেখেছি, তিনি খুবই পরহেজগার, নরম স্বভাবের ও ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি ছিলেন।