ব্রাহ্মণপাড়ায় মুচি স¤প্রদায়ের মানবেতর জীবনযাপন

লেখক: মোঃ বাছির উদ্দিন
প্রকাশ: ৩ years ago

Spread the love

যুগ যুগ ধরে জুতা সৌন্দর্যবর্ধক করণ, মেরামত ও তৈরি করার কাজে নিয়োজিত আছে মুচি স¤প্রদায়। বর্তমানে বাজারের বিভিন্ন পণ্য দ্রব্যের আকাশ চুম্বি হওয়ার ফলে ভালো নেই জুতা মেরামতের কারিগররা। যাদের আমরা মুচি বলে জানি। কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে জুতা সেলাই ও রংয়ের কাজ করেন তারা। আবার কেউ কেউ পাড়া-মহল্লায় গিয়ে জুতা মেরামতের কাজ করেন। তবে করোনার পর থেকে অনেক কষ্টের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কেউ কেউ জীবিকার তাগিদে কাজে বসলেও মিলছে না আশানুরূপ কাষ্টমার। উপজেলার সদর বাজার এলাকায় অনেককেই মলিন মুখে বসে অলস সময় কাটাতে দেখা গেছে। কেউ কেউ বসে তাদের সেলাইয়ের কাজে ব্যবহৃত যন্ত্র শান দিচ্ছে। উপজেলার সদর বাজার এলাকায় দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে মুচির কাজ করছেন মেগুয়া বরিদাশের ছেলে তপন রবিদাশ। তাদের জীবনযাপন নিয়ে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, আমার পরিবারে স্ত্রী, দুই মেয়েসহ মোট ৪জন সদস্য। আয়-রোজগার ভালো না থাকায় পরিবার নিয়ে দু’বেলা খাওয়াটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাদিনে ২০০/২৫০ টাকা আয় হয়, কোনদিন আবার মাত্র ৪০/৫০ টাকা আয়হয়, যা দিয়ে সংসার চালানো খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। খোলা আকাশের নিচে বসে কাজ করতে হয়। যেকোন সময় বেশি রোদ আবার বৃষ্টি হয়। এতে করে অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি আরো বলেন, ‘ বাপ-দাদার পেশাটাকে অনেক কষ্ট ধরে রেখেছি। এ কাজ করে সংসার চালাতেই খুব কষ্টকর ব্যাপার। বর্তমানে আমাদের অবস্থা খুব করুন। সরকারী অনুদান অথবা সামাজিক সংগঠনের সহযোগিতার বিষয়ে জানতে চাইলে তপন রবিদাশ বলেন, আমরা কিভাবে দিনপাত করি এটা দেখার কেউ নাই। আমরা কি এদেশের নাগরিক না? আমরা কি ভোট দেই না? যদি সরকার স্থায়ী পুনর্বাসন না করে হয়তো অচিরেই বাপ-দাদার এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে হবে। এ বিষয়ে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ কবির আহম্মেদ বলেন ‘প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মুচি স¤প্রদায় নিয়ে বর্তমান সরকার কিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। যার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে প্রকল্প আসলে মুচি সম্প্রদায়কে পূর্ণবাসনের লক্ষে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হবে।

  • ব্রাহ্মণপাড়া