বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া মৎস্য অফিসে জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে কার্যক্রম

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৩ years ago

Spread the love

কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা মৎস্য অফিসে লোকবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে সেবা কার্যক্রম। বুড়িচংয়ে ৫টি পদের মধ্যে ৪টি এবং ব্রাহ্মণপাড়ায় ৫টি পদের মধ্যে ৩টি পদই শুন্য রয়েছে বলে মৎস অফিস সূত্রে জানা যায়। মানুষের আমিষের চাহিদা পুরণ করতে মাছের বিকল্প নেই। মাছ থেকে মানুষ তাদের দৈহিক গঠনের আমিন পেয়ে থাকে। এক সময় নদী-নালা, খাল-বিলে প্রচুর পরিমানে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। মানুষ নদী-নালা,খাল-বিল থেকে মাছ ধরে বাজারে বিক্রয় করে সংসারের আর্থিক চাহিদা মেটাতো, আবার কেউ খাল-বিলের মাছের উপর নির্ভর করে আমিষের চাহিদা মেটাতো। কালের বিবর্তনে নদী-নালাতে পানি কমে গেছে এবং খাল-বিলগুলোর অধিকাংশই ভরাট হয়ে গেছে। তাছাড়া জমিতে ব্যাপক হারে কীটনাশক ওষুধ ব্যবহার করার ফলে খাল-বিলে মাছের প্রজনন প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে দেশী প্রজাতির মাছগুলো বিলুপ্তির পথে। মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণ করার জন্য মৎস্যচাষের দিকে ঝুঁকেছে। মানুষ এখন মৎস্য চাষকে অন্যান্য পেশার মতো একটি পেশা হিসেবে এবং অন্যান্য ব্যবসার মতো একটি ব্যবসা হিসেবে নিজেদের আর্থিক সংকট নিরসনের জন্য বেছে নিয়েছে। তাই দিনে দিনে মৎস্যচাষীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। মৎস্যচাষীরা বিভিন্ন পরামর্শের জন্য মৎস্য কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হন এবং তাদের নিকট থেকে নতুন নতুন প্রজাতির মাছ উৎপাদনের কলা-কৌশল রপ্ত করেন। এছাড়া মৎস অধিদপ্তরের আওতায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। চাষীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, মাছের রোগ-বালাই দূরীকরণের জন্য পরামর্শ প্রদান, মৎস্য খাবার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিং, বাজার মনিটরিং, পোনা মাছ নিধন বন্ধ করাসহ বিভিন্ন কাজের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে হয় মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের। কিন্ত বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলার মৎস্য অধিদপ্তরের জনবল সংকটের কারণে মৎস্যচাষীদের ভোগান্তির শেষ নেই। জনবল সংকটের কারণে সঠিক সময়ে সঠিক পরামর্শ পাচ্ছে না। বুড়িচং মৎস অধিদপ্তরে ৫টি পদের মধ্যে ৪টি শুন্য রয়েছে। একজন সহকারী মৎস কর্মকর্তা দিয়ে চলছে পুরো উপজেলার মৎস্য সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম। পুরো উপজেলায় বর্তমানে ১হাজার ৭২০ বিশ জন মৎস্যচাষী রয়েছে। একজন কর্মকর্তার পক্ষে পুরো উপজেলার মৎস্য সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাছ চাষীরা কাঙ্খিত পরিমাণে মাছ উৎপাদন করতে পারছে না। যার পরিপ্রেক্ষিতে অনেক মৎস্যচাষী লাভের পরিবর্তে লোকসান গুনছে। অপর দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় ৫টি পদের মধ্যে ৩টি পদ শুন্য রয়েছে। একজন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী দিয়ে চলছে পুরো ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কার্যক্রম। এই দুই উপজেলার কয়েক হাজার মৎস্যচাষীকে জনবল সংকটের কারণে কাঙ্খিত সেবা দিতে পারছে না। পর্যাপ্ত পরিমানে মৎস কর্মকর্তা ও কর্মচারী না থাকায় চাষীরা ব্যাপক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বুড়িচং উপজেলার যদুপুর গ্রামের মৎস্যচাষী আল-আমিন জানান, বুড়িচং মৎস্য অফিসে গিয়ে কোন প্রকার সেবা পাওয়া যায় না। আমরা মাছ চাষ করতে গিয়ে বিরাট বিপদের মধ্যে আছি। আমি কয়েকদিন অফিসে গিয়েছি। কিন্ত আমার পুকুরের পানি পরীক্ষার জন্য কিন্ত তাদের কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগীতা পাইনি। বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের মৎস্যচাষী মোঃ আবদুল কুদ্দুস বলেন, আমরা দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ চাষের সাথে সম্পৃক্ত আছি। বর্তমানে বুড়িচং উপজেলা মৎস্য অফিসের মাত্র একজন সহকারী কর্মকর্তা থাকায় আমার প্রকৃত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। আমার দাবী মৎস্যচাষীদের কল্যাণে অতিদ্রæত শুন্য পদগুলো যেন পুরণ করা হয়। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার উপজেলার কল্পবাস গ্রামের আমজাদ হোসেন বলেন, আমি দীর্ঘদিন যাবৎ মৎস্য চাষ করে আসছি। কিন্তু সমস্যায় পড়লে মৎস্য দপ্তরে জনবল সংকট থাকায় সময়মতো প্রতিকার পাচ্ছি না। এতে করে মৎস্য চাষে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। কর্মকর্তারা না থাকায় আমরা মৎস্যচাষিরা ভোগান্তিতে আছি। বুড়িচং উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা দেওয়ান নাজমুল হুদা বলেন, আমার একার পক্ষে এতো বড় উপজেলার দায়িত্ব চালানো খুবই কষ্ট হচ্ছে। বিগত ৮ মাস পূর্বে সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ পদোন্নতি পেয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় আরো বিপাকে পড়েছি। জনবল সংকট নিরসনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন করেছি। অচিরেই তার সমাধান হবে বলে আশা রাখি। এবিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা জয় বণিক বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু পদ শুন্য রয়েছে। তাই এত বড় অফিস তিনি একাই দেখছেন। তিনি আরো বলেন, আমি একা হওয়ায় প্রায়ই সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে কোন কাজে গেলে অফিসে তালা ঝুলিয়ে যেতে হয়। আবার অফিসে কাজ করলে মাঠ পর্য্যায়ে কোন কাজ হয় না। তাছাড়া মাঠ পর্য্যায়ে কাজ করলে অনেকেই অফিসে এসে অফিস বন্ধ দেখে ফিরে যায়। দ্রæত এ সমস্যা সমাধান হওয়া দরকার।জনবল সংকট নিরসনে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। আপাতত নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। আশা করছি খুব দ্রæত এ সমস্যার সমাধান হবে।

  • বুড়িচং
  • ব্রাহ্মণপাড়া