গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া- মহল্লায় সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যাসের ব্যবহার। গৃহিনীরা এখন হাতে ময়লা লাগাতে চায় না- তাই গ্যাসের চুলা ছাড়া তাদের রান্না বান্নার চলে না। গরীব ধনী সকলের ঘরেই এখন গ্যাসের চুলা, গ্যাসের সিলিন্ডার দেখতে পাওয়া যায়। গ্রামের বধূরাও শহরের বধূদের মতো শৌখিন হয়েছে। তারা এখন আর বাপ দাদার আমলের লাকরির চুলায় রান্না করতে চায় না। তাই প্রতিনিয়তই গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। তবে গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার গ্যাসের সিলিন্ডারের বাজার মূল্য নির্ধারিত করে দিলেও মাঠ পর্যায়ে মানছে না কেউ। সরেজমিন বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও মিলছে না এলপি গ্যাসের সিলিন্ডার। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডারের সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ২৮৪ টাকা হলেও তার চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতিটি এলপি গ্যাসের সিলিন্ডারের দাম ১৪৪ টাকা বৃদ্ধি করে ১ হাজার ২৮৪ টাকা দাম নির্ধারণ করে দেয় সরকার। এই দামে কোথাও মিলছে না গ্যাস। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গ্যাসের দাম। এতে সাধারণ মানুষের দর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। চান্দলা বাজারের চা দোকানি আবু হানিফ বলেন, যেভাবে সবকিছুর দাম বাড়ছে, আয়তো বাড়ছে না। আবারও গ্যাসের দাম বাড়লো। আজ সকালেই আমাকে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১ হাজার ৪৫০ টাকায় কিনতে হয়েছে। তিনি বলেন, শুধু গ্যাসের দামই নয়, সবকিছুর দাম বেড়েছে। ফলে দোকান চালাতেই হিমশিম খাচ্ছি। আরেক চা দোকানি কাউছার আলম বলেন, গ্যাসের দাম ক্রমেই বাড়ছে। এটি নিয়ে শুধু আমার দোকানই নয় সংসারেও প্রভাব পড়বে। কঠিন অবস্থার মধ্যে পড়ে যাচ্ছি। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, কোম্পানি থেকে বেশি দামে কেনার ফলে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। গ্যাস দোকানিরা বলেন, আমরা পাইকারি ১২ কেজি গ্যাস বিক্রি করছি ১ হাজার ৩৫০ টাকায়। এই গ্যাস পাড়া-মহল্লায় গিয়ে ১ হাজার ৪৩০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আমরা কিনেছিই ১ হাজার ২৮০ টাকায়। তাহলে সরকারি দামে কিভাবে বিক্রি করবো। অপর দিকে বুড়িচং উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে ঘুরে দেখা গেছে বসুন্ধরা গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার ৭শত টাকা, যমুনা গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রয় হচ্ছে ১হাজার ৫শত ৫০ টাকা, আইস গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার ৪ শত ৫০ টাকা এবং বিএম গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রয় হচ্ছে ১ হাজার ৭ শত টাকায়। নিরাপদ চিককিৎসা চাই বুড়িচং উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আলমগীর হোসেন মোল্লা জানান, সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রয় করা হচ্ছে মা। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রয় করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আর্কষন করছি – যেন তারা বাজার মনিটরিং করে এবং আমরা সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাসের সিলিন্ডার ক্রয় করতে পারি। সচেতন মহল মনে করেন, সঠিক ভাবে বাজার মনিটরিং করা হলে সিলিন্ডার গ্যাস অতিরিক্ত দামে কেউ বিক্রয় করতে পারবে না। তাই বাজার মনিটরিং করা জরুরী।