কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা সদরের নিরঞ্জণ দাসের ছেলের বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানের খাবার খেয়ে প্রায় অর্ধশাতাধিক লোক ডায়েরীয়া ও ফুড পয়েজিংয়ে আক্রান্ত হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলা সদরে নিরঞ্জণ দাস গত ২৫ ফেব্রæয়ারী মঙ্গলবার তার ছেলে রিপন দাসকে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার থানগাও গ্রামে বিয়ে করান এবং ২৭ ফেব্রæয়ারী বৃহস্পতিবার বৌ ভাতের অনুষ্ঠাণ উপলক্ষে ৭শত মানুষের খাবারের আয়োজন করেন। এতে কণের বাড়ীর লোকজন এবং স্থানীয় লোকজনসহ প্রায় ৬শত লোক খাওয়া দাওয়া করে। পরর্তীতে গত ২৮ ফেব্রæয়ারী শুক্রবার ভোর রাত থেকে বৌ ভাতের খাবার খাওয়া লোকজন মাথা ব্যাথা, পাতলা পায়খানা, রক্ত আমাশায় আক্রান্ত হয়ে বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, বৌ ভাতের অনুষ্ঠাণের খাবার খেয়ে প্রায় অর্ধশাতাধিক লোকজন ডায়েরীয়া ও ফুড পয়েজিংয়ে আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ৪৯ জন রোগী জরুরী বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৩৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত রিপনের বড় ভাই বলেন, আমার ছোট ভাই গত বৃহস্পতিবার বুড়িচং উপজেলা সদরের একটি হিন্দু বাড়ীতে বৌ ভাতের অনুষ্ঠাণের খাবার খায় এবং শুক্রবার ভোর রাত থেকে বমি করা শুরু করে। তার অবস্থা খারাপ দেখে বুড়িচং সরকারী হাসপাতালে ভর্তি করাই। নিরঞ্জণ দাসের ভাতিজা রমুনি দাসের ছেলে অনিল চন্দ্র দাস বলেন, বৌ ভাতের খাবার খেয়ে আমি ডায়েরীয়ায় আক্রান্ত হয়েছি। কিন্ত আমাদের বাড়ীর আর কেহ আক্রান্ত হয় নাই। তবে কি কারণে এমন হয়েছে তা বলতে পারবো না। বর রিপনের বড় ভাই লিটন চন্দ্র দাস বলেন,আমার ভাইয়ের বৌ ভাতের অনুষ্ঠাণের রান্নার জন্য আমাদের সম্প্রদায়ের সবচেয়ে ভালো পাকশী একই উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের নানুয়ার বাজার এলাকার হরিপদ বার্বুচিকে এনেছিলাম। কিন্ত খাবার খেয়ে কেন মানুষ অসুস্থ হলো তা একমাত্র আল্লায়ই জানেন। বুড়িচং উপজেলা স্যানেটারী অফিসার নাছিমা আক্তার বলেন, আমি সরেজমিন লিটন দাসের বাড়ী পরিদর্শন করেছি। কিন্ত সঠিক কোন কারণ খুঁজে পাইনি। তবে খাবার পরিবেশন করার স্থানের একপাশের পরিবেশ কিছু খারাপ ছিল এবং যারা আক্তান্ত হয়েছে, তাদের হজম প্রক্রিয়ায় সমস্যা থাকার কারনে ফুড পয়েজিং হয়েছে বলে ধারনা করছি। বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মালেকুল আফতাব বলেন, ধারনা করা হচ্ছে ফুড পয়েজিং এর কারণে তারা আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত হওয়া সবাই একই খাবার খেয়েছিল। আক্রান্ত হওয়া ৪৯ জন জরুরী বিভাগে চিকিৎসা নিয়েছে এবং ৩৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়েছে। এখনো ৮ জন ভর্তি আছে। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, যারাই খাবার দাবারের বড় অনুষ্ঠাণ করেন তাদের সচেতন হওয়া উচিত এবং সর্তক থাকা প্রয়োজন যে, আমরা কি খাবাচ্ছি ও কি রান্না করছি। রান্না করা খাবারগুলো ঠিক আছে কি না সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আক্রান্ত হওয়া রোগীদেরকে বুড়িচং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভালো ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।