কুমিল্লার দুঃখ গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম স্মরণকালের বন্যায় প্লাবিত হয়ে যায়। ভেসে যায় বাড়ী-ঘর, রাস্তা-ঘাট। ২০ বছর পর হঠাৎ বন্যার কারণে মানুষের দুর্ভোগ বৃদ্ধি পায়। গোমতীর বাঁধ ভাঙ্গার কারণে এক রাতের মধ্যেই বুড়িচং উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বেশির ভাগ গ্রাম পানির নিচে চলে যায়। পরবর্তীতে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার প্রায় সকল রাস্তা ঘাটগুলো পানির নিচে চলে যায়। সড়কের বিকল্প নৌযান না থাকায় সড়কগুলোতে অবাধে চলাচল করার ফলে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। বন্যার কারনে বেশির ভাগ সড়কগুলো নষ্ট হয়ে যায়, যার কিছু মেরামত করা হয়েছে বেশির ভাগই মেরামত হয় নাই। বন্যা পরবর্তীতে নাজুক সড়কগুলোতে অতিরিক্ত মালবোঝাই ট্রাক্টর গুলো অবাধে চলাচলের কারনে নতুন পুরাতন সকল সড়কগুলো ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং মালবোঝাই ট্রাক্টরগুলোতে ট্রলি খোলা থাকায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট, বালিসহ বিভিন্ন মালামাল ছিঁটকে পড়ার কারণে অন্যান্য পরিবহনের যাত্রীরা দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ইট পড়ে অনেকের গাড়ীর গøাস ভেঙ্গে যায়, পথচারীদের মাথায় আঘাত পায় এবং অতিরিক্ত বালি বহনকারী ট্রাক্টর থেকে বালি ছিঁটকে চোখে পড়ে। তাছাড়া সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে নতুন নতুন ঘর বাড়ী নির্মাণের জন্য ইট, বালু সিমেন্টসহ বিভিন্ন নির্মাণ সামগ্রী বহনকারী হাল চাষের ট্রাক্টর ও ড্রাম ট্রাক্টরগুলো নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে চলাচল করায় সড়কের বারোটা বাজতে শুরু করেছে। ড্রাম ট্রাক্টরগুলোর লোড নেওয়ার মতো সড়ক বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় নেই। লোকালয়ের সড়কগুলো মূলত মটরচালিত অটোরিকশা ও সিএনজি চালিত অটোরিকশা এবং সাধারনত হালকা যানবাহন চলাচলের জন্য করা হয়, কিন্ত এই সড়কগুলোতে যখন হালকা যানবাহনের পরিবর্তে ড্রাম-ট্রাক্টর এর মতো ভারি যানবাহনগুলো চলাচল করে তখন সড়কগুলোর পিচ উঠে যায় আবার কোথাও কোথাও সড়ক ভেঙ্গে চলাচলে অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে সাধারন মানুষের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। বিশেষ করে গ্রামীন সড়কগুলোতে ইট ও বালি বোঝাই ভারি যানবাহন চলাচলের কারণে সেই সড়কগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ হয়ে যায়। গ্রামীন সড়কের প্রতি সরকার কিংবা স্থানীয় নেতাদের নজর থাকে কম। ফলে এই সড়ক এক বার নষ্ট হয়ে গেলে কিংবা ভেঙ্গে গেলে তা সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই বছরের পর বছর জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। হালচাষ করা ট্রাক্টরের চাকার বড় বড় বিটগুলো কাচা সড়কের মাটি এবং পাকা সড়কের পিচ আলাদা করে ফেলে। এই ট্রাক্টর সড়কে চলাচল করার বৈধ কোন কাগজপত্র নেই এবং চালকদেরও কোন লাইসেন্স নেই। কুমিল্লা জেলার নিকটবর্তী বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া দুটি উপজেলা। কিন্ত বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা অফিসের কোন কার্যক্রম কিংবা কোন ধরনের ভূমিকা দেখতে পাওয়া যায় না। লাইসেন্স বিহীন এসব গাড়ীর প্রতি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা অফিসের কোন নজরদারী নেই। তাই দিনের পর দিন বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়ায় বেড়েই চলছে লাইসেন্স বিহীন অবৈধ মাটি বহনকারী ট্রাক্টরের সংখ্যা। স্থানীয়রা জানায়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কুমিল্লা অফিসের পক্ষ থেকে যদি সঠিক তদারকি করা হতো, তাহলে এভাবে লাইসেন্স বিহীন মাটি বহনকারী ট্রাক্টরগুলো সড়কে দাপিয়ে বেড়াতে পারতো না এবং সড়কগুলো এতো ক্ষতি সাধিত হতো না। বুড়িচং উপজেলার আব্দুর রহিম নামে এক পথচারী জানান, গ্রামের ছোট ছোট সড়কগুলোতে এখন চলাফেরা করতে ভয়ই লাগে। হালচাষের ট্রাক্টরগুলো বেপরোয়া ভাবে চলাচল করে এবং মাটি বহনকারী ড্রাম ট্রাক এর অত্যাচারীর কথা আর কি বলবো। এগুলো যখন রাস্তা দিয়ে চলাচল করে মনে হয় যেন কোন দানব রাস্তায় নেমেছে।এ ব্যাপারে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন বলেন, রাস্তার অবৈধ ট্রাক্টর ও অতিরিক্ত মালবোঝাই গাড়ীর বিষয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে আলোচনা হয়েছে এবং কোন কোন এলাকায় এই ট্রাক্টর চলে ও মাটি কাটা হয়, সে বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আগামী মাসে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এছাড়া যেহেতু অভিযোগ পেয়েছি বিআরটিএ এর দায়িত্বশীলদের নিয়ে অচিরেই অভিযান পরিচালনা করা হবে।