‘‘পরিকল্পিত হত্যার দাবী পরিবারের’’ বিয়ের ৪ মাসের মাথায় নববধূর রহস্যজনক মৃত্যু

লেখক: গাজী রুবেল
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

বিয়ের ৪ মাসের মাথায় জীবনের সকল রঙিণ স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে ইহজগতের মায়া ত্যাগ করে পরলোকে চলে গেলেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সুমাইয়া আক্তার (১৮)। ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ স্বামীর বাড়ি থেকে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবী করা হচ্ছে স্বামী ও শ^শুড়বাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ঝুঁলিয়ে রেখেছে। গত বুধবার ১৭ অক্টোবর বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতুলী মোহাব্বত আলী ফকির বাড়ীতে ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত সুমাইয়া আক্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়া কসবা উপজেলার গৌরাঙ্গুলা এলাকার মোঃ বোরহান উদ্দিন কাজল এর মেয়ে। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার গৌরাঙগুলা গ্রামের মোঃ বোরহান উদ্দিন কাজলের মেয়ে সুমাইয়া আক্তার কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের জামতুলী গ্রামের মোহাব্বত আলী ফকির বাড়ি’র নজরুল ইসলাম প্রকাশ বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ মেহেদী হাসানের সঙ্গে গত ১৪ জুন পালিয়ে যায়। ২৬ জুন তারা রোটারীর মাধ্যমে কোর্ট ম্যারিজ করে। পরবর্তীতে ১৬ জুলাই বিবাহের বিষয়টি জানতে পেরে পারিবারিক ভাবে উভয় পক্ষই মেনে নেই। তারপর এক থেকে দেড় মাস ভালোই চলছিলো তাদের সংসার জীবন। পরবর্তীতে গত ১৭ অক্টোবর সকাল আনুমানিক সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে জামতুলী এলাকার নাসির সর্দার নামে এক ব্যক্তি সুমাইয়া আক্তারের ভাইকে মোবাইল ফোন করে বলে যে মেহেদী হাসান পরিবারের কথা শুনে না। আপনারা আপনাদের মেয়ে সুমাইয়া আক্তারকে নিয়ে যান। নাসির সর্দার আরোও বলেন ক্ষতিপুরণ হিসেবে টাকা পয়সা লাগলে তাও দিয়ে দিবেন। একই দিন বিকাল ৫ টার সময় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আমার মেয়ে মারা যাওয়ার খবর দিয়ে তাৎক্ষণিক মোবাইল ফোন কেটে দেয়। এদিকে সুমাইয়া আক্তার মারা যাওয়ার পর থেকে স্বামী ও শ^শুরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নিহতের বাবা বোরহান উদ্দিন কাজল বলেন, আমার মেয়েকে ৪ মাস আগে পালিয়ে বিয়ে করে মেহেদী। বিষয়টি জানার পর আমি পারিবারিক ভাবে মেনে নেই। মেনে নেওয়ার কিছু দিন পর থেকেই বিদেশে যাওয়া কথা বলে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেয়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার মেয়েকে মারধর করে। গত ১৭ অক্টোবর আমার ছেলেকে ফোন দিয়ে ওই এলাকার নাসির সর্দার জানান সুমাইয়া ফাঁস দিয়েছে। তখন আমার ছেলে সেখানে গিয়ে দেখে আমার মেয়ে ঘরের ভিতরে গলায় ওড়না পেচিয়ে ঝুলে আছে এবং লাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমার মেয়েকে মেরে ঘরের মধ্যে তারা ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার করেছে বলে প্রচার করছে। আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। নিহত ঘুমাইয়া আক্তার এর মা বলেন, আমি মেয়ের বাড়ী যাওয়ার আগেই পুলিশ লাশ নিয়ে নিয়ে যায়। রাস্তা দেখা হয় তাদের সাথে। আমি অনেক বার চেষ্টা করছি আমার মেয়ের শেষ মুখটা একবার দেখার জন্য কিন্ত পুলিশ দেয় নি। তারা বলেছে আমার মেয়ের লাশ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। লাশ দেখানো যাবে না বলে থানা থেকে চলে যেতে বলেন।
ওই এলাকার নাসির সর্দার বলেন, তারা পালিয়ে বিয়ে করে। তবে আমি নিজে উপস্থিত হয়ে পারিবারিক ভাবে বিষয়টা মীমাংসা করে দেই। বিয়ের কিছু দিন পর মেয়ে বাবা আমাকে ফোনে জানায় তার মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ করে এবং মারধর করে। মেহেদীকে বুঝানো হয়েছে। এর কয়েকদিন পর জানতে পারি সুমাইয়া আক্তার গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আত্মাহত্যার পর থেকে মেহেদী ও তার পরিবার পলাতক আছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার এসআই রবিউল ইসলাম সুমাইয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। মরদেহের তদন্ত রিপোর্ট আসলে মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। নিহতের পরিবারের সাথে খারাপ আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করে বলেন এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা।

  • ব্রাহ্মণপাড়া