কুমিল্লার দেবিদ্বারে ব্যবসায়ি মুছা আলী হত্যাকান্ডের অন্যতম আসামী মো. কামাল হোসেনকে আটক করেছে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। আটক কামাল হোসেন উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের নবিয়াবাদ গ্রামের দক্ষিণপাড়ার আলফু মিয়ার ছেলে। রোববার দিবাগত ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) থোয়াই চামং চাক নয়ন এর নেতৃত্বে একদল পুলিশ নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করেন। সোমবার দুপুরে আটক কামাল হোসেনকে কুমিল্লা আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। এর আগে গত শুক্রবার (২ ফেব্রæয়ারী) রাতে ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের বাগুর বাসস্ট্যান্ড ও কুমিল্লার বিসিক শিল্প নগরী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে মো. রফিকুল ইসলাম লিমন (৩০) ও সবুজ সরকার (২৭) নামে আরও দুই আসামী আটক করে র্যাব। জানা যায়, গত ৩১ জানুয়ারী কক্সবাজারের ব্যবসায়ী মো. মুছা আলী (৪০) উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাও গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে আসেন। রাতে আসামীরা মোবাইল ফোনে ঢেকে নিয়ে তাকে অপহরণ করেন এবং মুক্তিপন হিসেবে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবী করে। নিহতের স্ত্রী রাজিয়া বেগম দাবীকৃত ১০ লক্ষ টাকার পরিবর্তে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা অপহরণকারীদের প্রদান করেন । অপহরণকারীরা দাবীকৃত অর্থ না পাওয়ায় অপহৃতের পায়ে, হাতে ও পিঠে ছুরি দিয়ে আঘাত করে উপজেলার পশ্চিম বাগুর এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা আহত মুছা আলীকে উদ্ধার করে বাগুর মেডিনোভা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মো. মুছা আলী কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার নাজিরপাড়া গ্রামের হাজী মৃত মাজেদ আলীর ছেলে। ওই ঘটনায় তার স্ত্রী রাজিয়া আক্তার (৩৮) বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামী করে দেবিদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ মো. নয়ন মিয়া জানান, এ পর্যন্ত মুছা আলী হত্যাকান্ডের ৩ অভিযুক্তকে আটক হয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত বাগুর গ্রামের আব্দুল আজিজ মেম্বারের ছেলে সোহেল এখনো পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে।