আমাদের সন্তানদের শিক্ষিত করছি কিন্তু জ্ঞানী কি করছি???সক্রেটিস যথার্থই বলেচেন। সামান্য বা তুচ্ছতম ঘটনায় অধৈর্য্য হয়ে একজন দিনমজুর সামান্য গরীব দাদার বয়সী রিক্সাওয়ালাকে কিল ঘুষি মেরে মেরে ফেলতে হবে?? এই পশুত্ব কিন্তু পরিবার থেকে শিখা। ০১। বাইক দিয়েছেন জেনেরেশান জি এর ইয়াং ছেলেটির হাতে কিন্তু অকটেন এর টাকা আপনার পকেটের। সে তো বাবার হোটেলের টাকার স্বাদ ১ বার পেলে আর নিজে আয় করার আগ্রহ পাবেনা। ০২। বাইক মেরামত, বাইক সংক্রান্ত ঝামেলা মিটাতে আপনাকে যেমন ইউজ করবে তেমনি একটি বন্ধু বাইকার গ্রæপ ও যুক্ত হবে স্মাট জীবনের অংশ হিসাবে। ০৩। আপনি পরিবারে মুরব্বিদের সাথে কেমন আচরন করেন, ছোটদের সাথে কেমন বা আত্মীয় দের সাথে কেমন সম্পর্ক মেইনটেইন করছেন আপনার সন্তান ঠিক তেমনই শিখবে। ০৪। ছোট বেলায় কার্টুন ভিডিও গেইমস এ আসক্ত না রেখে ৫১ বর্তী পরিবারে থাকলে সন্তান খারাপ হওয়ার প্রশ্নই আসেনা। দাদার সাথে মনজিদে যাওয়া, গল্প করা, আদব শিখা, চাচা ফুফুর সাথে বাসায় বড় হওয়া সন্তান কখনই নিষ্ঠুরতার প্রতিক হবেনা। ০৫। কাজিনদের সাথে ফাইট করে খাবার খেতে হয় বা ভাগাভাগি করে খেতে হয় মানে চাওয়া মাত্রই খাবার পায়না এমন সন্তান পরিশ্রমি হওয়ার আগ্রহ বা চ্যালেনঞ্জ ছোট বেলা থেকে শেখে। ০৬। ৫১ বর্তী পরিবারের সন্তান বাবা মায়ের নয় বরং পুরো পরিবারের আদর্শে বড় হয়।ফলে একক পরিবারে বাবা মায়ের ঝগড়া হিংসা অন্যের সমালোচনা কিংবা স্বার্থপরতার প্রভাব পড়েনা। ০৭। বাবা মা কে সন্তান দান করতে দেখলে বা সন্তানের হাতে দান করলে সন্তান অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। ০৮। আপনাকে যদি সন্তান দেখে শশুর শাশুড়ী কিংবা মুরব্বিদের সম্মান করতে সে সন্তান কখনো বয়সের বড় কারো সাথে বেয়াদবি করবেনা। ০৯।চরম বেয়াদব বা অভিশপ্ত বাবা মায়ের সন্তান ছাড়া দাদার বয়সী মুরব্বিদের গায়ে হাত উঠানো সম্ভব নয। ১০। আগে লজিং মাষ্টার কিংবা সকালে মক্তব এর শিক্ষার মাধ্যমে আদর্শিক শিশু গঠনের সোপান হতো এখন সেল ফোন ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মেশিন ম্যান তৈরী করছে। স্ক্রল করলে মুহূর্তেই সর্বোচ্চ গতিতে চাহিত ডকুমেন্টস হাতের কাছে পেয়ে যায় কিন্তু জীবন তো এত গতিশীল নয় যেখানে হাসি কান্না ¯েøা বা স্পিডি এর মিশেল থাকে। ১১। এখনকার সবাই ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির মত সব কিছু এজ ইট ইজ পেতে চায় এবং বীঢ়বপঃধঃরড়হং াং ৎবধষরঃু এর দ›দ্ব চলতেই থাকে মনে। বাস্তবে যখন গেইমস এর মত করে সঠিক বিষয়টি ঘটেনা তখনই মেজাজ হারিয়ে নিজের অজান্তেই একটি সিনক্রিয়েট করে বসে ইয়াং পোষ্ট মর্ডান বালক। আপনি ৪০+ কারো মধ্যে এ অস্থিরতা পাবেন না। ১২। এ সমস্যা আরো প্রকট হবে যদিনা সন্তান কে নৈতিক মূল্যবোধ না শিখাই, বাজার করাতে হবে, এনগেজড করতে হবে, দায়িত্বশীল করতে হবে,আত্মীয় স্বজনের সাথে সম্পর্ক সর্বোচ্চ সুদৃঢ় করাতে হবে। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে যুক্ত করতে হবে। ক্রিকেট, ফুটবল, সাঁতার ক্লাবে প্র্যাকটিস এ দিতে হবে । ১৩। মাসে বা ৬ মাসে একদিন সবজী খিচুড়ি রান্না করে ছোট সন্তানদের সাথে নিয়ে রেল স্টেশন এ অসহায় গরীবদের মাঝে খাবার বিতরন করুন কারন যে সন্তান গরীবদের মাঝে খাবার বিতরন করে সে বড় হয়ে সেই গরীব শ্রেণীর ভুলের কারনে ঘুষি দিবেনা। মানবতা দেখানো শিশু বড় হয়ে হিংস্র হবেনা। ১৪। সুযোগ পেলে ছুটিতে বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরে আসুন। প্রকৃতির সংস্পর্শে রাখুন মন উদার হবে শিশু মন ভাবতে শিখবে। ১৫। প্রতিষ্ঠিত ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের ও ব্যক্তিবর্গের সাথে সন্তানকে দেখা করিয়ে গল্প করতে সহায়তা করুন এতে উদ্ধিপনা বাড়বে। কেহ হয়তো একটা চকলেট দিবে যা অনুপ্রেরণা যোগাবে। ১৫। সন্তানের সামনে বাবা মায়ের ঝগড়া সন্তানকে হিংস্র করে তোলে। ১৬। সন্তান কোন বন্ধুদের সাথে চলাফেরা করে বাবা মাকে অবশ্যই জানতে হবে। সন্তানের বন্ধু এমন হওয়া উচিত যেন সন্তানকে কেন্দ্র করে দুই পরিবারের মধ্যে সৌহার্দ্য গড়ে উঠে এবং বন্ধুরা ও বন্ধুর পরিবারকে নিজের পরিবার মনে করে। ১৭। শিশু সন্তান টিনেজ বয়সে রাজনৈতিক সেল্টার এ বড় হতে থাকলে নিয়ন্ত্রণ করা খুবই কঠিন হবে কারন সিনেমা নাটক গেইমস সব জায়গায় ওকে পাওয়ার প্র্যাকটিস এর ম্যাসেজ দেয়। ১৮। ইউনিভার্সিটির আগে কখনই সন্তানকে বাইক দেওয়া ঠিক নয়।আর বাইক দিলে ও নূন্যতম টিউশনির টাকা দিয়ে হলে ও নিজ টাকায় যেন অকটেন কিনতে পারে সেই শিক্ষা দিন। ১৯। সেল ফোন ঐঝঈ পর্যন্ত বাটন ফোন হলেই ভালো। ফেইজ বুক বা ইন্টারনেট একসেস আপনার স্মার্ট ফোন থেকে হলেই ভালো।দরজা লাগিয়ে রাতে ঘুমাতে না দেওয়ার অভ্যাস ছোট বেলা থেকেই করতে হবে। ২০। বাসায় যখন থাকবেন সন্তানের সাথে গল্প করুন, ছোট কাজের স্বিকৃতি দিন, গিফট দিন, বাহিরে সাথে নিয়ে বের হবেন। ২১। নিজে সাথে নিয়ে নামাজ পড়ুন।নিজে টিভি দেখে বা সর্বদা বাসায় স্মার্ট ফোন নিয়ে বিজি থেকে বাচ্চাকে একই ব্যবহার থেকে নিভৃত করতে পারবেন না। ২২। ছুটির দিনে গল্প, উপন্যাস পড়ার প্রতিযোগিতা দিন বাসায়।এবং সেটার উপর প্রশ্ন করুন সাথে পুরস্কার হিসাবে গিফট কিংবা ছুটির দিনে বাহিরে খেতে দিন। ২৩। নিজের রুম গোছানো, কাপড় পরিষ্কার, মশারি খাটানো কিংবা মাকে রান্নায় সহযোগিতা করা পরবর্তীতে স্বাবলম্বী হতে সহায়ক হয়। সন্তান আপনার তাই আগে আপনাকে নৈতিক, আদর্শিক ও মানবিক মানুষ হতে হবে যা দেখে সন্তান শিখবে।অভাব শিখাতে হবে তাই চাওয়া মাত্রই সব দিয়ে দিবেন না, এতে সন্তান জেদী হবে।কেন দিবেন না তা বুঝানো জরুরী। শিক্ষা দিয়ে ক্লাস পাশ করে সার্টিফিকেট অর্জন করলেই শিক্ষিত হয়না বরং জ্ঞানী করে গড়ে তুলুন যা পরিবার, সমাজ ও পরিবেশ থেকে শিখবে। আদর্শ বাবা মা হতে গেলে তাই সন্তানের জন্য আদর্শ পরিবেশ দিতে হবে। লেখক- মো: আনিসুর রহমান মজুমদার সোহেল, অধ্যক্ষ গোপালনগর আদর্শ কলেজ, ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা।