কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সদরে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ব্যাডমিন্টন খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঝামেলায় খুন হন বড় ভাই কলেজছাত্র মো. শফিউল্লাহ (১৮)। হত্যাকান্ডের তিন মাস অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত আসামী এখনো গ্রেফতার হয়নি। নিহত মো. শফিউল্লাহ ব্রাহ্মণপাড়া সদর এলাকার এরশাদ মিয়ার ছেলে এবং ব্রাহ্মণপাড়া মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের একাদশ শ্রেণির মানবিক বিভাগের ছাত্র। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মশিউর রহমান হৃদয় (১৯) ব্রাহ্মণপাড়া সদর গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার জহিরুল ইসলামের ছেলে এবং একই কলেজের দ্বাদশ মানবিক বিভাগের ছাত্র। কিন্তু হত্যাকান্ডের তিন মাস অতিবাহিত হলেও অভিযুক্ত মশিউর রহমান হৃদয় গ্রেফতার না হওয়ায় জনমনে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। উল্লেখ্য গত ২৭ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে হত্যাকান্ডের শিকার শফিউল্লাহর ছোট ভাই মো. সানাউল্লাহর সঙ্গে মশিউর রহমান হৃদয়ের ছোট ভাই রিয়াদ ব্যাডমিন্টন খেলেছিল। খেলার একপর্যায়ে ব্যাডমিন্টনের ব্যাট নিয়ে রিয়াদ ও সানাউল্লাহর মধ্যে ঝগড়া হয়। এ সময় মশিউর রহমান হৃদয় সানাউল্লাহকে মারধর করে। বিষয়টি জানতে পেরে শফিউল্লাহ মারধরের কারণ জানতে হৃদয়ের বাড়িতে যান। সেখানে দুজনের কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মশিউর রহমান হৃদয় ঘর থেকে ছুরি এনে শফিউল্লার পেটে লাগাতার দুটি আঘাত করে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় গুরুতর আহত অবস্থায় শফিউল্লাহকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কুমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শফিউল্লাহকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের পর ব্রাহ্মণপাড়া ঈদগা কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এ বিষয়ে একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) টমাস বড়ুয়া বলেন, ঘটনায় অভিযুক্ত মশিউর রহমান হৃদয়কে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।