গোমতী নদী বুড়িচং উপজেলাকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। নদী পশ্চিম অংশে রয়েছে ৪ ইউনিয়ন ও পূর্ব অংশে রয়েছে ৪ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা। গোমতীর পশ্চিম অঞ্চলের মানুষগুলো বিভিন্ন কাজে উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য বুড়িচং – রামপুর সড়কটি ব্যবহার করে থাকে। গোমতী নদীর উপর গোবিন্দপুর ব্রীজটি নির্মিত হওয়ার পর থেকে বুড়িচং-রামপুর সড়কটি খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায়। দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যমে পরিণত হয়। প্রতিদিন বিভিন্ন কাজে কয়েক হাজার মানুষ সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, রিক্সা, ছোট মাক্রোবাসের মাধ্যমে আসা-যাওয়া করে থাকে। বিগত কয়েক বছর যাবত এই সড়কটিতে সংস্কার মেরামত না হওয়ায় জনচলাচলে ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির পানি জমাট বেঁধে ছোট বড় অনেক গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবে যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। বর্ষার মৌসুম হওয়ায় ঘন ঘন বৃষ্টি হচ্ছে। এতে এই সড়কের যাত্রীদের দূর্ভোগ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে থাকায় কোথায় ছোট ও বড় গর্ত রয়েছে; তা অনুমান করা যায় না। এতে প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনা শিকার হচ্ছে যাত্রীরা। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী ছাত্রছাত্রীরা বেশি দূর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বুড়িচং উপজেলার শিবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ তফাজ্জল হোসেন সলিম বলেন, বুড়িচং সদরের সাথে আমাদের একমাত্র যোগাযোগের মাধ্যম এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কার মেরামতের জন্য কোন উদ্যোগ গ্রহন করা হচ্ছে না। এতে আমাদেরকে বুড়িচং সদর এবং কুমিল্লা জেলা সদরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আসা-যাওয়া করতে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। আমাদের এলাকায় একজন সচিব এবং একজন ডিআইজি ও কয়েকজন উপসচিবের বাড়ী রয়েছে। কিন্ত তাদের বাড়ীর সড়কের এই ভগ্নদশা আমাদের কাম্য নয়। আমরা চাই তাদের মাধ্যমে এই সড়কের জনদূর্ভোগের লাঘব হোক। জিহান ফুটওয়্যারের এক কর্মী বলেন, আমরা প্রতিদিন কোম্পানীর গাড়ীতে করে সকাল বিকাল এই সড়কের মাধ্যমে কর্মস্থলে আসা যাওয়া করি। কিন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত থাকায় সব সময় ভয়ে থাকি কখন যে দূর্ঘনায় পতিত হই। ভারিকোটা গ্রামের ছাদেক মিয়া বলেন, আমাদেরকে বিভিন্ন দরকারে বুড়িচং আসা-যাওয়া করতে হয়। কিন্ত সড়কটি অবস্থা দেখলে মনে ভয় হয়। বুড়িচং যাওয়ার কথা ভুলে যাই। তবু পেটের তাগিদে আসা-যাওয়া করতে হয়। বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ আলিফ আহমেদ অক্ষর বলেন, এই সড়কটির কাজ করার জন্য ট্রেন্ডার দেওয়া হয়েছিল। ঠিকাদার কাজ না করায় তাকে জরিমানা করা হয়েছে। আবার নতুন করে ট্রেন্ডারের দেওয়ার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে।