আজ থেকে মুসলমানদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মাস মাহে রমজান শুরু। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মুসলমান সেহরী খেয়ে রোজা পালন করবে। আল্লাহ তায়ালার সুন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রাপ্ত বয়ষ্ক প্রায় সকল নারী-পুরুষ ভোর রাতে সেহরী খেয়ে সারা দিন রোজা পালন করে সন্ধ্যায় ইফতারির মাধ্যমে রোজা ভঙ্গ করবে। এভাবেই ৩০টি রোজা পূর্ণ করে ঈদুল ফিতরের দিন উৎসব পালন করবে। মুসলমানদের নিকট রোজার মাসটি ১২ মাসের মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটি মাস। এই মাসকে আল্লাহ রাব্বুল আল আমিন বান্দাদের জন্য ৩টি ভাবে বিভক্ত করেছেন। প্রথম ১০দিন রহমত দিয়ে সাজিয়েছেন। মাঝের ১০দিন বরকতময় করে রেখেছেন এবং শেষ ১০দিনকে মাগফেরাতের মাধ্যমে সাজিয়েছেন। এই রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাসে বান্দা সারা দিন উপবাস থেকে আল্লাহর সন্তুটি অর্জনের চেষ্টা করে। তাই শুধু দিনের বেলায় উপবাস থাকলে রোজা পাকা পোক্ত হবে না। রোজা পালনের সাথে সাথে ইসলামের দৃষ্টিতে অপরাধমূলক কাজগুলোও পরিত্যাগ করতে হবে। অন্যথায় রোজা পরিপূর্ণ হবে না। রোজা রেখে খারাপ আচরন করা, খাবারে বেজাল মিশানো, মাপে কম দেওয়া, মিথ্যা কথা বলা-এই বদভ্যাসগুলো ছেড়ে দিতে হবে। তবে বিভিন্ন হাট বাজারের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এটা কি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠ দেশ কি না? দিনের বেলায় প্রকাশ্যে হোটেল রেস্টুরেন্টে খাবার দাবার ক্রয়-বিক্রয় করা হচ্ছে। যারা বিক্রয় করছে তারা কেমন মুলসমান আবার যারা ক্রয় করে খাচ্ছে তারাই বা কেমন মুসলমান। তারাই বা কিভাবে নিজেদেরকে মুসলিম হিসেবে দাবী করে। লজ্জাবোধ কি একে বারে নেই? দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়েছে। এক সময় ফ্যাসিবাদী বামপন্থীরা রাষ্ট্রের চালকের আসনে থাকায় অবাধে ইসলাম বিরোধী কার্যক্রম পরিচালিত হলেও কেউ বাঁধা প্রদান করেনি। কিন্ত বর্তমানে সেই ফ্যাসিবাদের পতন হয়েছে। ইসলামপন্থিদের কথা বলার মতো সুযোগ হয়েছে। সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম প্রধান দেশে ইসলামের রীতি নীতি চলবে না এটা হতে পারে না। তাই বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া দুই উপজেলায় দিনের বেলা হোটেল রেস্টুরেন্টে বন্ধ রাখার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। বাংলাদশে জামায়াতে ইসলামীর বুড়িচং উপজেলা আমীর অধ্যাপক মোঃ অহিদুর রহমান বলেন, মুসলিম প্রধান দেশে রোজার মাসে দিনের বেলায় হোটেল রেষ্টুরেন্ট খোলা থাকার প্রশ্নই উঠে না। তাই আমি বুড়িচং উপজেলাবাসীকে আহবান করবো আপনার রমজান মাসের পবিত্রতা রক্ষার্থে দিনের বেলায় খাবারের হোটেল বন্ধ রাখবেন। দ্রব্যমুল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রাখবেন। কেউ খাবারে ভেজাল দিবে না। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আমীর রেজাউল করিম বলেন, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সকল হাট বাজারের হোটেল ও রেষ্টুরেন্ট ব্যবসায়ীদের প্রতি আহবান জানাই মাহে রহমানের পরিবত্রতা রক্ষার জন্য আপনারা কেউ দিনের বেলায় হোটেল রেষ্টুরেন্ট খোলা রাখবেন না। দ্রব্যেমূল্য বৃদ্ধি করবেন না এবং খাবারের ভেজাল মিশিয়ে বিক্রয় করবেন না। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, আজ থেকেই ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে ভেজাল খাবারের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। পুরো রমজান মাসে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। দিনের বেলায় হোটেল রেষ্টুরেন্ট বন্ধ রাখার বিষয়ে এখনো কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার বলেন, পহেলা রমজান থেকে বুড়িচং উপজেলার প্রত্যেকটি হাট-বাজারে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ভোক্তা অধিকারের পক্ষ থেকে ভেজাল খাবারের বিষয় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। এই কার্যক্রম পুরো রমজান মাস জুড়ে পরিচালিত হবে। তাই রমজানের পবিত্রতা রক্ষার্থে সকলে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন এবং দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকুন।