কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে খোঁজ মিললো আরও একটি প্রাচীন প্রতœতাত্বিক নিদর্শনের। সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের দক্ষিণ অংশে অবস্থিত কথিত বালাগাজীর মুড়ায় চলমান খনন ও অনুসন্ধানে মিলেছে একটি প্রাচীন স্থাপনার ধ্বংসাবশেষ, যা বহু শতাব্দী পুরোনো কোনো প্রাসাদ বা বিহারের অংশ হতে পারে বলে ধারণা করছে প্রতœতত্ব অধিদপ্তর। প্রতœতাত্বিক অনুসন্ধান সূত্রে জানা যায়, খননকালে প্রথমে মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশসহ একাধিক মাটির স্তর অপসারণের পর বেরিয়ে আসে বড় বড় ইট দিয়ে নির্মিত একটি ছয় ফুট চওড়া প্রাচীন দেয়ালের অংশ। এটি সম্ভবত কোনো স্থাপনার কর্নার বা প্রধান অংশের অংশবিশেষ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই নিদর্শনগুলো কুমিল্লারই ঐতিহাসিক লালমাই-ময়নামতি অঞ্চলের শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, ইটাখোলা ও রূপবান মুড়ার মতোই সমসাময়িক—যা প্রায় হাজার বছর পুরোনো। এই খবরে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিদিন উৎসুক মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন প্রতœস্থলটি ঘুরে দেখার জন্য। প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল বর্তমানে স্থানটিতে অনুসন্ধান ও নিদর্শন উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনেরা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, এই আবিষ্কার ধর্মপুর গ্রামের ইতিহাসে গৌরবময় অধ্যায় সংযোজন করবে এবং ভবিষ্যতে এটিকে একটি ঐতিহাসিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে তোলা সম্ভব হবে। চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলের প্রতœতত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের গবেষণা সহকারী মো. ওমর ফারুক জানান, এপ্রিল মাসের শুরু থেকে শুরু হওয়া এই খনন কাজ চলবে আগামী জুন মাস পর্যন্ত। তিনি আরও জানান, স্থানীয়ভাবে “চারাবাড়ি” নামে পরিচিত এ স্থানে প্রচুর পরিমাণে চারা বা মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ থাকায় এমন নামকরণ হয়েছে। প্রতœতাত্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় বালাগাজীর মুড়াকে ১৯৪৫ সালেই সংরক্ষিত প্রতœতাত্বিক স্থান হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এটি শিমলা গেজেটে প্রকাশিত হয়। এরপর দীর্ঘ সময় অবহেলায় থাকলেও, চলতি বছরের অনুসন্ধান নতুন করে গুরুত্ব ফিরিয়ে এনেছে স্থানটিকে। প্রতœতাত্বিক অনুসন্ধান এখনো চলমান, চূড়ান্ত বিশ্লেষণের পরই মিলবে আবিষ্কৃত নিদর্শনের প্রকৃত বয়স ও ইতিহাস।