আইনি জটিলতায় বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া থানায় খোলা আকাশের নিচে নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার গাড়ী

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Spread the love

কুমিল্লা জেলার ভারতীয় সীমান্তবর্তী দুটি উপজেলা বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন সময় মাদক বহনকারী গাড়ী জব্দ করা হয়। কখনো বিজিবি আবার কখনো থানা পুলিশ এবং উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে বিভিন্ন গাড়ী জব্ধ করা হয়। মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত গাড়ীগুলো থানায় রাখা হয়। দীর্ঘ দিন ধরে বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া থানায় বিভিন্ন মামলায় জব্দ হওয়া কোটি কোটি টাকার গাড়ী খোলা আকাশের নিচে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে নষ্ট হচ্ছে। জব্দকৃত এসব গাড়ির মধ্যে রয়েছে পিকআপ, পিকআপ ভ্যান, প্রাইভেটকার, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ আরও ছোট বড় যানবাহন। আইনি জটিলতার কারণে বা নিলাম না হওয়ার কারণে থানার আশপাশে পড়ে থাকা এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে গাড়ির ডেকোরেশন। মামলা শেষ হতে আর গাড়ীর অস্তিত্ব ঠিক থাকে না। তাই অনেক মালিকের গাড়ি ফেরত নিতে আগ্রহ থাকে না। সরেজমিনে দেখা গেছে, বুড়িচং- ব্রাহ্মণপাড়া থানায় জব্দকৃত এসব গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেলের সংখ্যাই বেশি। জব্দকৃত এসব গাড়ি রাখার নির্দিষ্ট জায়গা না থাকায় ব্রাহ্মণপাড়া থানা ভবনের সামনের পূর্ব দিক এবং বুড়িচং থানা ভবনের পশ্চিম দিক জরাজীর্ণ নষ্ট গাড়ীর স্তুপে পরিণত হয়েছে। এতে থানার আশপাশের অনেক জায়গা দখল হয়ে আছে। অযতেœ ও অবহেলায় পড়ে থাকা এসব গায়ির মধ্যে বেশিরভাগ গাড়িই মরচে ধরে ভেঙে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে দেশের সম্পদ। জানা যায়, মূলত মাদক বহনকারী গাড়ি, বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত গাড়ি, চোরাই গাড়ি, নিবন্ধনহীন গাড়ি আইনশৃখলা বাহিনী আটক করে থাকে। তবে এসব গাড়ির মধ্যে বেশিরভাগই মাদক ও চোরাচালান বহনে ব্যবহার করার জন্য জব্দ করা হয়েছে। তবে মামলা নিষ্পত্তি হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কোনো কোনো মামলা নিষ্পত্তি হতে ১০ থেকে ১২ বছর, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি সময় লাগে। এরইমধ্যে গাড়ি অব্যবহৃত থাকার কারণে বেশির ভাগ গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এসব গাড়ির যন্ত্রাংশ যেন চুরি হয়ে না যায় সেজন্য থানা পুলিশের বাড়তি নজরদারির প্রয়োজন হয়। কেননা গাড়ির যন্ত্রাংশ চুরি বা খোয়া গেলে এ দায়ভার পুলিশের ওপরই পড়ে। যার ফলে জব্দ করা এসব গাড়ি থানার জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, থানায় রাখা গাড়িগুলো বিভিন্ন মামলার আলামত। এসব মামলার চার্জসিট করা হয়েছে। এগুলো আদালতের সম্পত্তি হিসেবে থানায় রাখা হচ্ছে। এগুলো বিজ্ঞ আদালত থেকে নিষ্পত্তি হবে। বুড়িচং থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, যেই গাড়ীগুলোর মামলা বিচারাধীন রয়েছে, সেগুলোর বিচার কার্যক্রম শেষে বিজ্ঞ আদালতের আদেক্রমে মালিকদেরকে ফেরত দেওয়া হবে এবং যেগুলো নিলামযোগ্য সেগুলোর নিলামের জন্য বিজ্ঞ আদালতে আবেদন প্রেরণ করা হচ্ছে।

  • বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া