“অরক্ষিত রেলক্রসিং ও অদক্ষ চালক” বুড়িচংয়ে ট্রেনের ধাক্কায় ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক ও অন্তঃসত্বা নারীসহ নিহত-৭

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২ years ago
{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

Spread the love

চট্টগ্রাম-সিলেট রেল সড়কের বিভিন্ন স্থানে অরক্ষিত রেলক্রসিং এর কারণে অহরহ দূর্ঘটনা ঘটছে। দূর্ঘটনা ঘটার পর রেল কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের টনক নড়ে উঠে। কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলার সদর রসুলপুর রেলস্টেশন থেকে রাজাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত তিন স্থানে অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে। বুড়িচং-কালীকাপুর সড়কের মধ্যে বাকশীমূল-কালীকাপুর সীমান্ত এলাকা, রাজাপুর-পাইকোটা সীমান্ত এলাকায় এবং রাজাপুর-শংকুচাইল সীমান্ত এলাকা, রাজাপুর রেলস্টেশন থেকে কয়েক গজ উত্তরে রাজাপুর-শংকুচাইল সীমান্ত এলাকা রেলক্রসিং দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ মোটর চালিত অটোরিক্সা, ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সার মাধ্যমে যাতায়াত করে থাকে। গত বছর সড়ক দিয়ে শংকুচাইল এলাকা থেকে মোরগের গাড়ী নিয়ে বুড়িচং আসার পথে রেলক্রসিং এলাকায় গাড়ীটি উল্টে গিয়ে ফারুক নামের একজন লোক মারা গিয়েছে। এখানে রেল সড়কটি অনেক উঁচু থাকায় অন্যান্য যানবাহন খুব ঝুঁকি নিয়ে রেলক্রসিংটি পারাপার হয়। এখানে কোন রেল গেইট না থাকায় রেলক্রসিংটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অপর দিকে রাজাপুর রেলস্টেশনের কয়েকগজ দক্ষিনে রয়েছে রাজাপুর-পাইকোটা রেলক্রসিং। এই সড়কটি দিয়ে জনগণের চলাচল থেকে বেশি চোরাই মালামাল পাচার করা হয়। বিশেষ করে চিনি ও কসমেটিক্স সামগ্রী। এই রেলক্রসিংটি রেলগেইট না থাকায় চোরাকারবারীরা নিরাপদ মনে করে রাতের আধাঁরে অবৈধ মালামাল পাচার করে। এতে বড় ধরনের দূর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে। তা ছাড়া সবচেয়ে বেশি জন চলাচলের সড়ক বুড়িচং কালিকাপুর। এই সড়ক দিয়ে উপজেলা সদরের সাথে রেললাইনের পূর্বাঞ্চলের মানুষ বেশি চলাচল করে থাকে। প্রতিদিনই কয়েকশত মোটরচালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা এবং মোটর সাইকেল চলাচল করে। যার বেশিরভাগ চালকই প্রশিক্ষণবিহীন এবং অদক্ষ। যার ফলে প্রতিনিয়তই দূর্ঘটনা ঘটছে। তবে সবচেয়ে ভয়াবহ দূর্ঘটনা ঘটেছে গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫মিনিটে। মুর্হুতের মধ্যেই ব্যাটারীচালিত অটোরিক্সার চালক ও যাত্রীসহ ৭জন ট্রেনের ধাক্কায় নিহত হয়েছে। সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কালিকাপুর-বাকশীমূল রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন বুড়িচং থানার ওসি আজিজুল হক। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- বুড়িচং উপজেলার বাকশিমূল গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে আলী আহমদ, মৃত.তৈয়ব আলীর ছেলে( চালক) সাজু মিয়া(৪০), মৃত: আব্দুল মালেকের স্ত্রী লুৎফা বেগম(৬৫), মনিরের স্ত্রী ৮ মাসের গর্ভবতী শাইনুর আক্তার সানু (২৬), আলী আশরাফের স্ত্রী সফর জান বেগম ও খোদাইধূলি গ্রামের মৃতঃ আছমত আলীর ছেলে রফেজ মিয়া(৫৫), মৃত: বজলু মিয়ার স্ত্রী হোসনে আরা বেগম (৬০), তার ১২ বছরের নাতী সাইফুল ইসলাম শুক্কুর নিখোঁজ রয়েছে। স্থানীয়দের কাছ থেকে অটোরিকশা চালক সাজু মিয়া একজন মিস্ত্রি ছিলেন। তবে কয়েক বছর আগে কিস্তিতে টাকা উত্তোলনের পর তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন। মঙ্গলবার সকালে বাকশীমূল চৌমুহনী থেকে ৮ জন যাত্রী নিয়ে কালিকাপুর যাওয়ার পথে রেলক্রসিংয়ে পৌঁছলে সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সাথে ঘটনাটি ঘটে।ওসি আজিজুল হক জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকার রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যাত্রীবাহী অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয় চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেন। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও তিন যাত্রীর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা আরো জানায়,হোসনে আরা বেগম মেয়ে ও জামাতা মারা যাওয়ার পর এক নাতীন ও এক নাতীকে খোদাইধূলি আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে লালন -পালন করে নাতীনকে আদর্শ সদরের মাঝিগাছা বিয়ে দেন। ওই দিন সকালে অটোরিকশা করে নাতী সাইফুল ইসলাম শুক্কুরকে সাথে নিয়ে নাতীনের বাড়িতে যাচ্ছিল এমন সময় ট্রেনে কাটা পড়ে নানী মারা যায়। উক্ত ট্রেনে কাটা পড়ে ও ধাক্কায় কয়েকজনের শরীর ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ঘটনাস্থলে দেখা গেছে নিহত সফরজান বেগমের শরীরের ছিন্নবিচ্ছিন্ন অংশটুকু খোঁজেও বের করছেন তার মেয়ে। দুর্ঘটনাস্থলে রেলওয়ের কোনো বৈধ লেভেল ক্রসিং নেই বলে জানান লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি এমরান হোসেন। তিনি বলেন, ‘যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই লেভেল ক্রসিংটি অবৈধ। ট্রেন আসার বিষয়টি বুঝতে না পেরে হঠাৎ রেললাইনে উঠে পড়েন অটোরিকশাচালক। এতে করে ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশাটি টুকরো টুকরো হয়ে যায়। আমরা ঘটনাস্থলে একজনের মরদেহ পেয়েছি। বাকিদের মরদেহ স্বজনেরা নিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এসময় সময় রেল কর্মকর্তারা রেল ক্রসিংটি অবৈধ ঘোষণা দিয়ে একটি ব্যানার লাগাতে গেলে স্থানীয়রা জনতা ও ছাত্ররা ওই রেল কর্মকর্তাকে সড়কে অবরোদ্ধ করে রাখে এবং রেলক্রসিংয়ে সিগন্যাল সহ নিরাপথে যাত্রী ও গাড়ী চলাচলের ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন ছাত্র-জনতা। ঘটনার স্থলে গিয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহিদা আক্তার ও সেনাবাহিনীর একটি দল উক্ত ঘটনার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্থানীয়রা দাবি জানায়, দ্রæত রসুলপুর থেকে রাজাপুর রেলস্টেশন পর্যন্ত যে তিনটি অরক্ষিত রেলক্রসিং রয়েছে এতে রেলগেইট স্থাপন করে পাহাড়াদার নিয়োগ দেওয়ার। অপর দিকে দূর্ঘটনার পরপরই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আমিরুল কায়ছার স্বাক্ষরিত ৭সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির আহবায়ক হলেন-অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সৈয়দ শামসুল তাবরীজ, সদস্য বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সূপার সদর সার্কেল মারুফা নাজনীন, বুড়িচং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মীর হোসেন মিঠু,বাংলাদেশ রেলওয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রকৌশলী আবু রাফি মোহাম্মদ ইমতিয়াজ হোছাইন, বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ অক্ষর ও বুড়িচং ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন অফিসার আতাউর রহমান। উক্ত তদন্ত কমিটি গত ২৮ নভেম্বর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। দুর্ঘটনা লাঘব করার জন্য দ্রæত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করেন তারা।

  • বুড়িচং