কুমিল্লা জেলার বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোর গ্যাংয়ের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। উঠতি বয়সি ছেলেরা স্কুল কলেজের মাঠে কিংবা গেইটে সংঘবদ্ধভাবে আড্ডা দেয়। এই আড্ডা থেকেই বিভিন্ন অপরাধের পরিকল্পণা করে থাকে। ইভটিজিং, মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন গ্যাংয়ের মধ্যে মারামারির ঘটনা অহরহ ঘটছে। বিগত কয়েক বছর পূর্বে বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের শংকুচাইল এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ১০ম শ্রেণীর ছাত্র নিহত হয়েছে। বিশেষ করে বাজার এরিয়াতে কয়েকটি গ্যাং রয়েছে। তারা বসুন্ধরা চত্বর, আরাগ রোড, বুড়িচং বাইপাস সড়ক, আর্দশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা, কলেজ গেইট, ভরাসার বাজার, কালিকাপুর বাজার, শংকুচাইল বাজার, নিমসার বাজার, কংশনগর বাজার, ভারেল্লা মাদরাসা সংলগ্ন এলাকা, সাহেব বাজার, রানীর বাংলা এলাকায় বিচরণ করে থাকে। এরা মাদক সেবন থেকে শুরু করে খুন, জখম, চুরি ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত। ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সদর, সাহেবাবাদ ডিগ্রী কলেজ এলাকা, বড়ধুশিয়া, চান্দলা, গোপালনগর, দুলালপুর, সিদলাই এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত বৃদ্ধি পেয়েছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে আতংকে তাদেরকে কিছু বলতে পারে না। সম্প্রতি কুমিল্লা ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কিশোর গ্যাং কালচার ও কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) স ম আজহারুল ইসলাম। গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি কিশোর অপরাধকে গুরুত্ব দিয়ে বিচার করার জন্য সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের প্রতি আহবান জানান। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মানুষের মনস্তত্ব অঞ্চলগত ভাবে আলাদা, অপরাধ ও অপরাধীর মননও আলাদা। বাংলাদেশ তথা এই অঞ্চলে কৈশোর অবস্থা থেকেই নিষিদ্ধ কাজ বা অপরাধের প্রতি ঝোক অনেক বেশিই। যার কারণেই কিশোর গ্যাং কালচার টা এতো এলার্মিং এ সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ক্ষেত্রে তাই শিক্ষক তথা নিয়ন্ত্রকারী যে কর্তৃপক্ষ রয়েছে প্রয়োজন বোধে আইনের মধ্য থেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা তাই প্রদর্শন করা উচিত অপরাধ দমনে। পত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষণ করলে গত ১০-১৫ বছরে কিশোরদের মাধ্যমে ভয়ঙ্কর সব অপরাধের সন্ধান পাবেন। আবরার ফাহাদ কে কিন্তু তার ক্লাসমেট হলমেটরাই নৃশংস ভাবে হত্যা করেছিল পিটিয়ে। যারা মেরেছিল তারা সে পর্যন্ত একদিনে নিশ্চয়ই পৌঁছে নি, কিশোর বয়সে করা অপরাধকে তাই সব সময় ইগ্নোর করার সুযোগ নেই। শাস্তি না হলে এক ধরণের আশকারা বা সুযোগ থেকে যায় আবার ঘটানোর কিংবা অন্য কারো তা ঘটানোর। এজন্য নিয়মের মধ্যে থেকে প্রতিটা প্রতিষ্ঠান প্রধানের নির্মোহ ও সততার সাথে শৃঙ্খলা রক্ষায় দৃঢ় হওয়া উচিত। চান্দলা করিম বক্স হাই স্কুল এন্ড কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষক মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, আগের চেয়ে শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পড়ানো অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিং করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সমন্বয়ে প্রতিদিন কোনো না কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষে অপরাধী ধরার জন্য সদা তৎপর থাকলে আসলে পড়াবোটা কখন? মাঝে মাঝে নিজেদের অসহায় লাগে আবার কখনো কখনো নিজেদের পুলিশ মনে হয়। আসলে তো আমরা শ্রেণিকক্ষে শিক্ষা দিতে চাই, কিন্তু আজকাল আমাদের অপরাধী ধরতেও ব্যস্ত থাকতে হয়। এ থেকে উত্তরণ জরুরি। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষাক্ষেত্রে সুফল পাওয়া দুষ্কর। এই বিষয়ে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাহিদা আক্তার বলেন, অভিভাবকদের প্রথম সচেতন হতে হবে। তারপর ধর্মীয় ও সামাজিক শিক্ষার গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ধর্মীয় শিক্ষা যথাযথ ভাবে দিতে পারলে কেউ আর কিশোর অপরাধে জড়াবে না। আমি সব প্রতিষ্ঠানের প্রধানদেরকে নির্দেশ দিয়েছি সকল ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পারেন, তাহলে কিশোর অপরাধ অনেকটা কমে যাবে।