“স্বাস্থ্যবিধি না মানার অভিযোগ” বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়ায় হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

লেখক: Sohel Islam
প্রকাশ: ২ সপ্তাহ আগে

Spread the love

কুমিল্লার বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অপরিচ্ছন্ন রান্নাঘর, নোংরা পরিবেশ, খোলা জায়গায় খাবার রাখা, অপরিষ্কার পানি ব্যবহার এবং খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সতর্কতা না থাকায় বাড়ছে জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি। প্রতিদিন এসব হোটেল-রেস্তোরাঁয় স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ খাবার গ্রহণ করলেও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে নিয়মিত নজরদারি কতটা কার্যকর-এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সরেজমিনে বুড়িচং উপজেলার শংকুচাইল, ফকিরবাজার, বুড়িচং সদর, সাবের বাজার, দেবপুর, কংশনগর, নানুয়ার বাজার, খাড়াতাইয়া নতুন বাজার, নিমসার বাজার এবং ব্রাহ্মনপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ, বারেশ্বর চৌমহনী, ব্রাহ্মণপাড়া সদর, চান্দলা, বড়ধুশিয়া, ধান্যদৌল, শশীদল, মাধবপুর, বাগড়া বাজারের বিভিন্ন হোটেল-রেস্তোরাঁ ঘুরে দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানের রান্নাঘর ও খাবার তৈরির স্থান অপরিষ্কার। রান্নার বিভিন্ন উপকরণ ও প্রস্তুত খাবার অনেক ক্ষেত্রে খোলা অবস্থায় রাখা হচ্ছে। খাবারের ওপর মাছি বসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ব্যবহৃত বাসনপত্র যথাযথভাবে পরিষ্কার না করেই খাবার পরিবেশনের অভিযোগও রয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশন করতে দেখা যায়নি। খাবার প্রস্তুতের সময় পরিষ্কার পোশাক, মাথা ঢাকার ব্যবস্থা কিংবা হাত পরিষ্কার রাখার মতো মৌলিক বিষয়েও রয়েছে উদাসীনতা। কোথাও কোথাও রান্নাঘরের পাশেই ময়লা-আবর্জনা জমিয়ে রাখায় দুর্গন্ধ ও জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যস্ত বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে থাকা হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ খাবার গ্রহণ করেন। এসব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করা না হলে খাদ্যবাহিত বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের জন্য অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পরিবেশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাছাড়া বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ছোট-বড় অসংখ্য হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো কোনটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলেও অনেক প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধির চিত্র সন্তোষজনক নয়। খাবারের মান, রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপদ পানি এবং খাদ্য সংরক্ষণের বিষয়গুলোতে নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা। এদিকে, মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অভিযান পরিচালিত হলেও অভিযান শেষে অনেক প্রতিষ্ঠানে আবারও আগের চিত্র ফিরে আসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরিমানা নয়, নিয়মিত মনিটরিংয়ের পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে হোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক ও কর্মচারীদের সচেতন করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। সচেতন মহলের মতে, মানুষের খাদ্য ও স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়টি কোনোভাবেই অবহেলার চোখে দেখার সুযোগ নেই। একটি হোটেল বা রেস্তোরাঁয় খাবারের স্বাদ ও দাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি খাবার কতটা নিরাপদ এবং কোন পরিবেশে তা প্রস্তুত করা হচ্ছে-সেটিও নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ার প্রতিটি বাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে হোটেল-রেস্তোরাঁ পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এখনই কার্যকর নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার গ্রহণের প্রবণতা জনস্বাস্থ্যের জন্য আরও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।