কুমিল্লা-মীরপুর সড়কের প্রতিদিন মাত্র ৭/৮টি বাস চলাচল করে। কিন্তু এই সড়কের রাজার হালে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা। প্রতিদিন এ সড়কে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারী চালিত রিক্সা চলাচল করছে। অল্প যাত্রী নিয়ে দ্রæত আসা-যাওয়ার করার ফলে সময় বাঁচাতে গিয়ে এই অটোরিক্সাগুলোর চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কুমিল্লা শহর থেকে বুড়িচং উপজেলা ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার দূরত্ব কম হওয়ায় বিভিন্ন সরকারী অফিসের কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীরা কুমিল্লা শহরে পরিবার পরিজন নিয়ে বাসা-বাড়িতে অবস্থান করেন। তাছাড়া বিভিন্ন স্কুল,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই উপজেলার অনেক ছেলে মেয়ে পড়া লেখা করে। তারা প্রতিদিনই তাদের প্রয়োজনীয় কাজে বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়ায় আসা-যাওয়া করে থাকে। এই সুযোগ সিএনজি চালিত অটোরিক্সা ও ব্যাটারি চালিত অটোরিক্সার চালকরা বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে থাকে। এই সড়কের বাড়ার নৈরাজ্য নিয়ে কেউ কোন ধরনের প্রদক্ষেপ গ্রহন করেছে না। বিশেষ করে দুই উপজেলার স্থানীয় প্রশাসন ভাড়ার বিষয়টি সঠিক ভাবে মনিটরিং করছে না বলে দাবী করছে সচেতন মহল। সিএনজি চালিত অটোরিক্সার স্ট্যান্ডগুলোতে বিভিন্ন সড়কের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা লাগানো থাকলেও কেউ মানছে না সেই তালিকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ের নির্দেশনা। ভুক্তভোগী যাত্রী আহাদ মিয়া (শ্রমিক) জানান, পেটের তাগিদে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা থেকে প্রতিদিন সে জেলা সদরে যাতায়াত করে। আমাদেও মতো সাধারণ শ্রমিক জীবিকার সন্ধানে জেলা শহরের উপর নির্ভরশীল। প্রতিদিন সকাল, সন্ধ্যা ও রাতে শত শত মানুষের যাতায়াতের নির্ভরযোগ্য বাহন হচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিক্সা। এই সুযোগে কিছু সিএনজি চালিত অটোরিক্সার চালক নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে নিজের ইচ্ছে মতো ভাড়া আদায় করে। এতে কেউ প্রতিবাদ করলে চালকদের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়। কিন্ত কারো কাছে বিচার চাওয়ার সুযোগ থাকে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, অধিকাংশ লাইসেন্স বিহীন সিএনজি (অটোরিক্সা) চালক রয়েছে। যাদেও কোন প্রকার ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। নেই যানবাহন চালানোর মতো অভিজ্ঞতা। এমন অদক্ষ ড্রাইভার বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালনার কারণে সড়কে প্রতিনিয়তই ঘটছে দূর্ঘটনা। যাত্রীদের সাথে আশালীন ব্যবহার করে আদায় করছে অতিরিক্ত ভাড়া। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়,কুমিল্লা মীরপুর সড়কে আকাশ মেঘলা হলে ভাড়া বৃদ্ধি পায়,বৃষ্টি পড়লে ভাড়া বৃদ্ধি পায়,স্ট্যান্ডে গাড়ী কম থাকলে ভাড়া বৃদ্ধি পায়,যাত্রী কম থাকলে বাড়া বৃদ্ধি পায়, যাত্রী বেশি থাকলেও বাড়া বৃদ্ধি পায়,মাগরিবের আজানের পর হুরহুর করে ভাড়া বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। বৃহস্পতিবার ও শনিবার ভাড়া বৃদ্ধি পায় এবং জেলা শহরে কোন পরীক্ষা থাকলে বাড়া বৃদ্ধি পায়, জাতীয় কোন সমস্যা কিংবা উৎসব দেখলে ভাড়া বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও আরো বহু ধরনের অজুহাতে ভাড়া বৃদ্ধিও নজির দেখতে পাওয়া যায়। কুমিল্লা শাসনগাছা থেকে বুড়িচং এর নির্ধারিত ভাড়া ৩০ টাকা থাকলেও সকাল নেই সন্ধ্যা নেই যেই কোন সময় যেই কোন অজুহাতে ৪০/৫০ টাকা ভাড়ায় আদায় করে থাকে। শাসনগাছা থেকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের ভাড়া ৫০টাকা নির্ধারিত থাকলেও বেশির ভাগ সময় ৬০/৮০ ও ১০০ টাকা ভাড়া আদায় করা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিএনজি অটোরিক্সা চালক জানান, কিছু ড্রাইভার বাড়তি ভাড়া নিচ্ছে ঠিকই। তবে আমরা কি করবো। আমরা জিবির নামে প্রতিদিনই হয়রানীর শিকার হচ্ছি। দৈনিক প্রতিটি সিএনজি থেকে মাসিক চুক্তিভিত্তিক টোকেনের টাকা দিতে হচ্ছে। এই সড়কে একটি সিএনজি (অটোরিক্সা) চলাচল করলে ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে জিবির নামে চাঁদা দিতে হয়। আমরা সারাদিন পরিশ্রম করে গ্যাস নিয়ে এবং মালিকের জমা দিয়ে ও জিবির চাঁদা প্রদান করে কোন কোন সময় খালি পকেটেও বাড়ি ফিরতে হয়। এই ব্যাপারে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী আবদুল হান্নান বলেন, বাড়তি ভাড়া নেওয়া ঠিক নয়,তবে মাঝেমধ্যে গাড়ির সংকট এবং গ্যাসের সংকটের কারণে বাড়তি ভাড়া নেয় একশ্রেণীর চালকরা।