সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসবগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এই উৎসবকে ঘিরে শেষ পর্যায়ের ব্যস্ততায় সময় পার করছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। পূজামন্ডপ, প্রতিমা তৈরি ও প্রতিমার সাজসজ্জায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পূজার সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা যেন আরও বাড়ছে তাদের। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে উপজেলার পূজামন্ডপগুলোতে চলছে পূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। প্রতিমা সাজানোর পাশাপাশি পূজামন্ডপ তৈরির কাজে ব্যস্ত সংশ্লিষ্টরা। নান্দনিক আলোকসজ্জা আর আকর্ষণীয় ফটক মন্ডপগুলোর সৌন্দর্য্য বাড়িয়েছে কয়েক গুণ। সাজ-সজ্জায় বৈচিত্র্য আনতে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিযোগিতা। প্রতিমা ও মন্ডপ নির্মাণসহ সকল আয়োজন গুছিয়ে আনায় ব্যস্ত আয়োজকরা। এ নিয়ে ওই উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। এ বছর উপজেলার ২০টি পূজামন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজা। মন্ডপগুলো হলো- মকিপুর পূর্বপাড়া শারদীয় দূর্গাপূজা মন্ডপ, উ: চান্দলা আদি শিব মন্দির পূজামন্ডপ, উ: চান্দলা বাংলাদেশ সেবা আশ্রম পূজামন্ডপ, পরিমল পালের বাড়ী পূজামন্ডপ, শশদিল সূত্রধর বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, শশীদল সুনিল চন্দ্র শীলের বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নন্দীপাড়া কার্তিক ভৌমিকের ঝড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নন্দীপাড়া সূত্রধর বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, সাদন সূত্রধর বাড়ী পূজা মন্ডপ, সাহেবাবাদ আছিরাম সাহার বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, শশদিল সূত্রধর বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, শশীদল সুনিল চন্দ্র শীলের বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নন্দীপাড়া কার্তিক ভৌমিকের বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, নন্দীপাড়া সূত্রধর বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, সাদন সূত্রধর বাড়ী পূজা মন্ডপ, সাহেবাবাদ আছিরাম সাহার বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, রামনগর রাধাগোবিন্দ মন্দির দুর্গা পূজা মন্ডপ, বিষ্ণুপদ সরকার বাড়ী দুর্গা পূজা মন্ডপ, মাধবপুর নিবারণ করের বাড়ী ও মাধবপুর রতন মাস্টার বাড়ি। এদিকে পূজা উদযাপন কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজল সরকার কালবেলাকে বলেন, পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর ঘোড়ায় আসছেন দেবী দুর্গা। ১৪ অক্টোবর মহালয়া উদযাপিত হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে শুরু হয়েছে দেবীপক্ষের প্রতিপদ তিথি। ২০ অক্টোবর মহাষষ্ঠী থেকে দুর্গাপুজা। এ বছর উপজেলার মোট ২০টি মন্ডপে পূজা হবে। এ জন্য মন্দিরগুলোর প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে, কোথাও কোথাও প্রতিমাও স্থাপন করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা পূজা সার্থক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন দাবি করেছি। প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদেরকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। ব্রাহ্মণপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল এ প্রতিনিধকে বলেন, আমি ইতোমধ্যে সবগুলো পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছি। শারদীয় দুর্গাপূজায় প্রতিবছরের মতো এবারও পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে। প্রতিটি মন্ডপে আনসার সদস্যরা ডিউটিতে থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ডপে পুলিশ থাকবে। এ ছাড়া পুলিশের মোবাইল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করবে। তিনি আরও বলেন, উপজেলার প্রতিটি মন্ডপে নামাজের সময়সূচি টাঙানোর জন্য বলা হয়েছে। নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র, মাইক বা সাউন্ড বক্স বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।