ব্রাহ্মণপাড়ায় নিজ সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণে বাঁধা, মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ৭ মাস আগে

Spread the love

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ার ষাইটশালা গ্রামে নিজ সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণে বাঁধা, মিথ্যা মামলায় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবার গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিষয়টি আমলে নিয়ে মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ১৩ নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে অফিসার ইনচার্জ ব্রাহ্মণপাড়া থানায় দুইজনের নাম উল্লেখ করে সাধারণ ডায়েরী করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের ষাইটশালা এলাকায় ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির স্থানীয় ভাবে প্রতিকার চেয়ে বার বার বসার কথা বললে মোঃ সারফিন মিয়া ও তার স্ত্রী মোসাঃ নিলুফা আক্তার বসতে নারাজ। তাদেরকে একাধিকবার নোটিশ করে ডাকানো হলেও তারা সারা দেন নি। ভুক্তভোগী ষাইটশালা এলাকার মৃত জাহের মিয়ার ছেলে হুমায়ুন কবির, মোঃ সাইফুল ইসলাম ও নাজমুল হাসানের নামে অযথা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন এবং স্থাপনা নির্মাণে বাঁধা প্রদান করেছেন। গত ১৮ জানুয়ারি সকালে হুমায়ুন কবির ও তার সহযোগীরা নিজের সম্পত্তিতে ঘর নির্মাণ করতে গেলে সারফিন মিয়া ও তার স্ত্রী মোসাঃ নিলুফা আক্তার বিভিন্নভাবে তাদের কাজে বাঁধা সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তারা অভিযোগ করেন বিভিন্ন সময়ে আমাদের বাড়িতে ঢিল ছুড়ে মারেন, ময়লা-আবর্জনা এনে আমাদের সীমানায় ফেলেন এমনকি আমার সীমানা ঘেঁষে গরুর গোবর(মল) খোলামেলা রেখে পরিবেশ দূষণসহ আমাদের দুর্বিষহ করে তুলেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবার আরও জানান, এ বিষয়ে এর আগে একাধিক বার স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে বসার কথা থাকলেও তারা বসতে রাজি হয়নি। তারপরেও আমি আমার প্রতিবেশীর বাড়ির সীমানা এবং আমার সীমানার মাঝে পূর্ব-উত্তরমুখী আমাদের সম্পত্তি থেকে প্রায় সাড়ে ৪ ফিট জায়গা রেখে আমার সীমানার ভেতরে স্থাপনার কাজ করছি। তাতেও তারা বাঁধা প্রদান করেন। ঘর নির্মাণে আসা কাজের লোক ও হুমায়ুন কবিরের স্ত্রীসহ বাড়ির অন্যান্য মহিলাদের গায়ে হাত তুলেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে হুমায়ুন কবির গং ও সারফিন মিয়া ও তার স্ত্রী মোসাঃ নিলুফা আক্তারদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশ এবং ইউপি চেয়ারম্যানসহ ইউপি সদস্যরা অবগত আছেন। এমতাবস্থায় আমি জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, আমার নিজ জমির কাগজপত্র দেখে আমার বিষয়টি সমাধান করে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ দেন। দুইজনের কাগজপত্র দেখে যদি আমার ভেতরে জায়গা তারা পান তাহলে আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে তাদের জায়গা ফিরিয়ে দিবো, আর আমি যদি তাদের জায়গা পাই তাহলে আমার জায়গা তারা যেন ফিরিয়ে দেয়। আমি সবসময় সমাধান করতে প্রস্তুত আছি।
মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। এ ব্যাপারে একাধিক বার ইউনিয়ন পরিষদে ভুক্তভোগী হুমায়ুন কবির জমির সীমানা নির্ধারণের জন্য আবেদন করেছেন। একাধিক বার নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সারফিন আসে নি। সারফিন মিয়া ও তার স্ত্রী মোসাঃ নিলুফা আক্তারের মুঠোফোনে একাধিক বার কল করেও কোন বক্তব্য নেওয়ার সম্ভব হয় নি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক সৈকত মজুমদার বলেন, মোঃ সরফন সরকার বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। কোন রকম তদন্ত ছাড়া হুমায়ুন কবিরকে কিভাবে গ্রেফতার করলেন এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। বিষয়টি মিমাংসা করে দিবে বলে থানায় ডেকে এনে গ্রেফতার দেখানো হয়। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন হুমায়ুন কবির মামলার আসামী তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এবিষয়ে জানতে চাইলে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি তদন্ত টমাস বড়ুয়া বলেন, মোঃ সরফন সরকার বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারভূক্ত আসামি হুমায়ুন কবিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এজাহারে থাকা আরিফুল ইসলাম ঘটনা দিন কক্সবাজার ছিলেন, সে কিভাবে এই মামলার আসামী হয়, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, তদন্ত করে সত্য মিথ্যা বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপন করা হবে। কেউ যদি ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকে তাহলে তাদেরকে মামলায় জড়িত করা হবে না।

  • ব্রাহ্মণপাড়া